উইলিয়ম জে. লেডারার ও উজিন বুর্ডিক >> কদর্য মার্কিন >> তর্জমা : অনিন্দিতা দত্ত ও শান্তনু ঘোষ >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৬]

0
366

পর্ব ৬

এরপর দেখতে দেখতে পাঁচ সপ্তাহ কেটে গেল, কোচিনের মালভূমি যেখানে আসামের পাহাড়ি উপত্যকায় মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, এমন এক জায়গায় একটা ফার গাছের নিচে ফিনিয়ান দাঁড়িয়েছিলেন একা। দৈত্যের মতো দেখতে মহাবৃক্ষটি যেন জংলি মাটি থেকে উঠে আসা জলীয় বাতাস, ঘ্রাণ, আর উষ্ণতাটুকু সমূলে শুষে নিয়ে সটান ওই আদিগন্ত ছড়িয়ে থাকা নীলাভ শ্বেতবর্ণ আকাশের পটভূমিতে অনাবিল স্বাধিনতায় নিজেকে কেমন মেলে দিয়েছে। একেবারে শুরুতেই ছকমাপা যে তিনটে কাজ করতে গিয়ে যতসব ঝামেলা ঝঞ্ছাটগুলো তাঁকে পোহাতে হবে বলে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সেই জঞ্জালগুলোকে মনের আঁস্তাকুড় থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিলেন।
ভয়ানক রক্ত আমশার জের তখনও এঁটুলির মতো তাঁর পিছু ছাড়ে নি, ওজন প্রায় চল্লিশ পাউন্ড কমে গেছে, ফ্যাকাশে মুখে ঘামের ফোঁটাগুলো গড়িয়ে পড়া দেখে মনে হচ্ছিল যেন মাংস ভেদ করে জীবনিশক্তির শেষ অবশেষটুকু নিংড়ে নিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে। বৃহদন্ত্রের হালও যাচ্ছেতাই, মাঝে মধ্যেই প্রচণ্ড ব্যাথা চাগার দিয়ে উঠছিল। একটু আধটু নড়েছেন চড়েছেন কী ব্যাস, পেটের ভেতরে যত নাড়িভুঁড়ি আছে সব যেন একসঙ্গে বিতিকিচ্ছিরিভাবে জড়িয়ে প্যাঁচিয়ে গিয়ে অসহ্য যন্ত্রণার তাড়নায় অসহায় কঁকিয়ে উঠছিলেন। জ্বরে জিভ শুকিয়ে কাঠ, দাঁতের অবস্থা অনেকটা খরখরে চুনাপাথরের মতো। একবার হাড়ের যন্ত্রণা তাঁকে এমনভাবে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছিল, অচেতন বিকারের ঘোরে মনে হচ্ছিল যেন, কেউ মজ্জার বদলে সেখানে সিধে জিলেটিন ঢুকিয়ে দিয়েছে।
শুনতে আশ্চর্য লাগলেও নেটিভদের খাবার ফিনিয়ান তবু কিছুটা খেতে পারছিলেন বৈকি; ওই প্রবল অসুস্থতার সময়েও তাঁর দুর্বল অন্ত্র দু’হাতা ভাত, আধখানা আম আর অপরিশোধিত এক কাপ জল দিব্যি হজম করে ফেলছিল। এটুকু সামাল যে দিতে পারবেন এ ভরসা তাঁর নিজের ভেতরে যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। তিনি জানতেন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তখনও সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেন নি।
আর হ্যাঁ, ফিনিয়ান তাদের ভাষাটাকেও কব্জায় এনে ফেলেছিলেন বটে। তবে চিবিয়ে চিবিয়ে যেভাবে উচ্চারণ করতেন মনে হতো ছেঁনি বাটালি দিয়ে নিরেট গ্রানাইট কাটার কাজ চলছে। এদেশে আসার একেবারে প্রথম দিন থেকেই বার্মিজ ছাড়া অন্য কোনও ভাষা তাঁকে বলতে দেখা যায় নি। যা যা কিছু চোখে পড়তো তার দিকে আঙুলের ইশারা মারফত নামটা জেনে নিতেন। পাতা, গাছ, জল, বড়, ছোট, হাঁটা, লাফানো, ঝাঁপানো, নীচে, পাশে, টিকটিকি, নদী, সমুদ্র, মেঘ, হ্যাঁ, না, আগুন, খাবার, পায়ের পাতা, নাক, মুখ… তিনি আশ্চর্য বোধ করতেন – একটা ভাষা শিখতে গেলে কত যে এমন জরুরি শব্দ লাগে যা না জানলেই নয়। এমনকি যখন রক্ত আমশায় ভুগে ভুগে তাঁর প্রায় যাই-যাই অবস্থা, তখনও হাল না ছেড়ে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। ভাষার ব্যাকরণটা কিন্তু আপনা আপনি দখলে চলে এসেছিল, বিশেষ খাটতে হয় নি, চার সপ্তাহের মধ্যেই সরল বাক্যে কথা বলা শিখে গিয়েছিলেন। জটিল কিংবা কঠিন বাক্যের প্রকাশ কীভাবে করতে হয় সেই চেষ্টার ধারপাশ দিয়েই হাঁটেন নি তিনি। যেখানে জটিল বাক্য প্রয়োগ করাটা নিতান্ত দরকার সেখানেও সাধারণত সরল বাক্যের মাধ্যমে রূপান্তরিত করে ফেলতে পারতেন তিনি এবং এটা অসম্ভব কিছু নয়, অনায়াসে করা যেতে পারে তারা সেটাও তাঁকে বুঝিয়ে বলেছিলেন। এই বার্মিজ ভাষাটাই ছিল একমাত্র সেতু যা তাঁকে ভরসা করার মতো সহযোগী এক নেটিভ জোটানোর ক্ষেত্রে একান্ত সাহায্য করতে পারে।
কপালটা নেহাত মন্দ নয়, একেবারে গোড়াতেই এক বারমিজ ক্যাথলিক জুটে যাওয়াতে বাকি আর পাঁচটা উপযুক্ত ভাল লোকের সুলুক সন্ধান পেতে তেমন বিশেষ কোনও বেগ পেতে হয় নি। সবাইকে যে ক্যাথলিক ধর্মেরই মানুষ হতে হবে এমন গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় দেবার পিছনে কোনও যুক্তির ধার ধারেন নি তিনি; শর্ত একটাই, কমিউনিস্ট-বিরোধী সততা এবং সাহস থাকতে হবে অন্তরে। “চলো, এটা নিয়ে ভাবা যাক”, ফিনিয়ান নিজেকেই বললেন, “ব্যাপারটার একটা ফয়সালা করতে হবে, দ্বিধা-দ্বন্দ্বের হাজার প্রশ্ন আমাকে জেরবার করে ফেলেছে।“
বিশাল ফার গাছটাকে পিছনে ফেলে রেখে সামনে এগোবার জন্য পা বাড়াতে গিয়ে তিনি বলতে গেলে একরকম নিজেকে নিজেই ধাক্কা দিলেন বটে আর সঙ্গে সঙ্গে পেটে ধারালো ছুঁরির ফলা বিঁধে যাওয়ার মতো যন্ত্রণাটা মাথাচারা দিয়ে উঠল। কিন্তু যন্ত্রণা নিয়ে তিনি এখন আর মাথা ঘামাতে রাজি নন, তাঁর আনকোরা নতুন আটজন সহযোগী এসে পড়েছে যখন তাদের জন্য অপেক্ষা তাঁকে করতেই হবে। তাদেরকে নিয়োগ করতে গিয়ে যে অসুবিধেগুলো তৈরি হয়েছিল, এক মুহুর্ত সে সম্পর্কে ভাবলেন। একজন খ্রিস্টান যাজক হিসেবে তাঁর সমস্ত প্রশিক্ষণ, তাঁর যত সতর্কতা, প্রতিটি ব্যবহারিক কলাকৌশল যা ছাড়া তাদের চলবে না চলতে পারে না; এবং আরো মনে পড়ছে, তিনি যখন মারাত্মক অসুস্থ, মরমর অবস্থা, তখনও তাদের খোঁজ খবর নিতে একটুও ভোলেন নি। একেবারে প্রথমেই যিনি, তাঁকে খুঁজে বের করতে গিয়ে কম ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল নাকি, আসল সমস্যা তো সেখানেই, এমন বার্মিজ আর ক’জন পাওয়া যায়, জগতের সমস্ত ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নির্ভেজাল এক মহৎ আত্মার মানুষ। নাম তাঁর, ইউ তিয়েন।
এই ইউ তিয়েন ছিলেন আর্চবিশপের কর্মচারীদেরই একজন, জিপের ড্রাইভার, যাজকের সঙ্গে যাওয়ার জন্য তাকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বাড়ি তার উত্তরে, চীন সীমান্ত থেকে প্রায় পঞ্চাশ মাইলটাক দূর পাহাড়ের কোলে। হ্যাঁ, কোনও ভুল নেই, এই হল সেই জায়গা যেখানে যাজক কাজ করতে চেয়েছিলেন। ইউ তিয়েনের বয়স ৩৯, বিবাহিত, গোটা তিনেক ছানাপোনা আছে এবং জোরগলায় দাবি করে যে সে একজন উৎসর্গীকৃত প্রকৃ্ত ক্যাথলিক। একথাটা বলবার সময় তার মুখে উদ্বেগের কোনও রেখা ফুটে উঠতে দেখা যায় না, সম্পূর্ণ উদাসীন; ফিনিয়ান স্পষ্টতই বুঝতে পারছিলেন, সে মিছে কথা বলছে না। কিন্তু তবুও তিনি ইউ তিয়েনকে ঠিকঠাক যাচাই করে নিতে ছাড়েন নি।
প্রথমটায় করলেন কী, বেশি দূরে নয়, কাছেপিঠেই একটু যেতে হতো, তা সেই সময় ইচ্ছে করে তিনি ইউ তিয়েনের কাছে তাঁর ব্রিফকেসটা রেখে গেছিলেন। পরে ফিরে এসে তিনি যখন ব্রিফকেসটা পরীক্ষা করে দেখলেন, খালি চোখে ঠাহর করা যায় না সরু লিকলিকে প্রায় অদৃশ্য যে সুতোটা কব্জার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ভাঁজ করে রেখেছিলেন, সেটা অবিকল তেমনটাই আছে। সুতরাং এইভাবে তিনি জেনে গেলেন, ইউ তিয়েন অন্তত আর কিছু না হোক একজন সৎ লোক এতে কোনও সন্দেহ নেই।
দ্বিতীয়বার ইউ তিয়েনকে কথায় কথায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি কমিউনিস্টদের সঙ্গে একটা আপস মীমাংসা করে ঝামেলাটাকে মিটিয়ে ফেলতে চান, দেখা যাক যদি তাদের কাছ থেকে মিশন স্কুলগুলোকে আবার খুলবার জন্য অনুমতি পাওয়া যায়। হতেও তো পারে, কমিউনিস্টবিরোধী কোনও কিছুই সেখানে শেখানো হবে না এই শর্ত শুনে তারা বন্ধ স্কুলগুলোকে ফের খুলে দিল। ইউ তিয়েনের মুখ অদ্ভুত ভাবলেশহীন। ফিনিয়ান একটুও না দমে সমানে বলে চললেন, আরে বাবা কমিউনিজম হল গিয়ে রাজনীতি, আর ক্যাথলিক হল ধর্মের ব্যাপার, দুটো কী এক জিনিস, একে অপরের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটির কোনও মানে হয় না। তিনি এও বলেছিলেন ভাল বার্মিজরা যদি সৎ কমিউনিস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন উত্তম ক্যাথলিক হতে চায় তাতে বাধাটা কোথায়। জানি অনেকেই হয়তো ভুল বুঝবেন; তবে একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক একই সঙ্গে ইচ্ছে থাকলে খাঁটি কমিউনিস্ট ও সৎ ক্যাথলিক হতেই পারে। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এসব নিয়ে ইউ তিয়েন আদৌ কিছু ভাবেটাবে কি না?
ইউ তিয়েনের চোখে ব্যাথার নিবিড় ছায়া। অপ্রীতিকর কোনও কথা বলতে যে এশীয়দের মুখে বাধে, ফিনিয়ান জানতেন। শ্রোতারা যে যেমন শুনতে তাদের কাছে আশা করে, মন জুগিয়ে মুখ ফুটে তারা শুধু তাই বলে। ফিনিয়ান কি জানতেন না যে, একজন কমিউনিস্ট এখন কী করতো, কী তার বলা উচিত কী নয় এবং তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের মতামতের সঙ্গে মিলবে কিনা এ নিয়ে নির্ঘাত দোটানায় ভুগতো, সোজাসাপটা জবাব দেওয়ার বদলে ইনিয়েবিনিয়ে এটা সেটা বকে ওই সময়টাকে স্রেফ ল্যাজে খেলিয়ে পার করে দিত। ফিনিয়ান তার কাছে সরাসরি যে প্রস্তাবটা রেখেছিলেন তা হল- শর্তাধীন আত্মসমর্পণ। ইউ তিয়েন জিভ দিয়ে ঠোঁটদুটো একবার ভিজিয়ে নিল।
“খোলাখুলিই বলছি, আপনার এই ধারণাটা আমি কিন্তু ঠিক মেনে নিতে পারছি না” তার মৃদু গলায় বিষণ্ণতার সুর। “আমার মনে হয়, একই সঙ্গে খাঁটি কমিউনিস্ট ও সৎ ক্যাথলিক হওয়াটা কখনওই সম্ভব নয়। আর যাই হোক, আপনি যেভাবে খুশি ধরে নিতে পারেন, আমি হয়তো আপনাকে ঠিক পরিস্কার করে গুছিয়ে বলতে পারছি না, এগুলো ঠিক একসঙ্গে তেলে জলে গুলিয়ে ফেলার মতো ব্যাপার না।” জুতসই শব্দ খুঁজে বের করতে গিয়ে, কিছু সময় ধরে তাকে খানিক মগজ হাতরাতে হল। “অন্য আর কীভাবে যে বুঝিয়ে বলা যায়; দেখুন, একটা রাস্তা যদি ঠিক হয়, তাহলে আরেকটা ঠিক হতেই পারে না। আমার এর চে’ ভাল করে বলার মুরোদ নেই। মাফ করবেন।”
এটাই শেষ পরীক্ষা নয়। এর মধ্যে কয়েকটা নেহাতই সাদামাটা, চটজলদি ধরনের, আর বাদবাকি গোটাকয় ছিল ভারি বিপজ্জনক। শেষ অব্দি, ফাদার ফিনিয়ান যে পরীক্ষাটাকে নির্মম এবং রীতিমতো কলজের জোর লাগে বলে জানতেন অবশেষে সেটাকেও প্রয়োগ করে দেখতে, তাঁর মধ্যে একটুও দ্বিধা বোধ কাজ করল না। ফিনিয়ান গিয়ে হাজির হয়েছিলেন সোজা মোকথুর বাজারে, একটা চামড়ার থলে কিনতে গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। এই বিশেষ ধরনের থলেটার জন্য হন্যে হয়ে চার চারটে দোকানে ঘোরাঘুরি করে প্রতিটি বিক্রেতার কাছে খোঁজখবর নিতে কোনও রকম গাফিলতি করেন নি এবং সবার কাছে তাঁর বক্তব্য একটাই, “একটা পিস্তল আর কয়েক রাউন্ড বারুদ ধরে যাবার মতো আমার একটা থলে চাই, বেশ টেঁকসই হওয়া দরকার কিন্তু। আসলে, এটা আমার ড্রাইভারটার জন্যে কিনে রাখছি, দিনকালের যা অবস্থা, নিজের জিপটাকে ঠিকঠাক টিকিয়ে রাখতে পারলে হয়।”
পরের দিন ইউ তিয়েন দেরি করে কাজে এল। পরের দিন ইউ তিয়েন বেশ খানিকটা দেরি করেই কাজে পৌঁছলো। জিপ নিয়ে হাজির হওয়ার পর দেখা গেল তার চোখ থেকে নীচের চোয়াল অব্দি চামড়ায় বেগনি রংয়ের গাঢ় কালশিটে ছাপ। মুখের একপাশে রক্ত তখনও জমাট বেঁধে আছে। ফিনিয়ান তাকে জিজ্ঞাসা করলেন একি হাল হয়েছে , কীভাবে হল?
“আর বলবেন না, কাল রাতে কমিউনিস্টরা এসেছিল, মারধর করে আমার কী দশা করেছে দেখুন দেখি একবার,” সে বলল। আজব ব্যাপার, ওরা কিভাবে ভাবতে পারল বলুন তো, বলে কিনা আমি নাকি গুলি, পিস্তল কিসব নাকি লুকিয়ে রেখেছি। পাক্কা খবর আছে ওদের কাছে, ওদের চোখে ধুলো দেওয়াটা অত সস্তা নয়। তারপর আর কী, এক্কেবারে খানাতল্লাসি যাকে বলে, ওগুলো খুঁজেখেজে বার করতে গিয়ে ঘরটাকে একেবারে তছনছ করে ছেড়ে দিয়েছে। বলতে বলতে খানিক থামল সে, রাগে তার চোখগুলো দপদপ করে জ্বলছিল। “ওইসব আলোচনা একজন বুঝদার মানুষ হিসেবে আপনি কীভাবে করতে পারলেন, স্যার। আপনার কাছ থেকে ককখোনো এরকম কথাবার্তা আশা করিনি।”
পরক্ষণেই ফিনিয়ান বুঝে ফেললেন, না, আর কোনও উপায় নেই, সিদেসাদা গোবেচারা ভাবটা কাটিয়ে, সত্যিটাকে এবার সামনে আনবার সময় এসে গেছে।
“কথা দিচ্ছি, ইউ তিয়েন, এমনটা আর হবে না,” মানুষটির কাঁধে হাত রেখে তিনি বললেন। “তোমাকে যতটা বাজিয়ে দেখার দরকার ছিল, দেখা হয়ে গেছে আমার। এখন আমরা একে অপরকে জানি। কি করবো বল, আসলে এখানে চারদিকে কোণা-ঘাপচিতে এত সব গুপ্তচর ঘাপটি মেরে আছে যে তোমাকে যাচাই করার জন্যে এছাড়া আমি আর তেমন কোনও রাস্তা খোলা পাই নি। ঈশ্বরের কাজে বিশ্বাস করতে পারি, এমন একজনকে আমায় খুঁজে বের করতেই হত। এবার, আসল চরদের খুঁজে বের করার পালা।”
মাত্র এক সপ্তাহেই ইউ তিয়েন তাঁর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে রীতিমতো কাদের কাদের ওপর ভরসা করলে তাদের ঠকতে হবে না, সে তথ্যটাও জোগাড় করে এনে জানিয়ে দিল। তাদের ভিতরে কেউ কেউ আবার ক্যাথলিক নয়, তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না, কমিউনিস্টদের তারা ঘৃণা করত এই ঢের, আর কেন করত তার কারণ কি সে সম্পর্কে ইউ তিয়েন কিন্তু বিশদে বলতে ভোলে নি।
যাজক বললেন, “হাত গুটিয়ে বসে না থেকে, এবার তাহলে আমাদের কাজটা শুরু করে দেওয়া যাক।“
ইউ তিয়েনকে নিয়ে মোট চারজন, গাছগুলোকে পেরিয়ে আসার সময় তাদের বেশ উত্তেজিত দেখাচ্ছিল, ফিনিয়ানের দিকে ঘাড় নেড়ে সামনাসামনি এসে দাঁড়াল। কোনও কথা না বলে তারা অপেক্ষা করতে লাগল চুপচাপ; এবং মিনিট কয়েক যেতে না যেতেই আরো জনা চারেক লোক পৌঁছে গেল সেখানে। ন’জন মিলে গুড়িসুড়ি মেরে বসে কথা বলা শুরু করল।
ফিনিয়ান ভাবলেন, এতদিনে সূচনা হল তবে। সমস্ত কাজ আর বছরের পর বছর ধরে তাঁর আপামর প্রশিক্ষণ মনে হচ্ছে এখন একটা নির্দিষ্ট লক্ষে এসে পৌঁছাল অবশেষে, যেন কেউ শক্ত কাঠের ওপর অবিরাম পেরেক ঠুকে গেছে এতদিন, আর এখন কেবল কয়েকটা ঘা মারতে পারলেই ব্যাস, কেল্লা ফতে। গভীর এক প্রশান্তিতে মন ভরে গেল তাঁর। শরীরের ক্ষয় তাঁকে ধসিয়ে দিয়েছিল, শরীর জুরে কেমন যেন একটা প্রবল ঝিমুনি বোধ, টালমাটাল অবস্থা। খাবার, ঘুম, ব্যায়াম কোনওটাই তো আর ঠিকমতো হচ্ছিল না, ফলে যা হয়, ক্রমশ হয়ে পড়ছিলেন দুর্বল। তবে আশার কথা একটাই, শারীরিকভাবে ভেঙে পড়লেও মোটের ওপর, মন তাঁর বেশ শক্তসমর্থই ছিল।
এক মুহূর্ত তিনি চোখ দুটো বুঁজলেন, তাঁর শক্তি যেন ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেজন্য ঈশ্বরের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন গভীর ভিতর থেকে, তারপর চোখ খুলে, সেই আটজন বার্মিজের সঙ্গে আলাপ পরিচয় আরম্ভ করলেন যথেষ্ট ধৈর্য বজায় রেখে রয়েসয়ে ধীরেসুস্থে।
“বিষয়টা আমি এককথায় আপনাদের কীভাবে বোঝাবো জানি না,” সুচনাটা এইভাবেই শুরু হল ঢিমেতালে, দীর্ঘ বার বছরের অভিজ্ঞতা কম কথা নয়, সেইসব স্মৃতিচারণাগুলো তরলের মতো বিন্দু বিন্দু ঝড়ে পড়ছিল যেন। “তবে একটা ব্যাপার পরিস্কার করেই বলছি,” তিনি থামলেন কিছুটা। “বর্তমানে রাষ্ট্র কী করছে না করছে তা নিয়ে চার্চের কোনও মাথাব্যাথা নেই। চার্চ বরং মানুষের জীবন ও সত্তার বিভিন্ন অংশ নিয়েই বেশি চিন্তা-ভাবনা করে থাকে – এক তার আত্মার সঙ্গে এবং অন্যটি তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে। এক মহান সন্ত একবার বলেছিলেন যে পাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চার্চের তরবারি যতক্ষণ উমুক্ত থাকবে, ততক্ষণ তা রাষ্ট্রের তরবারিকে কলঙ্কিত করার মতো কোনও কাজ করবে না।”
সেন্ট অগাস্টাইন সামনে থাকলে তাঁর কথাবার্তার ধরনধারন আদপেই মেনে নিতে পারতেন কিনা এ নিয়ে তাঁর মধ্যে একইসঙ্গে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর বিস্ময় উভয়ই কাজ করছিল। “কিন্তু সময় এখন আর আগের মতো নেই, পাল্টেছে। যারা নিজেদের কমিউনিস্ট বলে দাবি করছে তাদের মতে আত্মা ও রাষ্ট্র এক এবং অভিন্ন। তোমার আত্মা আর যত কামনা বাসনা আছে সব সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে কমিউনিস্ট হওয়ার মূল্য তোমাকে কড়ায়গণ্ডায় চোকাতে হবে। পৃথিবীতে তারা তাদের নিজস্ব এক ঈশ্বর নির্মাণ করতে চাইছে।”
তারা তন্ময় হয়ে শুনছিল সব। একটানা দীর্ঘসময় সর্বক্ষণ ঘাড়ের কাছে মৃত্যু আর হিংস্র ভয়ের ঠান্ডা কঠিন হিম স্পর্শ তাদের একটু হাঁফ পর্যন্ত ফেলতে দেয়নি। ওরা নরমসরম কথায় ভুলবার বান্দাই নয়। ব্যাপারটা যতই ঘোরালো হোক না কেন, বাস্তবটাকে চিনে নিতে তাদের তেমন কোনও অসুবিধে হত না।
“প্রথমেই ঠিক করতে হবে আমরা আসলে কী চাই, যে-কোনও সিদ্ধান্ত হোক না কেন বেশ ভেবেচিন্তে ঠান্ডা মাথায় নেওয়া দরকার, সাবধান, একটুও ভুলচুক যেন না হয়। পদক্ষেপ যতই ছোটখাট হোক না কেন, সবার আগে সে বিষয়ে আমাদের একমত হতে হবে, একথাটা মনে থাকে যেন,” ফিনিয়ান বললেন। তারপর তিনি তাদের সাফ জিজ্ঞেস করে বসলেন, “আচ্ছা বলুন তো দেখি, আমরা কী করতে চাই?”
বলাই বাহুল্য, এক অদম্য রোমাঞ্চে সবাই ফেটে পড়ছিল যেন। চাপা উত্তেজনায় ঠাসা একটুকরো সময় থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে বলে মনে হল। প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই স্পষ্টত মাথাচারা দিয়ে উঠছিল একটা নতুন কিছু করার ইচ্ছা, জন্ম নিচ্ছিল এক অনবদ্য আকাঙ্ক্ষা।
মুখ না তুলেই প্রশ্ন করল ইউ পিউ, “বেশ, আপনিই বলে দিন তবে, কী করতে হবে আমাদের?”
ফিনিয়ান টের পেলেন, পরিস্থিতি খুব একটা সুবিধের ঠেকছে না, যে করেই হোক তাঁকে ব্যাপারটাকে সামাল দিতেই হবে। তিনি এও বুঝতে পারলেন, ইউ পিউ আসলে তাকে পরীক্ষা করে দেখে নিতে চাইছে।
“এটা তো আমার একার বলবার কথা নয়”, ফিনিয়ান পরিস্কার জানিয়ে দিলেন। “সবাই যা ঠিক করবে তাই হবে। দেশটা তোমার, তোমার আত্মা, তোমার জীবন। তোমরা যেটাতে একমত, সন্দেহ কোরো না, আমি সেটাই করব।”
সূক্ষ্ম, কী আশ্চর্য সূক্ষ্মতায় ঘটনাটা গড়িয়ে চলেছে তা চোখে দেখে বিশ্বাস হবে না, দলটা এখন যেন অবিশ্বাস্যভাবে আরো সুঠাম আরো ঋজু। কাঠি আর জঞ্জাল নিয়ে খেলতে থাকা হাত আকস্মিকভাবে স্তব্ধ হয়ে গেল; পিঠগুলো এবার টানটান সোজা। অবাক বিস্ময়ে মাথা তুলে তাকাল ফিনিয়ানের দিকে। তাদের দেহের ভাষায় সংকল্পের যে দৃঢ়তা ফুটে উঠতে দেখা গেল ফিনিয়ানের পক্ষে তা পড়ে ওঠা পুরোপুরি সম্ভব হল না বটে, তবে, আন্দাজ করতে পারলেন ঠিকই।
এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই তাঁর, হ্যাঁ, এই প্রথম একজন সাহেব-সুবোগোছের শাদা মানুষ তাদের মতো কালা আদমিদের নিজের মুখে বলছে যে কোনো বড়সড়, গুরুত্বপূর্ণ পথ বেছে নেওয়ার অধিকার আর কারো নয়, বরং শুধুমাত্র এইসব মানুষদের নিজেদেরই হাতে… আর ফরসা চামড়ার লোকটা কিনা তা মেনে নিয়ে পালন করবে, অবিশ্বাস্য ঘটনা।
“পেল্লায় মাপের ব্যাপার নাকি রে বাবা? তাহলে এর একটা কিছু নামটাম রাখতে পারলে দারুণ হতো, তাই না?” কোমল স্বরে বলল এক ব্যক্তি, তার মন প্রশ্নটার চারপাশে অনবরত পাক খেয়েই চলেছে। “আসলে, আমাদের একটা ইয়াব্বড় ইচ্ছে আছে, সেটা হল, আমাদের সব কটা লোকজন ক্যাথলিক হয়ে যাক।”
জবাব শুনে ফিনিয়ানের হাবভাবে কিছু বোঝা যাচ্ছে কিনা কোনও কোনও বার্মিজ আবার চোখ ঠারিয়ে বুঝবার চেষ্টা করল, কিন্তু সে দুধে চোনা, তাঁর মুখের আদলে কোনও পরিবর্তন ধরা পড়ল না। শরীরের ব্যাথাটা তাঁকে আবার অকথ্যভাবে পেঁচিয়ে ধরলেও, মুখ দেখে তা বুঝবার উপায় নেই। যে কোনও বারমিজের থেকে তিনি যে বড় বেশিরকমের ঢ্যাঙা ও ঢ্যাপসা আকারের ছিলেন সেতো তাঁর কাছে অজানা ছিল না, একটু কষ্টেসৃষ্টে তাদের মতো করে নুয়ে ঝুঁকে বসে পড়াটাই এখন বাকি সব কাজের থেকে বেশি জরুরি বলে মনে হয় তাঁর।
“না, এখানে মনে হয় একটু ভুল করে ফেলছি আমরা, এমনটা কখনও ধরে নেবেন না যে ওই মহৎ জিনিসটা অর্জন করাই আমাদের শেষ লক্ষ্য”, ইউ তিয়েন বলল। সে ধীরে সুস্থে সাবধানে যতটা পারল একদম সঠিক শব্দগুলো বেছেবুছে নিয়ে বলতে শুরু করে দিল, “আমাদের মধ্যে কেউ যদি বৌদ্ধ হয় কিংবা ধরে নিন তিনি একজন অ্যানামিস্টই হোন না কেন তাতে কিছু যায় আসে না। অথবা মেথডিস্ট কিংবা ব্যাপ্তিস্ট এমনকি নাস্তিক হলেও কোনও ক্ষতি নেই। মনে রাখবেন, কমিউনিস্টরা আসার আগে যারা আমাদের মধ্যে ছিলেন তারা কিন্তু ব্যক্তির স্বাধীন পুজাপাঠে বা ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানদের পরিচালিত করতে নিষেধ করেনি কখনও। কিন্তু কমিউনিস্টরা স্তালিন, লেনিন, মাও ছাড়া অন্য কারো স্তুতি প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে কমিউনিস্টরা প্রত্যেককে নিয়ন্ত্রণ করে, তা হল প্রত্যেককে একটাই ব্যাপারে বিশ্বাস করতে হবে এবং সেটা হল : কমিউনিজম।”
আবার কয়েক মুহুর্ত ফের বিশুদ্ধ নীরবতা, কারণ উচ্চারিত কথাগুলো ততক্ষণে মানুষগুলোর মনে ভাবনা-চিন্তার ঝড় তুলে দিয়েছে।
“ইউ তিয়েন ভুল কিছু বলে নি,”, একজন বার্মিজ বলল। “এই তো আমি একজন ক্যাথলিক, কিন্তু তার মানে সবাইকে যে ক্যাথলিক হতেই হবে এর কোনও মানে আছে কী । এর মানে, আমি মনে করি, এমন একটা দেশ আমরা চাই যেখানে মানুষ তার পছন্দ মতো যে কোনও ঈশ্বরকে পুজো করতে পারবে, মন প্রাণ খুলে হৃদয় থেকে বাঁচার মতো করে বাঁচতে পারবে। আমার মনে হয় এইটাই শেষ পর্যন্ত ওই মহৎ জিনিস হয়ে উঠবে।”
আলোচনা থেমে যাওয়ার তেমন কোনও লক্ষণ তো দেখাই গেল না, বরং উল্টে মাঝেমধ্যেই অনেক সময় তা বেশ গরম হয়ে উঠছিল। দু’একবার বারমিজরা ফিনিয়ানের দিকে তাকালেও তিনি মুখটা প্রায় অন্যদিকে ফিরিয়েই রইলেন। শেষে তারা ইউ তিয়েনের সঙ্গে সন্ধিতে এল।
“তোমরা চাইলে, তোমাদের বক্তব্যগুলো একটু সাজিয়ে গুছিয়ে অল্পকথায় বলবার চেষ্টা করতে পারি ”, ফিনিয়ান বললেন। “খেয়াল করুন, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় ব্যাপারটা কী দাঁড়াল তাহলে, আপনারা এমন এক দেশ চাইছেন যেখানে প্রত্যেকে তার ইচ্ছেমতো পূজো-আচ্চা করতে পারে, স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে নিজের মতো করে।” তারপর অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি এও বললেন, “এখানে আমার দিক থেকে ব্যাপারটা মেনে নেওয়া না-নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না, তবে এটা বলতে বাধা নেই, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।”
বার্মিজদের মুখে উজ্জ্বল এক আশার আলো খেলে গেল, সাফসুতরো করা ভিজে স্যাঁতসেঁতে জায়গাটা যেন উঁচু হাসির শব্দে ফেটে পড়ল। সবাইকে ছাপিয়ে ইউ পিউ-র উচ্ছাস ছিল সত্যিই দেখার মতো, নিজেকে আটকাতে না পেরে আনন্দের চোটে সে তো সশব্দে দুহাতে তালি দিয়ে উঠল। অবাক কাণ্ড, পাঁচ সপ্তাহে এই প্রথমবার, ফিনিয়ানের রক্ত আমশার বিষম যন্ত্রণাটা কোথায় জানি উধাও হয়ে গেছে বলে মনে হল।
“দেখো, এর পরের কাজকর্মগুলো এর থেকে অনেক বেশি জটিল, বেশ চিন্তাভাবনা করে এগোতে হবে”, শান্তভাবে বললেন তিনি। “এর জন্য চাই নির্ভেজাল সততা, আরও তথ্য, খোঁজখবর দরকার আর চাই ধৈর্য ধরে চিন্তা করার অভ্যেস। বিষয়টা খুলেই বলছি আপনাদের- আমরা এখন যেমন চাইছি তেমন করে বেঁচে থাকার কিংবা পুজো করার সামান্য স্বাধীনতাটুকুও নেই কেন? এর কি জবাব দেবেন আপনারা?”
“কারণ কমিউনিস্টরা করতে দেয় না”, ওদের মধ্যে একজন খুব দ্রুত, প্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠল। “ওরা চার্চগুলো সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়, যারা ইউ নু’র রাজনীতি অনুসরণ করে তাদের পিটিয়ে আস্ত রাখে না; কনফেসব ও কনফার্মেসন( খ্রিস্ট-ধর্মীয়) নিয়ে টিটকিরি মারতে ছাড়ে না। কমিউনিস্টরা আমাদের সমস্ত স্বাধীনতা বানচাল করে দিয়েছে।”
“কিন্তু মুশকিলটা হল, কমিউনিস্টরা একতরফা যা খুশি বকে যাবে আর মাথা নিচু করে বার্মিজরা বিনা প্রশ্নে সেগুলো মেনে নেবে, কেন তা জানতে পারি কী?” ফিনিয়ান শান্তভাবে প্রশ্ন করেন। “একটা সময় ছিল যখন কমিউনিস্টদের হাতে গোনা যেত। আর আজ তারা বিষাক্ত ছত্রাকের মতো ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে, কত জায়গা যে স্রেফ হাতের তালুতে নাচাচ্ছে, ভাবা যায়। আরে তারা তো আপনাদের মতোই বার্মিজ নাকি এতেও সন্দেহ আছে কিছু। তাহলে, কমিউনিস্টরা আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছে- একথা কীভাবে আপনারা বলতে পারেন। কেন, কিসের দায়ে আমরা নিজেদের স্বাধীনতা তাদের হাতে তুলে দিয়েছি, উত্তর দিতে পারবেন আমাকে।”
“কমিউনিস্টদের ওপর চোখ বুঁজে ভরসা করে এমন লোকজনের অভাব নেই এখানে, আমার তো এটাই মূল কারণ বলে মনে হয়”, উত্তর দিল ইউ পিউ।
“কিন্তু তারা এমন করে কেন, কারণটা কী?” কেমন যেন এক অবাধ্য একগুঁয়েমি নিয়ে প্রশ্ন করলেন ফিনিয়ান, তাঁর শরীরী ভঙ্গিমায় পরিস্কার, তিনি উত্তর দেবার কোনও চেষ্টা করবেন না।

 

পূর্ববর্তী পর্বের (পর্ব ৫) লিংক

https://www.teerandaz.com/%e0%a6%89%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%ae-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ac-5/

Share Now শেয়ার করুন