এইসব সোনালি শব্দশস্য >> দ্বিতীয় দশকের নির্বাচিত কবিতা সংকলন >> সিপাহী রেজা >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতাগুচ্ছ >> অতিথি সম্পাদক : সুবর্ণ আদিত্য

0
187

সম্পাদকীয়

দতে সাহিত্যে দশকওয়ারি হিসাবটা নাকচ করে দেয়া যায় না। নানা কারণে এই বিন্যাস হয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও হবে। সেই আলোচনা থাকুক। বাংলাদেশে সদ্যই দ্বিতীয় দশক শেষ করে আমরা তৃতীয় দশকে পদার্পন করলাম। কবিতায় এই দশকের কবিতা, কবিতার সুর, স্বর, কবিতায় যাপন, আচরণ, শব্দ ব্যবহার/গ্রহণ/বর্জন, নির্মাণ, প্রক্ষেপণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং একইসাথে প্রত্যেকের কবিতায় নিজস্বতা আছে। ব্যাপকভাবেই আছে। সেই সুত্র ধরেই বলা যায়, এই দশকের কবিরা বিশিষ্টতা অর্জন করতে যাচ্ছে। কী অর্থে বিশিষ্ট, তা হয়তো তর্কযোগ্য বিষয়। আমরাও চাই এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হোক। করোনাদূর্যোগ হওয়াতে সংখ্যাটি অনলাইনে করতে হলো এবং এমন কাজ অনলাইনেও এটাই প্রথম। হয়তো আজকের এই সংখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যাবে সমকালের বিচরণ। দেখা যাবে কারও কারও গন্তব্যও। এমন অভিপ্রায় নিয়েই এই সংকলন। তাছাড়া দ্বিতীয় দশকের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংকলনও নাই যা পরিপূর্ণভাবে এই দশকের আয়না। সংকলন করতে গিয়ে ভালো কবিতার ভিত্তিতে কবিকে বাছাই করা গেছে। কাজটা কঠিন ছিল। পঁচিশ জন কবির স্বনির্বাচিত পাঁচটি করে কবিতা দিয়ে সাজলো সংকলনটি। তালিকাটা ৩০ হলেও হতে পারতো, কয়েকজন স্বেচ্ছায় অন্তর্ভুক্ত হননি আর কয়েকজনকে আদর্শগত অবস্থানের কারণে বাদ দিয়েছি। তীরন্দাজে ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’ শিরোনামে এই অনলাইন সংখ্যাটি আমাজন থেকে পিডিএফ সংস্করণ করতে যাচ্ছি, কয়েকটি ভাষায় অনূদিতও হবে। গ্রন্থাকারেও আসবে আরেকটি সংখ্যা, বড় পরিসরে। যারা এই সংখ্যায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা তাদের কবিতার জন্যই হয়েছেন। আমরা আনন্দিত তাদেরকে যুক্ত করতে পেরে। এমন একটি কাজ করতে পারা তৃপ্তিরও। যারা পাশে ছিলেন, একটু দূরে ছিলেন, কিংবা ছিলেন না – সবাই ভালোবাসার মানুষ। পৃথিবীর সূচনা থেকে আমরাই হেঁটে যাচ্ছি এক সত্তায়, আমাদের গন্তব্য একটাই, আমাদের মিছিল একটাই। লক্ষ্যও অভিন্ন। কবিতার জয় হোক।
সুবর্ণ আদিত্য
অতিথি সম্পাদক
বাংলাদেশের দ্বিতীয় দশকের কবিতা সংকলন : ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’
তীরন্দাজ
ঢাকা
১০ জানুয়ারি ২০২১

কবিতাগুচ্ছ

মৃত্যু

আজকাল। মৃত্যু…
যেখানে সেখানে,
মনের ভেতরকার ভয়ের রাস্তাটা ব্লক করে দিয়ে
একটা টঙ্গের দোকান, গ্যাসলাইট হয়ে ঝুলছে।
চলতে ফিরতে খানিক দূরে দূরেই মৃত্যু।

আর হারতে পারব না!
পিছনের দেয়ালটা হেরে যেতে যেতে হঠাৎ আমার পিঠের সাথে এসে ঠেকল। দেয়ালটা কি এখন ঘুরে দাঁড়াবে? ঘুরে দাঁড়ালে তো আমার পিছনে দেয়াল বলে আর কিছু থাকবে না! তাহলে কিছুদিন পর আমি কীসের সাথে গিয়ে ঠেকবো? আমারও তো হেরে যাওয়ার একটা লিমিট থাকতে হবে…!

নিজের বলে চালিয়ে দিলাম

প্রথমবার
মরা মাছের চোখ নিয়ে আমি ক্রমাগত ডাঙায় লাফাই। আঁশটের শরীর, কাঁটা কাঁটা লোম, পরতে পরতে ছাই মেখে আমিও ধরা ছোঁয়ার মধ্যে। আমি অর্ধেক মানুষ তার অর্ধেক কৈ মাছের প্রাণ! সচারচর ভুল হয় দুপুরের দিকে যখন গোটা কয়েক ক্ষুধা মেরে ফেলি বড়শি গিলে।

দ্বিতীয়বার
অনেকদিন ধরে মাথার মধ্যে একটা বুলেট আটকে আছে, ঠিক মগজ ঘেঁষে! ভাবা ভাবিতে খুব জ্বালা-পোড়া হয়, খচখচ শব্দ হয় ব্রেনে। ব্যথা জুড়াতে জলের কাছে যাই, বৃষ্টির কাছে যাই, মাথা কাঁত করে দাঁড়িয়ে থাকি, মনে মনে ভুলে যাওয়া দোয়া আওড়াই তাতে আর কী হয় উল্টো বুলেটের গা বেয়ে আরও কিছু জ্বালা – রক্তে, পানিতে মিশে ব্যথাগুলো বেদনা ছড়ায়। চিলিক দিয়ে ওঠে বার বার… মেমোরির বিশেষ জায়গা জুড়ে এখন ছোট্ট বুলেট যার দেয়াল ফেটে ছড়ায় ফুলের ঘ্রাণ, ধুতরার ঘ্রাণ…

সর্বস্ব

ঘাপটি মেরে পড়ে থাকা অন্ধকার গলির ভেতর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসা এক রিভলভার আর তার নলের ভেতর জমাট অন্ধকার ঠাসা বুলেটের ভয় – যে আমার দিকে তাক করে ধরে ছিল সে যুবকের চোখেমুখে তেমন কোন তাড়া ছিল না কিন্তু আমার ছিল, তাই সব বের করে দিতে গিয়ে জানলাম তার আর কিছু নয়, চাই আমার পায়ের তলার মাটি।

মাপজোক

আমি একটা খুন করেছি। ক্রিয়ার কলাপ ঘুরিয়ে দিয়ে প্রেম করেছি খুনের সাথে। চোরা খুনির চোখের ফিতায় মেপে দেখেছি আমার শরীর। পরিমাপটা কাউকে বলিনি, বলব কাকে? অ্যাভারেজে সব সমান সমান।

কবিতাভাবনা

কবিতা কেন লিখি তার উত্তর আমার কাছে পরিবর্তনশীল। এখন যেমনটা মনে হচ্ছে অতীতে তেমনটা মনে হয়নি, ভবিষ্যতে বর্তমানের চিন্তাটা রয়ে যাবে কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে বাইরে ঝুম বৃষ্টির পর আবার রোদ উঠেছে। এখন এককাপ চা খেলে যেমন ভালো লাগত ঠিক এমন ভালো লাগা থেকেই হয়ত কবিতা লিখি।

সিপাহী রেজা : পৈতৃক বাড়ি পাবনা, ছোট থেকে ঢাকায় বেড়ে উঠতে উঠতে এখনও ঢাকাতেই অবস্থান। ইমেইল : sipahi.rez@gmail.com
ফোন: ০১৭৯৪৬৯১৮৭৮।

++++

আপনি এই লেখাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক ভিজিট করুন।