উইলিয়ম জে. লেডারার ও উজিন বুর্ডিক >> কদর্য মার্কিন >> তর্জমা : অনিন্দিতা দত্ত ও শান্তনু ঘোষ >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ১৪]

0
321

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুই শিবির – পুঁজিবাদী বিশ্ব আর সমাজতান্ত্রিক পটভূমিতে এই উপন্যাসটি লিখেছিলেন দুই মার্কিন সাংবাদিক। তারপরেই তোলপাড় সৃষ্টি হয় মার্কিন সর্বোচ্চ প্রশাসনে। এশিয়ায় তাদের আধিপত্যবাদী রাজনীতিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হয়। এই উপন্যাসের পটভূমিতেই পাল্টা ডিসকোর্স হিসেবে প্রখ্যাত বাঙালি ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লেখেন তাঁর প্রথম ইংরেজি উপন্যাস দি আগলি এশিয়ান। আজ তীরন্দাজে প্রকাশিত হলো এই উপন্যাসের ১৪ম পর্ব।

না পড়া থাকলে এই বাক্যটাতে ক্লিক করে আগের পর্বটা (পর্ব ১৩) পড়ে নিন। 

পর্ব ১৪

দশম অধ্যায়

র‍্যাগটাইম কিড

য়ারফোর্সের ভদ্রলোকের নামটি ভারি অদ্ভুত – এডউইন. বি. হিলানডেল। ‘বি’ বলতে বারনাম। সুখ ও উদ্দামতার মাল-মশলায় ঠাসা ভরপুর প্রাণবন্ত কর্নেল হিলানডেল, তিনি সারারাত ধরে পান ও নাচ দুটোই বহাল তবিয়তে চালিয়ে যেতে পারেন। আর বিস্তর এই মৌজমস্তির ধকলের পর তাকে দেখে মনে হতে পারে যেন এই তো সবে বিশ্রামটিশ্রাম সেরেটেরে উঠে এসেছেন ভদ্রলোক, এমনই তরতাজা দেখাতো ওনাকে। অবিশ্যি, কর্নেল যে গোটা রাত্তির জেগে নাচ ও পানীয়ের হুজুগে মেতে থাকেন তেমনটা নয়। সক্কাল হওয়ার আগেভাগেই মোটামুটি দুটো নাগাদ জ্যাম সেশনে অর্কেস্ট্রায় বসে যান, নিজের মর্জি মাফিক সুর ভাঁজতে ভাঁজতে মুখটা এক্কেবারে মাইকের গা ঘেঁসিয়ে অ্যায়াসা কায়দায় হারমোনিকা বাজান মনে হয় নির্ভেজাল স্টাচমো (satchmo- satchelmouth) থেকে শব্দটা এসেছে। এটা বিখ্যাত আমেরিকান যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী লুই ড্যানিয়েল আর্মস্ট্রংয়ের ডাকনাম। তিনি মুখটা ব্যাগের মতো ঝাঁপখোলা কিংবা বন্ধের মতো ব্যবহার করতেন বলে অথবা তার মুখটা ব্যাগের মুখের মতো বড় বলে এরকম একটা ডাক নাম ছিল তাঁর। এখানে ওই ‘ব্যাগমুখো’ যন্ত্রশিল্পি আর্মস্ট্রংয়ের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে)।
আর যখন তিনি ভরপেট আনন্দে মশগুল হয়ে কোনও জম্পেশ কম্বোর সঙ্গে এটা বাজাতে থাকেন তখন তো আর কোনও কথাই নেই, তা যেন জ্যাজ ব্যান্ড আর হারমোনিকা সহযোগে এক বিচিত্র কনসার্ট।
তবে এমনটা যেন কেউ আবার ভেবে না ফেলেন, কর্নেলের কাছে জ্যাজই আনন্দের ইতিকথা। তিনি খানাপিনার ব্যাপারটাকেও দিব্যি মনের সুখে উপভোগ করেন, ভালোবাসেন মানুষের সঙ্গে মিশতে। সে যে কোনও কিসিমের মানুষই হোক না কেন।
১৯৫২ সাল নাগাদ কর্নেল হিলানডেলকে কোনও বিশেষ অথবা অন্য বিষয়ের মধ্যস্থতাকারী অফিসার হিসেবে ম্যানিলাতে পাঠানো হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই ফিলিপিনোরা তাঁকে মুগ্ধ করে। ছোটখাট কোনও ফিলিপিনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়ার কম্মটি সেরে নিতেন তিনি, এই এত এত অ্যাডোবো এক নিমেষে হাওয়া, কত্ত কত্ত যে প্যানসিট আর রাশি রাশি ভাত মুহূর্তের মধ্যে স্রেফ উবে যেত, নিজের চর্মচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস হবে না, সঙ্গী থাকতো ফিলিপিনো মার্কা মন-মাতানো দিলখুশ করা রাম, পাইটপিছু যার নজরানা মাত্তর দু-পেসো। যে-কোন ফিলিপিনোর সঙ্গে অনায়াসে মিলেমিশে যাওয়াটা তার কাছে ছিল বাঁয়া হাত কী খেল – এখানেই শেষ নয়, হাতে সময় পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে টাগালগের মতো স্থানীয় আঞ্চলিক কথ্যভাষার ওপর বিদ্যেচর্চাও করে যেতেন।

“অবাক করলেন মশাই, আপনার কাছে টাকাপয়সা কিছু নেই”, একজন ফিলিপিনো বলে উঠলো। কর্নেল তাঁর হাত দুটো পকেটে গলিয়ে দিয়ে টাকার ব্যাগটা বের করলেন, খুললেন, দেখালেন, বিলকুল ফক্কা। তারপর ফের একটা হাত সজোরে সাইড পকেটে ঢুকিয়ে দিলেন আর বের করে আনলেন কিছু খুচরোখাচরা।
“ষাট সেন্টাভোস।”
“যাচ্চলে, আমরা তো জানি আমেরিকানরা সব ইয়া বড়লোক হয়।”
“ধুস, বড়লোক আর হতে পারলুম কই।”

কর্নেল হিলানডেল স্বয়ং কখন যেন গোটা ম্যানিলার জলজ্যান্ত আত্মার নিখুঁত মূর্তিমান চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা তাঁকে স্নেহবশত আদর করে ডন এডউইন নামে ডাকত; ট্যাক্সি ড্রাইভার, ব্যালুট বিক্রেতা ও ওয়েটারেরা তাঁর নাম দিয়েছিল আমিরকানো ইলাস্ট্রাডো (Americano Illustrado – উনিশ শতকে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক পর্বে শিক্ষিত ফিলিপিনো সম্প্রদায়কে বোঝানো হতো এই বলে); সঙ্গীতজ্ঞদের কাছে, র‍্যাগটাইম কিড। আর আমেরিকান দূতাবাসে দাঁড়িয়ে কাউন্সিলার তাঁকে বলতেন ‘খ্যাপা আঁটকুড়ের ব্যাটা।’
কিন্তু মাস ছয়েক কাটতে না কাটতেই এই খ্যাপাটে লোকটিকে দেখা গেল ম্যাগসাইসাইয়ের সঙ্গে একটেবিলে বসে দিব্যি প্রাতরাশ সারছেন, আর উনি যে কোন পদের দায়িত্বে আছেন তা নিয়ে অযথা মাথা না ঘামিয়ে খুব অল্প সময়ের ভেতরেই হয়ে উঠেছেন তাঁর শলাপরামর্শদাতা এক ছায়া সহচর।
১৯৫৩–র গ্রীষ্মকাল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ম্যাগসাইসাইয়ের প্রচার অভিযান তখন তুঙ্গে। ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে ঘুরে ঘুরে আমজনতার সামনে তিনি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো তুলে ধরছিলেন, এক-এক করে সব কটি জায়গা যেখানেই তিনি পা রেখেছেন, অভিনন্দিত হয়েছেন তুমুল উদ্দীপনার সঙ্গে। সমস্ত জায়গায় সফল, স্রেফ ডাহা ফেল মেরে গেছিলেন ম্যানিলার উত্তরে এক প্রদেশে। এখানে কমিউনিস্ট প্রচারকারীরা চতুর একটা খেলা খেলেছিল। এই লালেরা জনগণের মগজ ধোলাই করেছিল এইভাবে যে, হাড়বজ্জাত পাঁজির পা-ঝাড়া আমেরিকানরা হল বড়লোক, নাক উঁচু, তা তিনি যেই হোন না কেন, তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন এমন কেউ – যেমন এই ম্যাগসাইসাইকেই ধরে নিন না – ফিলিপিনোর সমস্যা, সঙ্কট তাঁর কাছে ঘোলা জলের মতন। রাজনৈতিক পণ্ডিতেরা এই প্রদেশটি হাত থেকে ফসকে যাবার মতো আশঙ্কার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বটে।
এক শনিবারের কথা, ম্যাগসাইসাইয়ের বন্ধুপ্রবর এই কর্নেল হিলানডেল ওই অঞ্চলটাতে গেলেন। যখন তিনি রাজধানীতে পৌঁছলেন কটা বাজে তখন, এই সাড়ে এগারোটা হবে, ক্যুয়েনকোর লোকজনদের চোখ সিধে টঙে উঠে গেল, তাদের জন্ম তো দূর দূর কী বাত, বাপ পিতেমোর জন্মেও এমন দৃশ্য কখখনো দেখে নি তারা। কোথাকার কে এক ঢ্যাঙা, ছিপছিপে, লালচুলো খাড়া নাকওয়ালা ইউ.এস. এয়ার ফোর্সের কর্নেল লাল মোটর সাইকেলে সওয়ার হয়ে ক্যুয়েনকোতে ঢুকলেন, তাঁর গ্যাসের ট্যাংকের গায়ে কালো রঙে লেখা ছিল ‘র‍্যাগটাইম কিড।’ তিনি ভটভটিয়ে প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে সটান গিয়ে থামলেন হৈ হট্টগোলের জনবহুল এলাকায়। মোটর সাইকেলটাকে একজায়গায় রাখলেন, পরনের পোশাকআশাক ঠিকঠাক করে নিলেন; তারপর হেলেদুলে ইনডোর গেমস খেলার মস্ত বড় পুল হলটার কাছে গেলেন আর গিয়ে বসে পড়লেন রাস্তায় – ফুটপাথ বাঁধানো পাথরের ওপর। প্রত্যেকের দিকে মাথা নাড়িয়ে হাসার পর, তিনি তাঁর হারমোনিকাটি বের করে পছন্দের ফিলিপিনো সুরটা উঁচু তারে আপন মনে বেশ মজাসে বাজাতে শুরু করলেন; প্রথম কয়েকটা লাইন পুরানো রীতিতে বাজালেন, আর শেষ দু’তিন লাইন জ্যাজের ভঙ্গিমায়। সবে মিনিট পনেরো কেটেছে কি কাটেনি, কর্নেলকে ঘিরে নয়-নয় করেও প্রায় দুশো লোক তো হবেই, একটা জমজমাট ভিড়ের মোচ্ছোব লেগে গেল। তারা সঙ্গীতটাকে আন্তরিকভাবে উপভোগ করছিল বটে, পাশাপাশি, গড়পড়তা ধনী আমেরিকানদের মধ্যে বেমক্কা হাজির হওয়া বেখাপ্পা এই মানুষটাকে আড় চোখের নজরদারিতে বেঁধে রাখছিল, এটাও সত্যি।
কর্নেল হিলানডেল বাজাতে শুরু করলেন প্ল্যানটিং রাইস ইজ নেভার ফান । একটা স্তবক শেষ করে তিনি খানিক থেমে, ভিড়ের চেহারাটার দিকে চোখ বুলিয়ে নিলেন আর খাস আঞ্চলিক ভাষায় বলে উঠলেন “কী হল হে, চলো চলো, একসঙ্গে গলায় গলা মেলানো যাক।” কোমল সুরে তিনি কয়েকটা শব্দ গাইলেন; তারপর হারমোনিকাটি মুখে গুঁজে দিয়ে, যতটা সাধ্য জোরে, মিঠে সুরে একটানা বাজিয়ে চললেন। উপস্থিত গোটা ভিড়টা এবার গাইতে শুরু করলো – একেবারে ঠাসা তিনশো ফিলিপিনো মানুষের বৃত্তটা ঠায় দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে গেয়ে চললো, আর এ–ও-সব্বাই একে অপরকে ঠেলাঠেলি করে এই অদ্ভুতুড়ে লোকটাকে দেখতে লাগলো।
কাঁটায় কাঁটায় বারোটা তখন, অ্যানজেলাসে গীর্জার ঘণ্টা বেজে উঠলো। র্যা গটাইম কিড হারমোনিকা পকেটে রেখে ঝটপট উঠে দাঁড়ালেন।
“মাইরি বলছি, আমার না খিদেয় পেট জ্বলে যাচ্ছে,” তিনি বললেন। “তা কিছু অ্যাডোবো আর প্যানসিট তো পাওয়া যাবেই তাই না।”
ফিলিপিনোরা বেদম লজ্জায় পরে গিয়ে এ-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল।
কর্নেলের পোশাক পরার‍্যাগটাইম কিড জনতার বৃত্তটাকে একবার দেখে নিলেন। “আমি কিন্তু আশায় আশায় আছি এখানে কেউ না কেউ তো আমাকে দুপুরের খাবারের জন্যে বলবেই, আমার ট্যাঁকে বাপু টাকাপয়সা বলতে তেমন কিচ্ছুটি নেই।”
“অবাক করলেন মশাই, আপনার কাছে টাকাপয়সা কিছু নেই”, একজন ফিলিপিনো বলে উঠলো। কর্নেল তাঁর হাত দুটো পকেটে গলিয়ে দিয়ে টাকার ব্যাগটা বের করলেন, খুললেন, দেখালেন, বিলকুল ফক্কা। তারপর ফের একটা হাত সজোরে সাইড পকেটে ঢুকিয়ে দিলেন আর বের করে আনলেন কিছু খুচরোখাচরা।
“ষাট সেন্টাভোস।”
“যাচ্চলে, আমরা তো জানি আমেরিকানরা সব ইয়া বড়লোক হয়।”
“ধুস, বড়লোক আর হতে পারলুম কই।”
“উঁহু, হতেই পারে না, আপনি আমাদের এতটাই বেকুব ঠাউরেছেন নাকি।”

কর্নেল আঞ্চলিক ভাষাতেই কথা বলে যাচ্ছিলেন, “আ, মোলো যা, আরে আমাদের আমেরিকাতেও যে আপনাদের ফিলিপাইনদের মতো হাড়হাভাতে লোকজন আছে সেকথা কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি।”
“কিন্তু যদ্দুর জানি আপনি তো এয়ারফোর্সের একজন কর্নেল। মাস পেরুলে নয় নয় করেও দু’হাজার পেসোর মতো কামান।”
“এক্কেরে হককথা। টাকাটা কম না। কিন্তু আমার খচ্চাপাতির বহরটাও এট্টু ভেবে দেখবেন। আমেরিকায় বউ আর তিন তিনটে বাচ্চা আছে। আচ্ছা, ছাড়ান দেন, এখানে একবোতল রামের পেছনে কত গচ্চা যায় শুনি?”
“দু পেসো”।
“আমেরিকায় ছ পেসো।”
“সত্যি?”
“আলবাত, তোমাদের বাড়িভাড়ার পেছনে কত মালকড়ি গুঁনতে হয় শুনি?”
“চল্লিশ পেসো।”
“আমাকে দুশ চল্লিশ পেসো – আর সেটাও নেহাত একটা ছোটখাটো বাড়ি। ছাড়টাড়ের কোনও গপ্পো নেই।”
“ঠিক পেত্যয় হচ্ছে না, এমনও হয় নাকি আবার, কেমন জানি গালগল্পের মতো শোনাচ্ছে।”
ভিড়টা স্তব্ধ হয়েছিল। “তোমরা তো দেখছি আমার মানসম্মানের একদম বারোটা বাজিয়ে ছেড়ে দিলে হে”, কর্নেল শান্তভাবে বললেন। “দেখছো, একটা মানুষ খিদের জ্বালায় মরছে, কোথায় তার খাওয়াদাওয়ার চাট্টিখানি ব্যবস্থা করবে সেদিকে কারো খেয়ালই নেই, দিব্যি করে বলছি, এমন ফিলিপিনো আমি জীবনে কখনো দেখিনি।”
কথা খতম হতে না হতেই একজন ফিলিপিনো ভিড়ের ভেতর থেকে চেঁচিয়ে উঠলো, “ও মশাই শুনছেন, চলুন,আপনি আমার বাড়িতে খাবেন।”
“আরে রাখুন তো ওর কথা, আমার বাড়িতে আসুন।”
“দুচ্ছাই, দেখুন, বলছিলুম কী ফুটপাথে আমার না একটা রেস্টুরেন্ট আছে; আপনি আসুন তো, আমার সঙ্গে আসুন।”
শেষমেষ প্রায় জনা দশেক ফিলিপিনোর সঙ্গে, কর্নেল সেখানে গেলেন। তারা ফিলিপিনো রাম ও স্যানমিগুয়েল বিয়ারে ধুয়ে নিয়ে এডোবো, প্যানসিট আর ভাত খেলো; তারপর র্যা গটাইম কিডের হারমোনিকার সঙ্গে প্রাণখুলে কত যে গান গাইলো তার গোনাগুণতি নেই। যখন দুপুরের খাওয়া-দাওয়া চলছিল, পরের শনিবারে আসার জন্য ফিলিপিনোরা তাঁকে আবার নিমন্ত্রণ করল, তিনি অবশ্য নিমন্ত্রণ রক্ষাও করেছিলেন। এবং তারপরের শনিবার আবার। এবং ফের পরের শনিবারেও।
ঠিক এভাবে চলতে চলতে একটা সময়ের পরে, ওই এলাকার লোকেরা আর বিশ্বাস করতো না যে আমেরিকানমাত্রই বড়লোক আর উন্নাসিক হয়। সেই র্যা গটাইম কিড তাঁর মাউথ অরগ্যানে গান বাজাতে বাজাতে শেষপর্যন্ত কীভাবে যে তাদেরই একজন হয়ে গিয়েছিলেন, অথচ তিনি পেশায় এয়ারফোর্সের একজন কর্নেল।
পাহাড় আর ব্যারিওর কমিউনিস্টরা ব্যাপারটার প্রতিবাদ করে; কিন্তু অন্য ফিলিপিনোরা ওসব পাত্তা দেয় নি, এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছিল। তাদের স্পষ্ট কথা, “ওসব ছেলেভুলানো আলতু-ফালতু বুলি আর কপচাবেন না তো আপনারা আমাদের সামনে। হ্যাঁ, সত্যি সত্যি এক আমেরিকান বাবুর দেখা পেয়েছি বটে আমরা, ওনার সঙ্গে খানা-পিনা-গানা কোনওটাই বাদ যায় নি আমাদের। ওনাকে তো এখন এক্কেবারে আমাদের নিজেদের ঘরের একজন লোক বলেই মনে করি আমরা।”
বাস্তবিকই ওই অঞ্চলের ৯৫ শতাংশ বিরোধী ভোট রাষ্ট্রপতি ম্যাগসাইসাইয়ের পক্ষে গিয়েছিল আর ১৯৫৩-র নির্বাচনে আমেরিকার ইতিবাচক ভিত্তিটাও পাকাপোক্তভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত তাদের যিনি নাড়া দিয়েছিলেন তিনি র‍্যাগটাইম কিড ছিলেন না; কিন্তু আবার যদি এর খুব সহজ উত্তর খোঁজা হয়, তবে তিনি ছাড়া আর অন্য কেউই তো নন।

(চলবে)

 

তীরন্দাজ-এ লেখা পাঠাবার ঠিকানা

etterandaz@gmail.com অথবা masud11111@gmail.com

Share Now শেয়ার করুন