এইসব সোনালি শব্দশস্য >> দ্বিতীয় দশকের নির্বাচিত কবিতা সংকলন >> নুসরাত নুসিন >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতাগুচ্ছ >> অতিথি সম্পাদক : সুবর্ণ আদিত্য

0
403

নুসরাত নুসিন >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতাগুচ্ছ

সম্পাদকীয়

আদতে সাহিত্যে দশকওয়ারি হিসাবটা নাকচ করে দেয়া যায় না। নানা কারণে এই বিন্যাস হয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও হবে। সেই আলোচনা থাকুক। বাংলাদেশে সদ্যই দ্বিতীয় দশক শেষ করে আমরা তৃতীয় দশকে পদার্পন করলাম। কবিতায় এই দশকের কবিতা, কবিতার সুর, স্বর, কবিতায় যাপন, আচরণ, শব্দ ব্যবহার/গ্রহণ/বর্জন, নির্মাণ, প্রক্ষেপণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং একইসাথে প্রত্যেকের কবিতায় নিজস্বতা আছে। ব্যাপকভাবেই আছে। সেই সুত্র ধরেই বলা যায়, এই দশকের কবিরা বিশিষ্টতা অর্জন করতে যাচ্ছে। কী অর্থে বিশিষ্ট, তা হয়তো তর্কযোগ্য বিষয়। আমরাও চাই এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হোক। করোনাদূর্যোগ হওয়াতে সংখ্যাটি অনলাইনে করতে হলো এবং এমন কাজ অনলাইনেও এটাই প্রথম। হয়তো আজকের এই সংখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যাবে সমকালের বিচরণ। দেখা যাবে কারও কারও গন্তব্যও। এমন অভিপ্রায় নিয়েই এই সংকলন। তাছাড়া দ্বিতীয় দশকের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংকলনও নাই যা পরিপূর্ণভাবে এই দশকের আয়না। সংকলন করতে গিয়ে ভালো কবিতার ভিত্তিতে কবিকে বাছাই করা গেছে। কাজটা কঠিন ছিল। পঁচিশ জন কবির স্বনির্বাচিত পাঁচটি করে কবিতা দিয়ে সাজলো সংকলনটি। তালিকাটা ৩০ হলেও হতে পারতো, কয়েকজন স্বেচ্ছায় অন্তর্ভুক্ত হননি আর কয়েকজনকে আদর্শগত অবস্থানের কারণে বাদ দিয়েছি। তীরন্দাজে ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’ শিরোনামে এই অনলাইন সংখ্যাটি আমাজন থেকে পিডিএফ সংস্করণ করতে যাচ্ছি, কয়েকটি ভাষায় অনূদিতও হবে। গ্রন্থাকারেও আসবে আরেকটি সংখ্যা, বড় পরিসরে। যারা এই সংখ্যায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা তাদের কবিতার জন্যই হয়েছেন। আমরা আনন্দিত তাদেরকে যুক্ত করতে পেরে। এমন একটি কাজ করতে পারা তৃপ্তিরও। যারা পাশে ছিলেন, একটু দূরে ছিলেন, কিংবা ছিলেন না – সবাই ভালোবাসার মানুষ। পৃথিবীর সূচনা থেকে আমরাই হেঁটে যাচ্ছি এক সত্তায়, আমাদের গন্তব্য একটাই, আমাদের মিছিল একটাই। লক্ষ্যও অভিন্ন। কবিতার জয় হোক।

সুবর্ণ আদিত্য
অতিথি সম্পাদক
বাংলাদেশের দ্বিতীয় দশকের কবিতা সংকলন : ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’
তীরন্দাজ
ঢাকা
১০ জানুয়ারি ২০২১

নুসরাত নুসিন >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতাগুচ্ছ

শ্বাসবন

ভাবছি, যেকোনো নাম ধরে ডাকলেই ফিরে আসবে। শ্বাসবনের
কাছে লুপ্ত বনের ছবি।

নিনিত ও মাধব অথবা কেবলই রুবেদ — এরকম ডাকনামে ফিরে
আসি যদি ফুটে উঠবে গন্ধের শালফুল? হারানো হারমোনি?

সন্তরণের বাদল কেবল রূপরেখা খোঁজে। ধরে আনে লুপ্ত বনের প্রীতি।

একশত সাপ, আমার অরণ্যেরোদন

আর শব্দ না করি, আলাপের দিকে ছুড়ে না দেই বিষম বিস্তৃতি —
কেবলবাজুক এই উৎকৃষ্ট ভায়োগীত। আর মর্মান্তিক সাপবেলা।
আমার দুঃখ নমরুদ।

দেরি হোক ক্ষতি নেই — আরো খাণিক বেজে যাক রু রু।
শব্দের ভেতরের ডাকিনি রুধির।

তুমি কল্পনা করো ম্যাজিক মোমেন্ট

সত্যি বলছি, কলসুরে আমি আর নাই। এই সুরা ও সুরপথ ভ্যাপসা ঋতুকাল।
তুমি কল্পনা করো ম্যাজিক মোমেন্ট, গরমকাল। আমি কদাচিৎ হেঁটে যেতে চাই।

সম্মুখে ঋতুপরিবর্তন
সম্মুখে পতন
সম্মুখে খেলা
সম্মুখে আমি আর নাই।

ঋতুপরিবর্তনের কালে পাতারা জানে বদল, প্রণয়ে মৃত্যুর প্রক্রিয়া।

একশত চুমুর লণ্ঠন

যেটুকু আয়ত্বে এলো তার প্রণোদনা ও তরঙ্গ আমার।
দূরগমন। দূরব্যঞ্জন। একশত চুমুর লণ্ঠন!
কে অধিক?

এই যে একতারা
এই যে ছায়াধারণা

উহ্য মুদ্রা — এ কেবল আক্রমণ।

তরুণী ডাহুকি

ধাওয়া খাওয়া মাছির মতো বিষম ক্লান্তি — হাড়জুড়ে। অন্ধ প্রতিপালকের দেশ — বিভীষিকা আছে।
ভাটির মাটির টানে নদী নেমে গেছে। গুরুবেশে মূলাধারে কামনা — সে থাকে দুধের রুধির মতো।

পৃষ্ঠতায় ক্ষয় হলো অগভীর ধারা — একশত ভাষা। প্রীতি ও প্রত্যুষের যপে
তলপেটে লুকানো শৃঙ্গার। সে তো অন্ধপ্রতিপালক — চোখে চোখে বিফল।

কয়েন ছুঁড়েছে তরুণী ডাহুকি। আছে সে ফলের নিভৃতে।

নুসরাত নুসিন : জন্ম দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১৯৯০ সালে। রাজশাহীতে বসবাস করেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস। ইমেইল : nushinnushrat@gmail.com

Share Now শেয়ার করুন