কামরুল হাসান অনূদিত >> আরও একটি দিনের জন্যে >> মিচ আলবম >> ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব ৫)

0
473

পর্ব ৫

সেই সময় যখন আমার মা আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন

আমার বয়স তখন পাঁচ। মা আর আমি ফানেলি মার্কেটের দিকে হেঁটে যাচ্ছি। স্নান করার পোশাক জড়ানো একজন প্রতিবেশী মহিলা তার বাড়ির দরোজার পর্দা সরিয়ে মাকে ডাক দিলেন। তার মাথায়  ছিল চুলে ঢেউ তোলার গোলাপি রিং। তারা যখন কথা বলছিলেন, আমি বাড়িটির পেছনটায় ঘুরতে যাই।
হঠাৎ, জানি না কোথা থেকে, এ্কটি জার্মান শেফার্ড কুকুর আমার দিকে তেড়ে এলো। ওয়াওওয়াও! একটি রশি দিয়ে কুকুরটা বাঁধা ছিল। ওয়াওওয়াও গর্জন করছিল।! কুকুরটি পেছনের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে, রশিটাকে যতদূর লম্বা করা টানা যায়, সেইভাবে টেনে ভয়ঙ্কর আওয়াজ করছিল। ওয়াওওয়াও!
আমি ঘুরেই ভোঁ দৌড়! আমি আতঙ্কে চিৎকার করছিলাম। মা আমার দিকে ছুটে এলেন।
“কী হয়েছে?” আমার বাহু ধরে তীব্রস্বরে জিজ্ঞেস করলেন। “বলো, কী হয়েছে?”
“একটা কুত্তা!”
মা দীর্ঘশস ফেললেন, “কুকুর? কোথায়? এখানেই?”
আমি কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়লাম।
মা বাড়িটির পাশ ঘুরে আমাকে পেছনে নিয়ে গেলেন। কুকুরটা ওখানেই ছিল। সেটা ফের গর্জন শুরু করল। ওয়াওওয়াও ওয়াওওয়াও। আমি লাফ দিয়ে পেছনে সরে এলাম। কিন্তু মা আমাকে হ্যাঁচকা টান দিয়ে সমুখে নিয়ে এলেন। আর তিনি কুকুরটিকে অনুকরণ করে কুকুরের স্বরে আওয়াজ করতে লাগলেন। তিনি কুকুরটির ডাক হুবহু নকল করে গর্জন করতে লাগলেন। আমার মায়ের মতো অমন সুন্দর করে অবিকল কুকুরের ডাক দিতে আর জন্মে আমি শুনিনি।
র্জামান শেফার্ডটি ঘ্যানঘ্যান করতে করতে বিনত হলো । মা ফিরে এলেন।
“চার্লি, তাদেরকে তোমার দেখিয়ে দিতে হবে কর্তৃত্ব কার হাতে,” মা বললেন।

(চিক বেনেটোর জিনিষপত্রের ভিতর পাওয়া একটি নোটবুকে লেখা তালিকা থেকে)

চিক তার পুরোনো বাড়িতে ফিরে এলো

ইতিমধ্যে দিগন্তে  প্রভাতসূর্য উদ্ভাসিত হয়েছে আর আমাদের পুরোনো প্রতিবেশের বাড়িগুলোর ভেতর তা যেন আমার কাছে একটি বেসবল মাঠের পাশর্বর্তী পিচ হয়ে এলো। আমি আমার চোখ ঢাকলাম।  সেটা ছিল অক্টোবরের শুরু, সেখানে ইতিমধ্যেই বেড়ার গায়ে ঠেসে রাখা ঝরাপাতার স্তূপ জমে উঠেছিল। গত হেমন্তে যত পাতা দেখেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি পাতা, ফলে আকাশ  দেখার জন্য জায়গা ছিল স্বল্প। আমার মনে হয় আপনি যখন কিছুদিন নিজের বাড়িতে থাকবেন না, তখন ফিরে এসে যে জিনিসটি বেশি চোখে পড়বে তা হলো আপনার স্মৃতিকে ঘিরে ইতিমধ্যে কত গাছপালা যে বেড়ে উঠেছে।
পেপারভিল বিচ। আপনি কি জানেন কীভাবে এই নামটি এলো? এটা বেশ বিব্রত করার মতোই ঘটনা। কয়েক বছর আগে কয়েকজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাকে করে বালু এনে ফেললেন একটি বিচ বানাতে, তারা ভেবেছিলেন বিচ থাকলে শহরটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে, যদিও এখানে কোন সমুদ্র নেই। তাদের একজন পরে চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হয়েছিলেন আর তিনি ক্ষমতা খাটিয়ে শহরটির নাম বদলে ফেললেন – পেপারভিল হলো পেপারভিল বিচ – যদিও ঘটনা হলো আমাদের বীচে একটি শিশুদের দোলনা, একটি গড়িয়ে নামার স্লাইড আর একডজন পরিবার বসার মতো পর্যাপ্ত লম্বা জায়গা ছিল মাত্র। এরপরে বসতে গেলে হয়তো অন্য কারো তোয়ালের উপর গিয়ে বসতে হবে। আমরা যখন বড়ো হয়ে উঠছিলাম এটা আমাদের কাছে অনেকটা কৌতুকের মতো ছিল – “হে, তুমি কি বিচে  যেতে চাও?” অথবা  “ওহে, আমার কাছে আজকের দিনটিকে মনে হচ্ছে বিচে যাওয়ার জন্য আদর্শ” –  কারণ আমরা জানতাম আমরা কেউ কাউকে বোকা বানাচ্ছি না।
সে যাই হোক, আমাদের বাড়িটি ছিল লেকের কাছে – তার মানে “বিচের কাছে। মা মারা যাওয়ার পরে আমি ও আমার বোন বাড়িটিকে রেখে দিই, কেননা মনে হয়, আমরা আশা করেছিলাম বাড়িটি কোনদিন হয়তো মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। সত্যি কথা বলতে কি, বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার মতো সৎসাহস আমার ছিল না।
আমি এখন আমার বাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছি, আমার সারা পিঠ পলাতক আসামীর মতো বেঁকে গেছে। আমি দুর্ঘটনার জায়গাটি ফেলে এসেছি, আমি নিশ্চিত কেউ না কেউ আমার গাড়িটি শনাক্ত করেছে, ভাঙচুর হওয়া বিলবোডর্টি ও আমার পিস্তল দেখতে পেয়েছে। আমরা সারা শরীরে ব্যথা, রক্ত ঝরে পড়ছিল, তখনো আমি অর্ধেক ঝলসে আছি। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশের গাড়ির সাইরেন শোনার প্রত্যাশা করছিলাম –  নিজেকে মেরে ফেলার জন্য সেটা ছিল সেই মুহূতের্র সবচেয়ে বড়ো কারণ।
আমি টলমলো পায়ে বারান্দার সিঁড়ির ধাপগুলো অতিক্রম করলাম। একটি ফুলের বাক্সের নকল পাথরের নিচে লুকিয়ে রাখা (এটা আমার বোনের পরিকল্পনা) বাড়ির চাবিটি খুঁজে পেলাম। কাঁধের দুপাশে তাকিয়ে কোনো কিছু দেখতে না  পেয়ে না-পুলিশ, না-লোকজন; –  কোনো দিক থেকেই একটি গাড়ি পর্যন্ত আসছিল না – আমি দরোজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলাম।
বাড়িটি ছিল পুরনো গন্ধযুক্ত, কার্পেট পরিস্কারের পর যেরবকম একটি হালকা মিষ্টি গন্ধ থাকে, সেইরূপ, যেন কেউ (আমাদের বেতনভুক কেয়ারটেকার কি?) সম্প্রতি কার্পেট সাবান দিয়ে ধুয়েছে। আমি বড়ো হলঘরটির আলমারি আর রেলিং, বাচ্চা বয়সে যা গড়িয়ে নামতাম, পার হলাম। পুরনো টাইলসের মেঝে আর চেরিকাঠের কেবিনেটঅলা রান্নাঘরে প্রবেশ করলাম। আমি রেফ্রিজারেটর খুললাম, কারণ আমি অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় খুঁজছিলাম, ততদিনে এটা আমার একটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।
আমি অবাক হয়ে পেছনে সরে এলাম।
ফ্রিজের ভেতর খাবার সাজানো ছিল।
প্লাস্টিকের বাসনকোসন সাজানো। কিছুটা খাওয়া লাসাঙ্গা। সর তোলা দুধ। আপলের রস। রাসপবেরি দই। এক মুহূর্তের মধ্যে আমার ভেতরে এমন চিন্তা এলো, কেউ কি তাহলে বাড়ির ভেতরে এসেছিল, কোনো অবৈধ দখলদার, আর এখন এটা তারই থাকার জায়গা। বাড়িটিকে দীর্ঘদিন অবহেলা করার জন্য আমরা হয়তো একপ্রকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি।
আমি একটি কেবিনেট খুললাম। ভেতরে লিপটন চা আর একবোতল সানকা রাখা ছিল। আমি আরেকটি কেবিনেট খুললাম। চিনি। লবণের ছোট পাত্র। মরিচের গুঁড়ো। পুদিনা পাতা। আমি বাসন ধোয়ার জায়গায় একটি বাটি দেখতে পেলাম, বুদ্বুদের নিচে ভিজছে। আমি সেটাকে তুলে নিয়ে ফের ধীরে নিচে নামালাম, যেন সেটাকে পূর্বস্থানে রাখার চেষ্টা করছি।
এরপর আমি কিছু একটা শুনলাম।
শব্দটা আসছিল উপরতলা থেকে।
“চার্লি?”
আবারও সেই শব্দ!
“চার্লি?”
সেটা ছিল আমার মায়ের কণ্ঠস্বর!
আমি রান্নাঘরের দরোজা ঠেলে বেরিয়ে এলাম, আমার আঙুলগুলো তখনো সাবান পানিতে ভেজা।

সেই সময় যখন আমি আমার মায়ের পক্ষে দাঁড়াইনি

আমি ছয় বছরের বালক। সেদিন ছিল হালোইন। স্কুলে বাৎসরিক হালোইন প্যারেড হচ্ছিল। স্কুলের প্রতিটি বাচ্চা তাদের এলাকার কয়েকটি ব্লক ঘিরে মার্চপাস্ট করবে।
“ওকে একটি কস্টিউম কিনে দাও”,  বাবা বললেন। “ফাইভ অ্যান্ড ডাইম দোকানে হালোইন কস্টিউম পাওয়া যায়।”
কিন্তু না, আমার মা সিদ্ধান্ত নিলেন, যেহেতু সেটা স্কুলে আমার প্রথম প্যারেড, তিনি নিজেই আমার জন্য একটি কস্টিউম বানাবেন : সেটি হবে আমার প্রিয় ভয়পাওয়া চরিত্র মমির কস্টিউম।
মা সাদা কাপড়  ও পুরনো তোয়ালে কেটে, সেসব টুকরো সেফটিপিন দিয়ে জুড়ে আমার সারা গা মুড়ে দিলেন। এরপর তিনি টিস্যু পেপার ও টেপ লাগিয়ে কাপড়ের টুকরোগুলো ঢেকে দিলেন। এটা করতে বেশ অনেকটা সময় লাগলো, কিন্তু মা যখন তার কাজ শেষ করলেন তখন আমি আয়নায় নিজেকে  দেখলাম। আমি সত্যি একটি মমিতে পরিণত হয়েছি। আমি আমার কাঁধ উঁচু করলাম এবং সামনে পেছনে নাড়তে লাগলাম।
“ওওহ! তুমি দেখতে বেশ ভয়ঙ্কর হয়েছ,”  মা বিস্ময়ের সুরে বললেন।
তিনি আমাকে গাড়িতে চড়িয়ে স্কুলে নিয়ে গেলেন। আমরা নির্ধারিত প্যারেড শুরু করলাম। আমি যতই হাঁটি কাপড়ের টুকরোগুলো ততই আলগা হয়ে পড়ে। আমরা কেবল দুটি ব্লক অতিক্রম করেছি, বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। এরপর যতদূর মনে পড়ে, টিস্যু পেপার পানিতে ভিজে গলে পড়তে শুরু করল। কাপড় ঢিলা হয়ে গেল। বেশ দ্রুত সেগুলো আমার হাঁটু, কব্জি ও ঘাড়ে খুলে পড়তে লাগল। আর লোকেরা আমার গেঞ্জি, পাজামা, যেগুলো মা  ভেবেছিলেন আমার ভালো অর্ন্তবাস হিসেবে কাজ করবে, দেখতে পেল।
“চার্লিকে দেখো!” অন্য শিশুরা অভিযোগ করল। তারা হেসে গড়িয়ে পড়ছিল। আমি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছিলাম। মনে হলো অদৃশ্য হয়ে যাই, কিন্তু প্যারেড চলার সময় আপনি পালাবেন কোথায়?
আমরা যখন স্কুলপ্রাঙ্গণে পৌছলাম, তখন সেখানে অভিভাবকেরা ক্যামেরা নিয়ে ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, আমি ভিজে জবজবে, আমার শরীর টুকরো কাপড় আর টিস্যু পেপারের এক কিম্ভুত স্তূপ। আমি প্রথমেই মাকে দেখতে পেলাম। তিনি লজ্জায় ও বিস্ময়ে হাত দিয়ে মুখ ঢাকলেন। আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম।
“তুমি আমার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছ!” আমি চিৎকার করে বললাম।

“চার্লি?”
পেছনের লুকানো অবস্থায় আমার যেটা সবচেয়ে বেশি মনে আছে তা হলো দ্রুত আমার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। একমুহূর্ত আমি রেফ্রিজারেটরের কাছে ছিলাম, তার দরোজার গতির সাথে দুলছিলাম, পরের মুহূর্তে আমার মনে হলো যে আমার হৃৎপিণ্ড এত দ্রুত লাফাচ্ছে যে মনে হলো বেঁচে থাকার মতো অক্সিজেন সে পাবে না। আমি রীতিমতো কাঁপছিলাম। রান্নাঘরের জানালা ছিল আমার পেছনে কিন্তু আমার সাহস হলো না সেটি দিয়ে তাকানোর। আমি আমার মৃত মাকে দেখেছিলাম, এখন আমি তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। এর আগে আমি আমার শরীরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছি, সেই প্রথম মনে হলো আমি আমার মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি।
আমি সেখানে দাঁড়িয়েছিলাম, আমার বুক হাঁপরের মতো ওঠানামা করছিল, আমার চোখ দুটি নিবদ্ধ ছিল সামনের মাটির উপর। ছোটবেলায় জায়গাটিকে বলতাম “পেছনের উঠোন” আর সেটা ছিল একখণ্ড ঘাসে ছাওয়া জমি। আমি ভেবেছিলাম  সেটা পেরিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যাই।
এরপরে দরোজা হাট করে খুলে গেল।
আর আমার মা বাইরে বেরিয়ে এলেন।
আমার মা।
ঠিক ওইখানে। ওই বারান্দার উপর।
এবং মা আমার দিকে ঘুরলেন।
এবং তিনি  বললেন, “তুমি ওখানে বাইরে কী করছো? আজ খুব ঠান্ডা।”
—-     —-   —-
এখন, জানি না, আমি যে লাফটি দিয়েছিলাম সেটিকে ব্যাখ্যা করতে পারবো কিনা। এ যেন গ্রহ থেকে মহাশূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়া। আপনার জানার জন্য আছে সবকিছু আর ঘটার জন্য সবকিছু যেন বিদ্যমান। যখন দুটি বিষয় মিলে না, আপনি তখন যে কোনো একটি বেছে নেন। আমি আমার মাকে আমার সামনে জীবন্ত দেখেছিলাম। আমি পুনর্বার শুনলাম মা আমাকে নাম ধরে ডাকছেন। “চার্লি?” তিনিই ছিলেন একমাত্র মানুষ যিনি আমাকে ওই নামে ডাকতেন।
আমার কী স্মৃতিভ্রম হচ্ছিল? আমার কী তার দিকে এগিয়ে  যাওয়া উচিত? তিনি কী  একটি বুদ্বুদের মতো ছিলেন যা অচিরেই ফেটে যাবে? সত্যি বলছি, সেই সময়ে মনে হলো আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন আমর নয়, অন্য কারো।
“চার্লি?” কী হয়েছে? তোমার সারা শরীর কেটে গেছে।”
মা তখন একটি নীল রঙের ঢিলা ট্রাউজার ও সাদা রঙের সোয়েটার পরে ছিলেন – মাকে মনে হতো সবসময়য়েই ধোপদুরস্ত পোশাক পরে আছেন, সেটা যত সকালবেলাই হোক না কেন – তাকে শেষবার যেমনটা দেখেছিলাম তা থেকে তার বয়স এতটুকু বাড়েনি, তার সেই ঊনাশি বছরের জন্মদিনে। মায়ের চোখে ছিল লাল রিমলেস কাচের চশমা যা তাকে কেউ একজন উপহার দিয়েছিল। মা তার করতল দুটো মৃদুভাবে উপরে তুললেন আর আমাকে চোখের ইশারায় ডাকলেন, আমি ঠিক জানি না, তার ওই  ফ্রেমহীন চশমা, আর গায়ের রঙ, তার চুল, আমি যখন আমাদের বাড়ির ছাদ থেকে টেনিস বল ছুঁড়ে মারতাম নিচে, তখন তিনি যেভাবে পেছনের দরোজা মেলে ধরতেন, সেরকম কী আমাকে মোহগ্রস্ত করেছিলেন। আমার ভেতরে কিছু একট দ্রবীভূত হলো, মনে হলো যেন মায়ের মুখের উত্তাপে। উত্তাপটি আমার পিঠ বেয়ে নেমে এলো। তারপর তা চলে গেল আমার হাঁটুতে। আর তারপর কিছু একটা ভেঙে গেল । আমি শুনলাম বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মধ্যেকার দেয়ালটি ভেঙে পড়ছে।
আমি হার স্বীকার করলাম।
গ্রহ থেকে গড়িয়ে পড়লাম।
“চার্লি?” মা বললেন। “কী হয়েছে?”
আমি তাই করলাম আপনি হলেও যা করতেন।
আমি আমার মাকে জড়িয়ে ধরলাম, এমনভাবে যেন তাকে আর কখনো চলে যেতে দেব না।

[চলবে]

Share Now শেয়ার করুন