কৃষ্ণা রায় >> মন্থন >> জীবনের গল্পস্বল্প >> ছোটগল্পের বিশেষ সংখ্যা

0
310

কৃষ্ণা রায় >> মন্থন

অনেক রাতে ঘুম ভেঙে গেল বিশুবাবুর। রাতে ঘন ঘন হিসি পায়। আয়াটা অঘোরে ঘুমোচ্ছে। এখন বেডপ্যান দেওয়ার জন্য ডাকলেই মুখ ঝামটা দেবে। কটা বাজে এখন? চারপাশে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। নিজের কি আর ওঠার ক্ষমতা আছে! । কত বার ওকে বলেছেন নাইট- ল্যাম্পটা একটু জ্বেলে রাখিস, ভয় করে। আবছা ছেলেবেলার কথা খুব মনে পড়ে এইসময়। কী সব দিন ছিল! মশারি ঠেলে চৌকি থেকে নেমেই এক দৌড়ে লম্বা ঢালা বারান্দা পেরিয়ে যেতে হোত ডুমুর ঝোপের কোণে ঝুপঝুপে অন্ধকার মাখা হিসিঘরে। এক একদিন ঠাকুমা বলত, , রাত বিরেতে নিশি ডাকে। অ্যাকা অ্যাকা ঘরের বাইরে পা-ও রাখস ক্যান বাপ? আমারে ডাক দিলেই হয়। সন্ধ্যেবেলা দুধ-খই খেতে খেতে নাতি- নাতনিদের নিশির গল্প বলত ঠাকুমা। ডাবের খোলার মধ্যে মুখ পুরে নিশি মাঝরাতে ডাক দেয় আর সেই ডাক শুনে যে তার পিছু যাবে তার আর ঘরে ফেরা হয়না।
বিশুবাবুর এখন সাতাত্তর। বেয়াল্লিশ বছরের জীবন সঙ্গী মল্লিকা হঠাৎ চলে যাওয়ার পর এখন দিনভর আয়ানির্ভর বন্দী জীবন। মল্লিকা বড় তাড়াতাড়ি চলে গেল! বয়সে কত ছোট ছিল, প্রায় বার বছরের তফাত তো হবেই। মাত্র দুদিনের ভাইরাল ফিভার। ও চলে যাওয়ার মাস চারেক পরে একদিন মর্নিংওয়াক সেরে ফেরার পর রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। দিন কয়েক হাসপাতাল-বাস, তারপরে ছুটি মিলল বটে, কিন্তু দৈনন্দিন যাপন-কথায় এক্কেবারে সেমিকোলন। শরীরের একপাশে গোটাগুটি প্যারালিসিস। সারাদিনে এখন মল্লিকার কথা কত বার যে মনে পড়ে। মাঝে মাঝে অনুতাপ হয়। ওর তেমন যত্ন করেছেন কোনদিন? বছরের পর বছর শুধু ঘন ঘন হুকুম, নিত্য নতুন দাবি- কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়া, ওর শখের জিনিস কিনে দেওয়া, কিছুই তেমন করেন নি! বেচারা কিছু চায়নি কখনো। ওর সেবা, সাহচর্য অনায়াস পাওনা বলেই সারাজীবন মেনে নিয়েছিলেন। গল্পও কি খুব করেছেন ওর সঙ্গে? মল্লিকা না হয় সময় পেত না সংসার সামলে, তাই বলে তিনি নিজে? তখন ছেলেদের কেরিয়র, আত্মীয়-বন্ধুর আনাগোনা, টেলিভিশনে পছন্দের খেলা দেখা, খবরের কাগজের জগতে মত্ত থাকা- কত কাজ যে ছিল। এখন সারাদিন জুড়ে ধূ ধূ একাকীত্ব! ফিজিওথেরাপির ছেলেটি আগে সপ্তাহে তিনদিন আসত। ইদানিং একদিন। ছেলেদের প্রশ্ন করলে অবশ্য কখনই সদুত্তর পাওয়া যায় না। মর্নিংওয়াকের বন্ধুরা কেউ কেউ এখনো খোঁজ নিতে আসে। সেইটুকু সময়ে কিছুটা যা ভাল লাগে। বিশুবাবু তো আর সেলিব্রিটি ছিলেন না। সাধারণ চাকরিজীবী। অবসরের পর তাকে আর কার দরকার হবে !
জানলার উড়ন্ত পর্দায় মল্লিকার ফরসা মায়াভরা মুখটা রাতবিরেতে উঁকি দেয়। কেমন আছ গো?
ছোটবেলার নিশির ভয়টা আবার যেন ফিরে আসছে।
ঘরের কোণায় একটা খু্ট করে শব্দ হোল কি? চোখ বড় করে আশপাশে তাকান। ঘরের দরজাটা এখন আধখোলা। বারান্দা থেকে চুঁইয়ে আসা একফালি আলোয় স্পষ্ট দেখলেন বড় ছেলে বাবুয়াকে। ওর হাতে সরু লম্বা জিনিসটা কি? বিশেষ কোন বোতল না ইন্সট্রুমেন্ট? ছেলেটা বরাবর রিসার্চ পাগল। নামী রিসার্চ কোম্পানির চিফ সায়েন্টিস্ট, এখন খালি বলে উইল করে দাও, বাড়িতেই ল্যাবরেটরি করি। কী নাকি মানুষের শরীরের কলকব্জা নিয়ে যুগান্তকারী রিসার্চ করছে।
কে রে? অ্যাঁ- অজান্তেই বিশুবাবুর গলা দিয়ে চেরা আওয়াজ বেরিয়ে পড়ল।
– বাবা জেগে আছ এখনো? জল খাবে?
– তুই? এঘরে এখন?
বাবুয়া ইতস্তত করে, ইয়ে আমার চশমাটা এ ঘরে ফেলে গেছি কিনা দেখতে এসেছিলাম। দিনের বেলা এত ব্যস্ত থাকি! মনেই থাকেনা তোমায় জিজ্ঞাসা করতে। হ্যাঁ বাবা। উইল চেঞ্জ করার কথা কিছু ভাবলে?
মিথ্যে কথা বলছে বাবুয়া। রাত-বিরেতে পড়ার ফাঁকে মদ গিলবে বলে ফ্রিজ থেকে খাবার নিতে আসে, এ ঘরে ঢুকে কাগজপত্র হাঁটকায়। কী এত খোঁজে? মল্লিকা যাবার পর বাড়ির উইলখানা ওর সঙ্গে জয়েন্ট-লকারে রাখতে দিয়েছেন। সেই থেকে প্রায়ই বলে আমার উকিল বন্ধু পল্লবকে নিয়ে আসব বাবা? বাড়ি তুমি যেভাবে চাও ভাগ কোরো, শুধু আমার ল্যাবের জন্য আপাতত একতলার বড় ঘর কটা-
আজ আবার কী মতলবে এসেছে কে জানে! বেশিক্ষণ অবশ্য অপেক্ষা করল না, ভনিতা ঝেড়ে বলেই ফেলল –
-বাবা, গোটা বাড়িটা না দাও, সেই পারমিশনটা অন্তত দাও।
এই নরম গলার অনুমতিটি যে কী ভয়ানক, মাস খানেক আগে মাত্র একবার শুনেই শিউরে উঠেছিলেন। ও যখন মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে কথাগুলো বলছিল, চোখটা অন্ধকারে জ্বলছিল। একা ঘরে ওকে দেখলে আজকাল কেমন ভয় করে।
কদিন ধরে একটানা বৃষ্টি পড়ছে। গায়ের চাদরটা সরে গেছে, শীত করছে বেশ। রাতের আয়া আজো নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। আগে আগে রাগ হোত, এখন মায়া হয়। ছেলেদের নালিশ করলে ওকে হয়তো ছাড়িয়ে দেবে।। পাশের ঘরে ছোটছেলে টুবাই মাংসের বড়ায় নুন কেন কম বলে বৌয়ের সঙ্গে ঝগড়া করছে? টুবাই মাংস ছাড়া খেতে পারেনা। সিভিল কন্ট্রাক্টারির কাজে প্রায়ই রাজ্যে-রাজ্যে ঘুরে বেড়ায়। রাত বিরেতেই সিমেন্ট–বালি-স্টোন-চিপ্স, টাকা-কড়ি নিয়ে কত লোকের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি হয়। বাড়িটা কী তলে তলে বেচে দেবে ও? বেঁচে থাকার সময় ফুরিয়ে আসছে, তাও কেন যে এত মায়া চারপাশে! এই দক্ষিণ-খোলা ঘরটার জন্য। নাতি-নাতনি -ছেলেদের কাছে থাকার তৃপ্তিটুকু নিয়ে।
টুবাই প্রায় বলে, বাবা এ ঘরটা ভেঙে তোমার জন্য আলাদা একটা ইউনিট করে দিই। আজ না হয় কাল, সুস্থ তো একদিন হবেই। তোমার একটু প্রাইভেসি থাকা উচিত। টুবাই কি তাকে স্বপ্ন দেখায়? নাকি পুরোটাই ছকেমাপা সম্পত্তি আগ্রাসনের ইশারা? চেনা–অচেনা ভয়ে বুকের ভেতরটা কেমন ছম ছম করে।
আজ সকাল থেকেই চারদিক এক্কেবারে ঝকঝকে। বাড়ির আবহাওয়াতেও গুমোট একটু কম মনে হচ্ছে। বাবুয়া সকাল সকাল দরজার সামনে হাসি মুখে দাঁড়ায়, তোমার ওষুধের লিস্টটা দিনের আয়াকে রেডি রাখতে বোলো। একটু বাদে এসে নিয়ে যাব।
দুপুরে টুবাইয়ের ছোট মেয়েটা একরাশ খেলনা এনে ঘরে খেলছিল। বললো, আজ নাকি বাবা-মায়ের এক সাথে জন্মদিন। অনেক লোক আসবে। বাবুয়ার বৌ জোর জবরদস্তি করে তাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল, দাদুর বিশ্রামের সময় ঘরে এসে বিরক্ত করছ কেন? বিকেলে রান্নাঘর থেকে পোলাও- মাংস রান্নার সুগন্ধ ভেসে এল, আহ্ , একটু কি জুটবে? রোজ সেই একঘেয়ে ট্যালটেলে ঝোল। ছ্যা! বাজারে ভাল মাংসের দাম নাকি এখন আকাশছোঁয়া। ভাগাড়ের মাংস নিয়ে শহরে একসময় কিছুদিন খুব হৈচৈ হয়েছিল। টুবাই নিশ্চয় আজ প্রাণভরে মাংস কিনেছে। ছেলেটা চিরকাল মাংস খাওয়ার জন্য ছটফট করে। সাধারণ ক্লার্কের চাকরি করেও ওর জন্য সেই ছোট্টবেলা থেকে রোব্বারের চড়া বাজারে নিয়ম করে মাংস কিনেছেন।
মল্লিকা মাঝে মাঝে বেহিসেবি খরচের জন্য সতর্ক করেছে। বিশুবাবু গায়ে মাখেন নি।
দিনের আয়া মেয়েটি মন্দের ভাল। আহ্লাদ করে বলল, দাদু্‌ বড়কাকু বলেছে পাতিলেবু টিপে এক গরস পোলাও-মাংস আজ খেতে পারো। ছোটকাকিমার ম্যারেজ অ্যানিভারসিটির পার্টি। আমি ঠিক যাবার আগে খাবার চেয়ে আনব।
– ক’ কিলো মাংস এলরে আজ? বিশুবাবু অকারণেই কৌতূহলী।
– সে জেনে তোমার কি হবে? আমাদের গাঁ-ঘরে কী বলে জানো? নোলা খোলা ওড়ে হায়, পালকি চড়ে বেড়াতে যায়। তোমার তো এখন সেই দশা।
সন্ধ্যে থেকে বাড়িতে অনেক লোক- প্রচুর চেঁচামেচি আর উদ্দাম হিন্দি গান সহযোগে বিয়ের জন্মদিনের পার্টি হচ্ছে। রাতের আয়া ঘুমের ওষুধ দিয়ে কেঠো গলায় হুকুম করল, চটপট গিলে নিন দেখি। আজ আমার পার্টি-ঘরে ডিউটি। ডাকাডাকি করে লাভ হবে না। ছোড়দারা পার্টি সেরে রাতের প্লেনে বেড়াতে যাবে। ওদের সঙ্গে সঙ্গে থাকতে হবে।
রজনীগন্ধার সুবাস আর কষা মাংস আস্বাদের স্মৃতি নিয়ে আরামে চোখ বোজেন বিশুবাবু।
মাঝরাতে যথা নিয়মে ঘুমের মধ্যেও হিসির আহবান টের পান বিশুবাবু। ফোঁটাফোঁটা জোনাকির মৃদু আলো আর ঘাড়ে ছুঁচ ফোটানোর একটা জ্বালা- কোথায় শুয়ে আছেন? গাছপালার মাঝে ঠাকুমার সেই পুরোনো বেড়ার ঘরে? ঠাকুমা বলছে যাইস না বা- নিশি ডাকে-
কোথা থেকে একটানা জল পড়ার শব্দ- যেন গাছের আড়ালে লুকোনো পাহাড়ি ঝরণা।
– বাবা কী কষ্ট হচ্ছে? ডাক্তারবাবু তো এসেছেন।
চোখের-পাতা কিছুতেই খোলা যায় না, কে যেন প্রবল বেগে তার হাতের ভিজে আঙুলগুলো কাগজের ওপর টেনে চলেছে, ”এই তো। আর একবার হাতটা-।” কাগজের মসৃণ ত্বকে আঙুলগুলো মাঝেমাঝে বিশ্রাম নিচ্ছে।
আহ।! ছোট্ট বাবুয়া্র গায়ের গন্ধ চারপাশে। – দেখো বাবা, এই যে আমার প্রাইজ। মল্লিকা হাসছে, বাবুয়া এবারেও ক্লাসে ফার্স্ট। ছেলে আমার বড্ড মেধাবী- একদিন ও ঠিক অনেক বড় হবে- পল্লব , কুইক!- ভাগ্যিস! তুই স্ট্যাম্প-পেপারটা সময়মত এনেছিলিস! হ্যাঁরে! সব ঠিক আছে তো?
আরে! পেসেন্ট তো সিঙ্ক করছে- সরুন, আমায় দেখতে দিন। চারপাশে কত লোকের ফিসফিসে এলোমেলো কথা-
ফ্যামিলি ফিজিসিয়ান সেই রাতেই সার্টিফাই করে দিলেন, ম্যাসিভ সেরিব্রাল অ্যাটাক। দেখুন এখন উনি কতদিন টানেন!
হাতের আঙুলে নীলছাপ মাখা বিশুবাবুর চেতনা হারিয়ে গেছে অতল পাহাড়ঘেরা খাদের পথে। টুবাইয়ের প্লেন তখন সবে ল্যান্ড করেছে সিঙ্গাপুরে।
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টেরাইল ঘরে এখন নীলাভ আলোয় দোলনায় দোল খান কোমায় আক্রান্ত বিশুবাবু। তার গোটা শরীর বাবুয়ার রিসার্চ প্রোজেক্ট ‘হিউম্যান-ফারমিং’-এর জন্য ব্যবহারযোগ্য। বিজ্ঞানের দুনিয়ায় নতুন একটা কন্সেপ্ট। বিশুবাবু নাকি শেষ পর্যন্ত উইলে রিসার্চের জন্য নিজের লিভিং-বডি এবং ডেড বডি ডোনেট করার অনুমতি দিয়ে গেছেন। তার কোমাচ্ছন্ন শরীরের সেল থেকে এখন বাড়ির ল্যাবরেটরিতে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ফ্রেশ হিউম্যান-ফ্লেশ তৈরি হবে। টুবাই কয়েকদিন পুলিশ নিয়ে এসে হুজ্জুতি করেছিল। উইলে বাবা কেন তাকে এত বড় বাড়ির দুটো মাত্র ঘর ছাড়া আর কিছু দিল না? লাভ হয়নি। এ তো সিভিল কন্ট্রাকটরির কাজ নয়, বাবুয়া অনেক দিন ধরে গুছিয়ে কাজ করে রেখেছে। উচুঁ তলার মেডিক্যাল টিম এসে বিশুবাবুর উইল আর বাড়ি-ঘর ভিজিট করে গেছে। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের রিসার্চ ল্যাবের এক্সটেন্ডেড কাজ, এথিক্স-এর ক্লিয়ারেন্স শিগগির এল বলে।
অনেক রাতে বাবার ঘরে নিশ্চিন্তে রিসার্চের প্রস্তুতি নেয় বাবুয়া। টুবাই প্রায়ই হাজির হয় পাওনা টাকার জন্য। ঝগড়া করতে। উইলে বাবা কেন তাকে এত বড় বাড়ির দুটো মাত্র ঘর ছাড়া আর কিছু দিল না? বাবুয়া ভাইকে বোঝায়, “শেষ বেলায় নিয়মিত তোকে দেখতে না পেয়ে হয়তো বাবার ভিমরতি ধরেছিল, আর চিরকাল বাবা আমায় একটু বেশিইই-। আরে, ভাবছিস কেন? আমি না তোর দাদা? তুই মাংস ভালবাসিস। কথা দিচ্ছি এরপর রেগুলার ফ্রি-তে ফার্মের সবচেয়ে সুস্বাদু মাংসের যোগান তোকে দেব।“
এরই মধ্যে গোপনে একদিন বাবার নিম্নাঙ্গ থেকে নিপুণ হাতে হিসেব করে একশ গ্রাম মাংস ভালবেসেই অপারেশন করে বার করে দিয়েছে। বাবার শরীরে তখন তীব্র ঝাঁকুনি উঠেছিল। বাবুয়া দেখেও দেখেনি।
টুবাই অধিকারের দাবি ভোলেনা। কাঁচা টাকা আর ভবিষ্যতে নিয়মিত সুস্বাদু টাটকা মাংস প্রাপ্তির অঙ্গীকারের দাবিতে প্রায়ই বাবার ঘরে আসে।

নীল আলোটা বড় মায়াময়। মাঝে মাঝে ক্ষণকালের জন্য চেতনা ফিরলে, বেঁচে থাকার সাধটা ফিরে আসে বিশুবাবুর।
হবে নাই বা কেন? পার্থিব মোহ-মায়া আলগোছে ছুঁয়ে থাকা অসম্ভব ভয়কাতর মানুষটির অনন্তলোকে যাত্রা করা যে হয়নি এখনও। আসলে জীবন-মৃত্যুর সীমানায় লগ্ন, অত্যাধুনিক ভাগাড়ে অপেক্ষমান উলঙ্গ বিশুবাবু তাঁর অস্তিত্বের চূড়ান্ত পর্বে এসেও শ্রবণ বা বেদনার অনুভূতি একেবারে হারিয়ে ফেলেন নি।
তাই এখনো তার ইচ্ছে করে মস্তিষ্কের গোপন কোন প্রান্তে লেগে থাকা স্নেহময় পিতার যত্নে লালিত দীর্ঘ এক অভ্যাস, সন্তানের প্রিয়মুখগুলোর দিকে আর একবার ফিরে তাকানোর।

Share Now শেয়ার করুন