ইফতেখারুল ইসলাম | ছেলেবেলার আনন্দসম্ভার | স্মৃতিগদ্য-৪ | উৎসব সংখ্যা ১৪২৯

0
71

এই ঈদ সংখ্যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক এটাই যে এতে আমাদেরকে খুব বেশি ছোট বলে ভাবা হয়নি| বোধহয় আমাদের মতো ছোটদের চিন্তার জগতটিকে বড় করে তুলতে চেয়েছিলেন সম্পাদক ও লেখকগণ| তখনকার সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আমাদের চিন্তা-ভাবনার অন্তর্ভুক্ত করে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা|

ছেলেবেলার দুটো ঈদ সম্পূর্ণ আলাদা দুই কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে আমার জীবনে| স্মৃতি একসময় ঝাপসা হয়ে আসে| অনেক সময় অল্পদিন আগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে পারি না| কত বড় বড় ঘটনার কথা ভুলে যাই| কিন্তু দশ বছর বয়সের ঈদের আনন্দ আর পনের বছর বয়সের ঈদের বিশেষত্বটুকু কোনদিন ভোলা যাবে না|

জীবনে সবচেয়ে আনন্দের ঘটনাটি ঘটে আমার দশ বছর বয়সে| আমাদের মতো ছোটদের জন্য বের হয় একটা নতুন পরিপাটি মাসিক পত্রিকা| এর আগে, পড়তে শেখার পর থেকেই নিয়মিত পড়ছি মাসিক ‘সবুজ পাতা’| মাঝে মাঝে ‘কচি ও কাঁচা’| আর বোধহয় একটু অনিয়মিত ছিল ‘খেলাঘর’| এই রকম একটা সময়ে আমাদের শিশুসাহিত্যের শুকনো মাটিতে স্বপ্নময় বৃষ্টির শব্দঝংকার নিয়ে এলো মাসিক টাপুর টুপুর | পত্রিকার সর্বাঙ্গে অভাবনীয় সৌন্দর্য্য আর উৎকর্ষের চিহ্ন| কামরুল হাসানের আঁকা সুরুচিশোভন প্রচ্ছদ, হাশেম খান আর রফিকুন্নবীর অঙ্গসজ্জার সঙ্গে অতি আকর্ষণীয় লেখক তালিকা| আমি আর আমার বন্ধুরা পেলাম নতুন স্বাদ, নতুন একটা জগতের সন্ধান| ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হলো প্রথম সংখ্যা| এর সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ শফী আর এখলাস উদ্দিন আহমদ| এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় শিশুসাহিত্য বিতান, ৮ ফিরিঙ্গি বাজার রোড, চট্টগ্রাম থেকে|

পত্রিকার তৃতীয় সংখ্যাটিই ঈদ উপলক্ষ্যে ১৯৬৭ সালের শুরুতে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা| শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের আঁকা প্রচ্ছদ| একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস, অনেকগুলো গল্প, কবিতা, আর অন্যান্য রচনা মিলিয়ে এক বিশাল আনন্দ-সম্ভার| সব মিলিয়ে দুশো পৃষ্ঠার বেশি| এ রকম মোটাসোটা বিশেষ সংখ্যা ছেলেবেলায় আমরা দেখেছি শারদীয়া দেশ পত্রিকার| আর দেখেছি মাসিক সমকাল পত্রিকার কবিতা সংখ্যা নামের একটা বিশেষ সংখ্যা| ছোটদের জন্য যে এত বড় একটা ঈদ সংখ্যা হতে পারে এটা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না| সেটা যাঁরা করে দেখালেন তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ না হয়ে পারি না|

সে সময় আমাদের ঈদ আনন্দময় ছিল| তবে এখনকার মতো বিপণী-উপচানো ভিড়ে, পোশাকে, ফ্যাশনে, খাদ্যে, ভ্রমণে বর্ণিল ছিল না| ছেলেবেলায় আমাদের মন মুক্ত ছিল| রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “খাওয়ানো-পরানো সাজানো-গোজানোর দ্বারা আমাদের চিত্তকে চারিদিক হইতে একেবারে ঠাসিয়া ধরা হয় নাই|” ফলে, মনের মতো একটা ঈদ সংখ্যা পেয়ে আমি এত উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম|

এই ঈদ সংখ্যাটির সূচিপত্র বা লেখক তালিকা রীতিমতো বিস্ময়কর| সেই ষাটের দশকেই যাঁরা আমাদের সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিখ্যাত আর পরবর্তী পঞ্চাশ বছর ধরে যাঁরা বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কবি, কথাসাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও প্রবন্ধকার তাঁদের প্রায় সকলেই ছোটদের জন্য কিছু-না-কিছু লিখেছেন এই টাপুর টুপুর পত্রিকার ঈদ সংখ্যায়| কবি ও ছড়াকারের তালিকায় আছেন সিকানদার আবু জাফর, শামসুর রাহমান, সৈয়দ আলী আহসান, আল মাহমুদ, হায়াৎ মামুদ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সৈয়দ শামসুল হক, ফজল শাহাবুদ্দীন, সুকুমার বড়ুয়া, রফিকুল হক, মাহবুব তালুকদার, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আর নিয়ামত হোসেন| গল্প লিখেছেন আবুল ফজল, আহসান হাবীব, শওকত ওসমান, আনিস চৌধুরী, সরদার জয়েন উদদীন, আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রমুখ| প্রবন্ধ লেখেন দ্বিজেন শর্মা, মমতাজ উদদিন আহমেদ, সনজীদা খাতুন, মোহাম্মদ আবদুল কাইউম, শামসুল হক, হালিমা খাতুন, কাজী জাকের হোসেন, আমির হামযা, প্রমুখ| আর এই সংখ্যার প্রধান কয়েকটি আকর্ষণ ছিল মুনীর চৌধুরীর নাটিকা, লায়লা সামাদের রূপকথা আর এখলাসউদ্দিন আহমদের উপন্যাস|

দশ বছর বয়সে ঈদ সংখ্যার গল্প-উপন্যাস পড়াটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দের| আমাদের পড়ার মতো বইয়ের সংখ্যা তখন খুব বেশি নয়| তাই যে-লেখা একবার ভালো লাগে তা বারবার পড়ি| আর পড়ি ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিষয়ে আমির হামযার লেখা সচিত্র প্রবন্ধ| আমির হামযা যে আসলে কথাসাহিত্যিক শওকত আলী তা আমি জানতে পারি আরো অনেক বছর পর| তাঁদের এসব লেখা আমাদের বড় হয়ে উঠতে সাহায্য করে| এই ঈদ সংখ্যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক এটাই যে এতে আমাদেরকে খুব বেশি ছোট বলে ভাবা হয়নি| বোধহয় আমাদের মতো ছোটদের চিন্তার জগতটিকে বড় করে তুলতে চেয়েছিলেন সম্পাদক ও লেখকগণ| তখনকার সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আমাদের চিন্তা-ভাবনার অন্তর্ভুক্ত করে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা|

এই দুশো পৃষ্ঠার সংকলনে চুয়াল্লিশটা পুরো-পাতা-জোড়া বিজ্ঞাপন| এগুলোর মধ্যে বইয়ের বিজ্ঞাপন যেমন ছিল তেমনি ছিল দোকান-পাট, ব্যাঙ্ক-বীমা, জাহাজ কোম্পানি, ছাপাখানা আর ওষুধ কোম্পানির বিজ্ঞাপন| কিন্তু প্রত্যেকটি বিজ্ঞাপন এই পত্রিকার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা| লেখা, ছবি সবই নতুন ধরনের| তাই সেগুলোও পড়ে ফেলি মনের আনন্দে|

সেই সময়ে অন্যান্য পত্রিকায় ঈদ উপলক্ষ্যে ছোটদের জন্য যে-সব গল্প-কবিতা ছাপা হতো সেগুলোর একটা বিশেষ প্যাটার্ন ছিল| খানিকটা ঈদের খুশি, খানিকটা নতুন জামার আনন্দ, আর তার সঙ্গে বঞ্চিত শিশুদের বেদনা মনে রাখার বার্তা| নতুন জামা, টাকা অথবা ঈদের খাবার গরিব শিশুদের জন্য দিয়ে দেওয়া – একটু নাটকীয় শোনালেও ভালো লাগতো| এই ধরনের নীতি-শিক্ষা নিশ্চয়ই তখন সমাজের জন্য উপকারী হয়েছিল| কিন্তু আমাদের মন চেয়েছে উৎকৃষ্ট সাহিত্য| আরো নতুন ধরনের, আরো উন্নতমানের লেখা| সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে টাপুর টুপুর|

শামসুর রাহমান, সিকানদার আবু জাফর আর সৈয়দ শামসুল হকের কবিতাগুলো খুবই নতুন ধরনের বলে বেশি ভালো লেগেছিল| কিন্তু সেই ঈদে যে কবিতাটি আমাকে আমূল নাড়া দিয়েছিল সেটা পরবর্তীকালের অতি বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কবিতা| আল মাহমুদের ‘নোলক’|

আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে,
হেথায় খুঁজি, হোথায় খুঁজি, সারা বাংলা দেশে |

কবির পুরো ভাবনাটাই একেবারে নতুন মনে হয়| ১৯৬৭ সালে সে-সময়ের ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ শিশু কিশোরদের জন্য যে পত্রিকা তাতে এই কবিতা একটা নতুন সুর যোগ করে দিল| সুরটা তখন খুব স্পষ্ট হয়নি| তখনকার কোনো লেখায় বাংলাদেশ শব্দটাইতো আমরা খুব বেশি দেখিনি| তখনও এই দেশ প্রবলভাবে পূর্ব পাকিস্তান| ভাষা আন্দোলন থেকে প্রেরণা নিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয় চিহ্নগুলোকে লালন করছি আমরা| স্বাধিকার আন্দোলনের সবে সূচনা হয়েছে| এই ভূখণ্ডকে পূর্ব বাংলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র অল্প কিছু লেখায়| আমাদের এখনকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র তখনও অনেক দূরের স্বপ্ন| তাই এই কবিতায়, সেই প্রথম ছাপার সময়, বাংলা আর দেশ – দুটো শব্দ আলাদাভাবে লেখা হলেও, কবিতাটি আমাদের নিজের দেশকে নির্ভুলভাবে চিনিয়ে দেয়|

কবিতার প্রতিটি লাইন আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়| আমার জন্ম ঢাকায়| সবুজ প্রান্তর, বন, নদী, শাদা বক, পাখ-পাখালি দেখেছি শুধু গ্রামের দিকে| সেখানে কালে ভদ্রে যাওয়া হয়| কিন্তু সেটাই যে আমার দেশ তা বুঝতে শুরু করি সাহিত্যের ভেতর দিয়ে| বিশেষত কবিতায় আমার দেশের একটা সবুজ সজীব চিত্র পাই| তার পরেও, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীম উদদীন, আহসান হাবীব, এরকম সবার কবিতা থেকে ‘নোলক’ সম্পূর্ণ আলাদা| এই কবিতার ভেতরের গল্পটি আমাকে পরিপূর্ণভাবে অধিকার করে নিল| আর ফুলের গন্ধ যে হাত পেতে নেওয়া যায় সেকথা কিছুতেই ভুলতে পারি না| নদী, পাহাড়, টিয়ে, হরিণ, সকলের সঙ্গেই সমবয়েসি বন্ধুর মতো কথা বলা যায়| শুধু রাত্রির বেলায় বাড়তি সম্মান| রাত্রি এলেন – রাত্রি যে একজন দেবতার নাম তা না জেনেও – কথাটা আমার কাছে বিস্ময়কর নতুন লাগে|

রাত্রি এলেন এলিয়ে খোঁপা, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের জেওর ছাড়া ঘরকে যাবো না|

ঠিক এইভাবে কবিতাটা ছাপা হয়েছিল তখন| পরে কবি এই কবিতার শেষ দুটো লাইনে দুটো জিনিস বদলে দিয়েছেন| এলেন আর এলিয়ে এ দুটি শব্দকে আলাদা করার জন্য রাত্রিকে পিছিয়ে দিয়ে লিখেছেন : এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন… | আর জেওর শব্দটির বদলে লিখেছেন গয়না|

এই ঈদ সংখ্যা টাপুর টুপুরের দাম এক টাকা| ১৯৬৭ সালের জানুয়ারি মাসে এক টাকা মোটেই তুচ্ছ ছিল না| তবু, এটা আমার কাছে খুবই প্রতীকী এবং তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়| এই এক টাকায় আমাদের বাড়িতে আমরা কয়েকজন ভাইবোন কী অভূতপূর্ব ঈদ উদযাপন করেছি! ‘নোলক’ কবিতার মতো এক অমর সৃষ্টি আমাদের ঘরে এসেছে| এসেছে দেশের শ্রেষ্ঠ লেখকদের আরো কত অসামান্য লেখা| তাই পঞ্চান্ন বছর আগের সেই এক টাকার আনন্দ-সম্ভার আর তা থেকে পাওয়া আনন্দ আমার কাছে আজও অটুট রয়েছে|

শুরুতেই দুটি স্মরণীয় ঈদের কথা উল্লেখ করেছি| একটি ঈদ অবিস্মরণীয় হয়ে আছে ওই ঈদ সংখ্যার কারণে| আর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ আমার পনের বছর বয়সের ঈদের দিনটির কথা আমরা কেউ কোনদিন ভুলবো না| কারণ সেই ঈদে কোনো ঈদ সংখ্যা আমাদের হাতে আসেনি| নতুন কোনো বই ছিল না| কোনো নতুন জামার কথা মনেই আসেনি কারো| আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা তখন সত্যিই মায়ের হারিয়ে যাওয়া সোনার নোলক খুঁজতে বেরিয়েছেন| সে বছর নভেম্বরে ঈদের আগের সন্ধ্যায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বেজেছিল একটা অসাধারণ বেদনাবিধুর অথচ সংকল্পে উদ্দীপ্ত গান| “চাঁদ তুমি ফিরে যাও ফিরে যাও| দেখো মানুষের খুনে খুনে রক্তিম বাংলা| রূপালি আঁচল কোথায় রাখবে বলো… |” সেটা এক অন্যরকম ঈদ| আর তার গল্পটাও আলাদা|

রায়েরবাজারের সনাতনগড়ে আমাদের বাড়িটা একতলা| চারদিক খোলামেলা বলে নভেম্বর মাসেই বেশ একটু শীতের আমেজ| বিশেষ করে সকালে আর সন্ধ্যায় রীতিমতো ঠান্ডা| সে-বছর উনিশে নভেম্বর রোজার উনত্রিশ দিন শেষ হলো| হেমন্তের সন্ধ্যায় হালকা শীতে বাঁশবাগানের মাথার ওপর সরু একফালি চাঁদ দেখি| কোনো আনন্দ উল্লাস নেই| আছে কোমল ও শান্ত বিষাদ| কেমন একটা কোলাহলহীন, নিস্তব্ধ আর অনুভূতিশূন্য সময়| শুধু মনে হয়, এবারের ঈদটা একেবারে অন্যরকম|

জানি না কেমন আছে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া আমাদের অন্য সঙ্গীরা? কোথায় আছে, কেমন আছে আমার অন্য বন্ধুরা যারা শহর ছেড়ে চলে গেছে গ্রামে অথবা আরো দূরে, অন্য কোনোখানে? আর এই ঈদে কেমন আছে আমাদের মুক্তিসেনারা? সালদা নদী, বিলোনিয়া, কামালপুর, চৌগাছা, ভুরুঙ্গামারী, এ রকম অদেখা অচেনা জায়গায় যাদের অভিযানের খবর শুনি স্বাধীন বাংলা বেতারে? আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠা বিস্ফোরণের শব্দে যাদের উপস্থিতি টের পাই এই শহরেই? না, তাদেরকে সঙ্গে না নিয়ে আমাদের ঈদ কী করে হবে|

ঠিক সময়টিতে অসাধারণ একটি গান লিখেছিলেন শহীদুল ইসলাম| আর অজিত রায়ের সুরে সে গান গেয়েছিলেন রূপা ফরহাদ| রাতে আবার স্বাধীন বাংলা বেতারে বাজে সেই গান : “চাঁদ তুমি ফিরে যাও ফিরে যাও| দেখো মানুষের খুনে খুনে রক্তিম বাংলা| রূপালি আঁচল কোথায় রাখবে বলো… |”

পড়ুন এই সিরিজের আরও তিনটি লেখা নিচের লিংকগুলোতে

ঝর্না রহমান | মাতাল হাওয়ার মেলোডি | স্মৃতিগদ্য-৩
নাসরীন জাহান | আমার স্মৃতির দিন | স্মৃতিগদ্য-২
সেলিম জাহান | বইয়ের স্মৃতি, স্মৃতির বই | স্মৃতিগদ্য-১

 

 

Share Now শেয়ার করুন