আসিফ সৈকত >> আজ পর্দা উঠছে কান চলচ্চিত্র উৎসবের >> চলচ্চিত্র

0
147

ফেস্টিভ্যাল দ্যু কান বা কান ফেস্টিভাল বা কান চলচ্চিত্র উৎসব সাধারণত প্রতিবছর মে মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এবার এটা জুলাই মাসের ৬ থেকে ১৭ তারিখ ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আজ থেকে যার শুরু। সুসংবাদ হচ্ছে বাংলাদেশও উপস্থিত আছে এই উৎসবে। চোখ রাখুন কানের দিকে। আয়োজন থাকছে আমাদেরও। চোখ রাখুন তীরন্দাজেও।

কান-কথা

স্কুলে আমরা সবাই পড়েছি, একটা কবিতা, ‘কান নিয়ে গেছে চিলে’। ‘কানে যাচ্ছেন সাদ’, চলচ্চিত্র নিয়ে যারা তেমন খবর রাখেন না, যারা মনে করেন বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যারা সিনেমা বানায়, যাকে বলে ‘ছবি’ বা ‘বই’, তাদের জন্য কথাগুলো বিভ্রান্তিকর। ভেনিস বা বার্লিন উৎসবের ক্ষেত্রে এভাবে বলার সুযোগ নেই। বাংলা ভাষায় এই ‘কান’ শব্দটার আলাদা প্রচলিত অর্থ থাকার কারণে শিরোনামগুলোও মজা করে দেয়া যায়। ‘কান নিয়ে কানাকানি’ বা ‘কানে দুর্নীতি ঢুকে গেছে’ বা ‘কানের সিনেমা’ – এর সবই কোনো না কোনো ভাবপ্রকাশ করে, যদি-না কান চলচ্চিত্র উৎসবকে মাথায় রেখে কেউ কিছু বলে বা কাউকে বলে।

কান ও সত্যজিৎ

১৯৮২ সালে কান উৎসবে সত্যজিৎ

পাম দো’র পুরস্কারটা চলচ্চিত্রজগতের সব চেয়ে বেশি সম্মানজনক ও কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার। ১৮ ক্যারেটের হলুদ স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। এর নকশাটা নারকেল পাতার মতো। কান শহরের কমিউন অফ কান-এর কোর্ট অফ আর্ম-এ এই পাতাটা আছে। তার সাথে মিল রেখে প্যারির এক স্বর্ণকারের সাথে মিলে কবি জ্যঁ ককতো পাম দো’’র নকশাটা করেছিলেন। এ বছর শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা আবার  স্মরণ করছি সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী নিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ সম্পর্কে। বাঙালির গর্বের ইতিহাস সেটা। ১৯৫৪ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দো বিঘা জামিন’, যে-গল্পটা রবীন্দ্রনাথের এবং পরিচালক বিমল রায়, সেটাও কানে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিল। তারপরের বছর পায় পথের পাঁচালী। এর সবই বাংলা চলচ্চিত্রের কান সম্পর্কিত ইতিহাস।

সত্যজিৎপুত্র সন্দীপ রায় কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ’পথের পাঁচালী’ যখন কান-এ যায় তখন সেখানে লিন্ডসে অ্যান্ডারসন, মারি সিটনও ছিলেন। ছবিটা দেখে সকলের খুবই ভালো লেগেছিলো। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো। পরে ‘চারুলতা’কে নট আপটু দ্য মার্ক দাগিয়ে দেয় কান। বিরক্ত হয়ে সত্যজিৎ আর পরে কান কিংবা ভেনিসে ছবি পাঠাতেন না। এটা না ঘটলে হয়তো কানে আরো কয়েকটা বাংলা সিনেমা জায়গা করে নিত। সন্দীপ রায় জানিয়েছেন, ‘বাবা অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে, এরকম ছবি কীভাবে নাকচ হয়। কান নিয়ে লেখার সময় এইসব কথাও মাথায় চলে এলো। চলচ্চিত্র জগতেও রাজনীতি আছে। সত্যজিতের সিনেমা দেখার সময় ত্রুফো-গদারের মন্তব্য নিয়েও গল্প আছে।

এবারের কান

যাই হোক, কান চলচ্চিত্র উৎসব আজ থেকে আবার শুরু হচ্ছে। কানের ৭৪তম উৎসব এটি। করোনাকালের মধ্যেই অনেক কড়াকড়ির সাথে উৎসবটি হবে। আর কিছু না হোক প্রদর্শনীগুলো হচ্ছে এবার। আর গত কয়েক বছর কান চলচ্চিত্র উৎসব মানেই ঐশ্বরিয়া বা দীপিকার লালগালিচার হাঁটাহাটির খবর হয়ে যাওয়ায় অনেক পত্রিকার উপরই চলচ্চিত্র সংসদকর্মী এবং সংশ্লিষ্টরা একটু বিরক্তই ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে তুমুল কথা চালাচালিও হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আবারও বিস্তারিত খবরের দিকে ফিরেছে পত্রিকাগুলো, সেটাও স্বস্তির।

ফেস্টিভ্যাল দ্যু কান বা কান ফেস্টিভাল বা কান চলচ্চিত্র উৎসব সাধারণত প্রতিবছর মে মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এবার এটা জুলাই মাসের ৬ থেকে ১৭ তারিখ ধরে অনুষ্ঠিত হবে। আজ থেকে যার শুরু। সুসংবাদ হচ্ছে বাংলাদেশও উপস্থিত আছে এই উৎসবে। চোখ রাখুন কানের দিকে। আয়োজন থাকছে আমাদেরও। চোখ রাখুন তীরন্দাজেও।

সুসংবাদ বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্য এবার অন্যরকম আনন্দের খবর হয়ে এসেছে। সেটা বাংলা চলচ্চিত্রের সরাসরি অংশগ্রহণেরও সুখবর। এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমন্ত্রণ পেয়েছে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ শীর্ষক একটা সিনেমা। আঁ সার্তেইন রেগার্দ অথবা Un Certain Regard বিভাগে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রটি দেখানো হবে। তাই এবার বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আলাদা মাত্রা পেয়েছে। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পর বাংলাদেশের কোনো সিনেমা কানের মর্যাদাপূর্ণ একটি বিভাগে জায়গা করে নিল। এ বছর এই বিভাগে ১৮টি দেশের সিনেমা প্রতিযোগিতা করবে।

সাদের সিনেমাটির গল্পটা একটু বলি। একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষক রেহানা মরিয়ম নূরকে ঘিরে এ-ছবির গল্প, যেখানে রেহানা একজন মা, মেয়ে, বোন ও শিক্ষক হিসেবে জটিল জীবন যাপন করেন। এর মধ্যে এক সন্ধ্যায় কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় রেহানা একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী হন। এরপর থেকে তিনি এক ছাত্রীর পক্ষে সহকর্মী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। একই সময়ে তাঁর ছয় বছরের মেয়ের বিরুদ্ধে স্কুল থেকে রূঢ় আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় অনড় রেহানা তথাকথিত নিয়মের বাইরে থেকে সেই ছাত্রী ও সন্তানের ন্যায়বিচারের জন্য লড়তে থাকেন।

এঁরাই বিচারক থাকবেন সাদের বিভাগের

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিটিতে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, আফিয়া জাহিন জাইমা, কাজী সামি হাসান, আফিয়া তাবাসসুম বর্ণ, ইয়াছির আল হক, সাবেরী আলম প্রমুখ। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রটোকল ও মেট্রো ভিডিও এর হয়ে অর্থায়ন করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া, নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু এবং সহপ্রযোজক রাজীব মহাজন, আদনান হাবিব, সাঈদুল হক খন্দকার ও সেন্সমেকারস প্রোডাকশন। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রাহক তুহিন তমিজুল, শব্দ-সম্পাদনা করেছেন শৈব তালুকদার এবং প্রোডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জ্বল।

কান নিয়ে আরও কথা

১৯৪৬ সাল থেকে নিয়মিত প্রতিবছর কান চলচ্চিত্র উৎসব পালিত হয়ে আসছে। ফ্রান্সের দক্ষিণের শহর কানে প্রতি বছর সাধারণত মে মাসে এই উৎসব হয়। পালে দে ফেস্তিভালস এ দে ক্রোঁগ নামের একটা ভবনে মূল উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কান চলচ্চিত্র উৎসবের জন্যই এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

ইউরোপের শীর্ষ তিনটা চলচ্চিত্র উৎসবের একটা হলো কান। বাকি দুটো হলো ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব এবং জার্মানির বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব। আর এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সেরা পাঁচটা চলচ্চিত্র উৎসবে এই তিনটার সাথে আরো আছে কানাডার টরেন্টো চলচ্চিত্র উৎসব এবং আমেরিকার সানডেনস ফিল্ম ফেস্টিভাল।

কান ফেস্টিভালে প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে যে-চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়, সেগুলো পাম দো’র জন্য মনোনীত হয়। এটাই কানের সর্বোচ্চ পুরস্কার। পুরো ফিল্ম দুনিয়াতেই এটা অন্যতম সেরা পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কী রকম হবে উৎসবটি?

‘ডু দ্য রাইট থিং’ চলচ্চিত্রের মার্কিন পরিচালক স্পাইক লি-র নেতৃত্বে পাঁচজন নারী এবং তিনজন পুরুষ বিচারক – যারা পাঁচটি মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন – ২৪টি চলচ্চিত্র নির্বাচন করেছেন প্রতিযোগিতার জন্য। এর একটা পাম দো পুরস্কারে ভূষিত হবে। পরিচালক মাতি দিয়োপ, সংগীত শিল্পী ও লেখক মাইলিন ফার্মার, অভিনেত্রী পরিচালক ম্যাগী গিলেনহাল, জেসিকা হসনার, মেলানি লারেন্ট, ব্রাজিলের পরিচালক ফিলহো, ফ্রান্সের তাহার রহিম এবং প্যারাসাইটখ্যাত অভিনেতা দক্ষিণ কোরিয়ার সং কাং হো আছেন এই জুরির দলে। জুরিদের এই বৈচিত্রপূর্ণ সমাবেশ কানের বৈশ্বিকতার ইঙ্গিত দেয়।

আসগর ফারহাদি আবার আসছেন তাঁর নতুন চলচ্চিত্র এ হিরো (ফার্সিতে গেহরেমান, যার আক্ষরিক অর্থ হতে পারে চ্যাম্পিয়ন) নিয়ে। চলচ্চিত্রটি ইরানের সিরাজ শহরে দৃশ্যায়িত। তাঁর আগের দুটি চলচ্চিত্র ‘এ সেপারেশন’ এবং ‘দ্য সেলসম্যান’-এর মতো এই সিনেমাও সাড়া ফেলবে এবং পাম দো’র জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে অনুমান করা যায়।

আফ্রিকার একটি দেশ শাদের চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ সালেহ হারুনের চলচ্চিত্র লিঙ্গুই (ভাষা ফরাসি) এবার মূল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তাঁর চলচ্চিত্র ‘এ স্ক্রিমিং ম্যান’ ২০১০ সালে কানে জুরি পুরস্কার অর্জন করেছিল। ২০১১সালের কান ফিল্ম ফেস্টিভালে জুরি হিসাবে রবার্ট ডি নিরোর সাথে কাজ করেছিলেন তিনি। কান উৎসবের প্রায় নিয়মিত মুখ এই পরিচালক। জুরি হিসাবে অথবা তাঁর চলচ্চিত্র নিয়ে নিয়মিত তিনি অংশগ্রহণ করে থাকেন। লিঙ্গুই সিনেমার গল্প ৩০ বছর বয়সের আমিনা এবং তার মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে। মারিয়া ১৫ বছর বয়সে গর্ভবতী হয়ে যায়। কিন্তু গর্ভপাতের সিদ্ধান্তে নানা রকমে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সামাজিক বাধা ইত্যাদি প্রসঙ্গ শাদের পরিপ্রেক্ষিতে তুলে ধরা হয়েছে। ‘জিব্রিল উ লে সু উম্ব্রে পর্খতে’ (বাংলায় বলা যায় জিবরিল ও তার ছায়া) নামে ২০১৭ সালে তাঁর একটা উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি ঔপন্যাসিকও। শাদের সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

 প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী

মূল চলচ্চিত্র বিভাগের জুরিগণ

মূল প্রতিযোগিতাতে এশিয়ার পাঁচটি চলচ্চিত্র আছে এবং আফ্রিকা থেকে আছে দুটি (মরক্কো আর শাদ)। এই প্রতিযোগিতা বিভাগটি শুরু হবে খ্যাতিমান ফরাসি পরিচালক লিও কারাক্সের ছবি ‘আনেত্তে’ দিয়ে। অন্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে :

দ্য স্টোরি অব মাই ওয়াইফ (হাঙ্গেরি), পরিচালক ইলদিকো এনইয়েদি।
বেনেদেত্তা (নেদারল্যান্ডস), পরিচালক পল ভেরহোয়েভেন।
বার্গম্যান আইল্যান্ড (ফ্রান্স), পরিচালক মিয়া হানসেন লাভ।
ড্রাইভ মাই কার (জাপান), পরিচালক রিউসুকে হামাগুচি।
ফ্ল্যাগ ডে (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক শন পেন।
আহেডস নি (ইসরায়েল), পরিচালক নাদাভ লাপিদ।
ক্যাসাব্লাঙ্কা বিটস (মরক্কো), পরিচালক নাবিল আইউচ।
কমপার্টমেন্ট নম্বর-৬ (ফিনল্যান্ড), পরিচালক জুহো কুসোমানেন।
দ্য ওয়ার্স্ট পার্সন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড (নরওয়ে), পরিচালক হোয়াকিম ত্রিয়ের।
লা ফ্র্যাকচার (ফ্রান্স), পরিচালক ক্যাথরিন কোরসিনি।
দ্য রেস্টলেস (বেলজিয়াম), পরিচালক জোয়াকিম লাফোসসে।
প্যারি থার্টিনথ ডিসট্রিক্ট (ফ্রান্স), পরিচালক জ্যাক অদিয়ার্দ।
লিঙ্গুই (শাদ), পরিচালক মোহাম্মদ সালেহ হারুন।
মেমোরিয়া (থাইল্যান্ড), পরিচালক আপিচাতপং উইরাসেথাকাউল।
নাইট্রাম (অস্ট্রেলিয়া), পরিচালক জাস্টিন কুরজেল।
ফ্রান্স (ফ্রান্স), পরিচালক ব্রুনো ডুমোঁ।
পেত্রোভ’স ফ্লু (রাশিয়া), পরিচালক কিরিল সেরেব্রেনিকোভ।
রেড রকেট (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক শন বেকার।
দ্য ফ্রেঞ্চ ডিসপ্যাচ (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক- ওয়েস অ্যান্ডারসন।
টাইটেইন (ফ্রান্স), পরিচালক জুলিয়া ডুকোরুঁ।
ত্রে পিয়ানি (ইতালি), পরিচালক ন্যানি মরেত্তি।
টুট সেস্ত বিয়েঁ পাসে (ফ্রান্স), পরিচালক ফ্রাঁসোয়া ওজোঁ।
আ হিরো (ইরান), পরিচালক আসগর ফরহাদি।

উঁ সারতেইন রিগার্দ বিভাগের জন্যে মনোনীত চলচ্চিত্র :

রেহানা মরিয়ম নূর (বাংলাদেশ), পরিচালক আবদুল্লাহ মো. সাদ।
মানিবয়েস (অস্ট্রিয়া), পরিচালক সি. বিই।
ব্লু বে (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক জাস্টিন চন।
ফ্রেদা (হাইতি), পরিচালক জেসসিয়া জেনেউস।
হাউজ অ্যারেস্ট (রাশিয়া), পরিচালক আলেক্সি জারমান জুনিয়র।
বোননে মেরে (ফ্রান্স), পরিচালক হাফসিয়া হারজি।
নচে ডি ফুয়েগো (মেক্সিকো), পরিচালক তাতিয়ানা হুয়েজো।
ল্যাম্ব (আইসল্যান্ড), পরিচালক ভালদিমার জোহানসন।
কমিটমেন্ট হাসান (তুরস্ক), পরিচালক হাসান কাপলানোগলু।
আফটার ইয়াং (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক কোগোনাদা।
লেট দেয়ার বি মর্নিং (ইসরায়েল), পরিচালক ইরান কোলিরিন।
আনক্লিংচিং দ্য ফিস্ট (রাশিয়া), পরিচালক কিরা কোভালেংকো।
উইম্যান ডু ক্রাই (বুলগেরিয়া), পরিচালক মিনা মিলেভা ও ভেসেলা কাজাকোভা।
গ্রেট ফ্রিডম (অস্ট্রিয়া), পরিচালক সেবাস্তিয়ান মেইজ।
লা সিভিল (বেলজিয়াম), পরিচালক- তিয়োদোরা আনা মিহাই।
গেইই ওয়া’র (চীন), পরিচালক না জিয়াজু।
দ্য ইনোসেন্টস (নরওয়ে), পরিচালক এসকিল ভোগট।
উঁ মঁদে (বেলজিয়াম), পরিচালক লরা ওয়ানদেল।

মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে মনোনীত হয়েছে ফ্রান্সের জ্যঁ ক্রিস্তোফ মিউরিজ পরিচালিত ‘ব্লাডি অরেঞ্জেস’ ছবিটি।

কান প্রিমিয়ারের মনোনীত চলচ্চিত্র :

হোল্ড মি টাইট (ফ্রান্স), পরিচালক ম্যাথু আমালরিক।
কাউ (যুক্তরাজ্য), পরিচালক আন্দ্রিয়া আরনল্ড।
লাভ সংস ফর টাফ গাইজ (ফ্রান্স), পরিচালক স্যামুয়েল বেনচেটট্রিট।
ডিসিপশন (ফ্রান্স), পরিচালক আরনদ ডেসপ্লেনচিন।
জেইন পার শারলোট (ফ্রান্স), পরিচালক শারলট গেইন্সবার্গ।
ইন ফ্রন্ট অব ইওর ফেইস (কোরিয়া), পরিচালক হং সাং সু।
মাদারিং সানডে (ফ্রান্স), পরিচালক ইভা হুসোন।
ইভোল্যুশন (হাঙ্গেরি), পরিচালক কোরনেল মুনদরুকজো।
ভাল (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক টিং পু ও লিও স্কট।
জেএফকে রিভিজিটেড : থ্রু দ্য লুকিং গ্লাস (যুক্তরাষ্ট্র), পরিচালক অলিভার স্টোন।

বিশেষ স্ক্রিনিং :

মেরিনার অব দ্য মাউন্টেনস (ব্রাজিল), পরিচালক করিম আইনুজ।
ব্ল্যাক নোটবুকস (ইসরায়েল), পরিচালক শোলমি এলকাবেৎজ।
বাবি ইয়ার কনটেক্সট (ইউক্রেন), পরিচালক সারজেল লোজনিটসা।
দ্য ইয়ার অব দ্য এভারলাস্টিং স্টর্ম (থাইল্যান্ড), সাতটি দেশের সাত জন পরিচালক এটি তৈরি করেছেন।

কান ও করোনা

উৎসবে এবার করোনার কারণে অনেক বেশি কড়াকড়ি থাকছে। করোনা টেস্ট যাতে যে-কোনো সময়ে সহজেই করা যায় তার জন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান থাকছে। উৎসবে অংশ নেয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে করোনা নেগেটিভের সনদ থাকতে হবে। ভ্যাকসিনের ডাবল ডোজ নিতে হবে। শহরের কাছেই একটা জায়গাতে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফ্রান্স থেকে তীরন্দাজে আরও কান

উৎসব শুরু হবার পর আমরা তীরন্দাজ পাঠকদের আরো নতুন নতুন খবর জানাবো। কানের খবর ও সাক্ষাৎকারগুলো তখনই পাবো। সেটা নিয়ে আরো লেখা যাবে। যারা চলচ্চিত্র ভালোবাসেন, চলচ্চিত্রের খবরাখবর রাখেন তারা চোখ রাখুন তীরন্দাজে। কান থেকে একজন ফরাসি কবি ও লেখক পিটার জোকুয়েল আমাদের জন্যে লিখতে পারেন। তাঁর লেখা পেলে আমরা প্রকাশ করবো এবং সেই লেখা পড়বার আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি।

বাংলাদেশ ও বাংলা সিনেমার জন্যে আরও সুখবর নিয়ে আসুক কান, সেই প্রত্যাশা নিয়ে লেখাটি এখানেই শেষ করছি।