জয়া চৌধুরী >> স্প্যানিশ জাদুপৃথিবীর টানে >> পোপোল ভূ, আস্তুরিয়াস ও গুয়েতেমালা >> গদ্য

0
278

পোপোল ভূ, আস্তুরিয়াস ও গুয়েতেমালা

মিথ মানে দেবতা ঈশ্বর অর্ধনারীশ্বর ইত্যাদি যা কিছু দৈবিক বা আধিদৈবিক, সেসব নিয়েই অজস্র গল্প ছড়িয়ে আছে গুয়াতেমালায়। আস্তুরিয়াস তাঁর গদ্যে সেভাবেই তুলে এনেছেন তাদের এবং সেইসঙ্গে মিশিয়েছেন আধুনিক স্প্যানিশ সাহিত্যের নানান ভাবনা। আস্তুরিয়াসের রচনারীতি যতখানি ম্যাজিক রিয়ালিজম ততখানিই সুররিয়ালিজমের রীতিমিশ্রিত।

পোপোল ভূ শব্দ দুটির সঙ্গে পাঠকদের অনেকেই পরিচিত। বিশেষ করে যারা বিশ্বসংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে আগ্রহী, তাদের কাছে তো বটেই। মায়া সভ্যতার ‘কিচে’ জনজাতির পবিত্র গ্রন্থ হলো এই পোপোল ভূ। পোপোল শব্দটির অর্থ হল জনগোষ্ঠী আর পোপোল ভূ হলো উপদেশমূলক বই। হঠাৎ পোপোল ভূ’র কথা উল্লেখ করলাম কেন? কারণ এটি মায়া সভ্যতার এক বিশিষ্ট সাহিত্যের উদাহরণ। এই মায়া সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল মেক্সিকোতে। বিশেষ করে মেক্সিকোর চিয়াপা, কাম্পেচে, কিনতানা জায়গাগুলিতে, গুয়াতেমালা দেশের উচ্চ মালভূমিতে এবং বেলিজ এইসব দেশ জুড়ে এর বিস্তার ছিল। মেক্সিকোর এই চিয়াপা শহর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দুটি কারণে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। মেক্সিকোর বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি খাইমে সাবিনেস এই রাজ্যেরই ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছিলেন, জন্মেছিলেনও এখানেই। পোপোল ভূ বইটিতে বিশেষ করে গুয়াতামালার পটভূমির দুই ভাইকে নায়ক করে লেখা হয়েছিল। হ্যাঁ, আজকের বিষয় এই গুয়াতেমালা। পোপল ভূ সাহিত্যটি এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, স্প্যানিশ সাম্রাজ্যবাদীরা গুয়াতেমালায় প্রবেশের আগে এটিই ছিল শেষ উল্লেখযোগ্য মায়া সাহিত্য। আশ্চর্য একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায় হিন্দুদের বেদ গ্রন্থগুলির সঙ্গে। বেদের মতোই এই বইটিও বহু বছর ধরে শ্রুতিরূপে প্রচলিত ছিল। ১৫৫০ সালে কোনো এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেটিকে কিচে ভাষাতে লিপিবদ্ধ করেন। তারও কয়েকশ বছর পরে ১৭১৫ সালে ব্রাদার ফ্রান্সিওস্কো সিমেনেস এটিকে কিচে ভাষা থেকে স্প্যানিশে অনুবাদ করে প্রকাশ করেন।

মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল আস্তুরিয়াস

গুয়াতেমালা দেশটি আসলে ঠিক সরাসরি যুদ্ধের ফলে স্বাধীন হয়নি। ১৮২০ সালে দুটি দল গঠিত হয় সে-দেশে। একটি দলে ছিলেন ক্রিওয়িয়ো মানুষেরা, অর্থাৎ স্পেনীয় ও মায়া জাতির মিশ্রণে যে-মানবগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল তারা। স্পেন মেক্সিকোর মতোই যখন গুয়াতেমালা দখল করতে এসেছিল, তখন অজস্র মায়া-পুরুষকে তারা হত্যা করে সে-দেশের নারীদের সঙ্গে সহবাসে মধ্য দিয়ে নতুন এক জনজাতির সৃষ্টি করেছিল। তাদের ক্রিওয়িয়ো বলা হতো। আর অন্য দল ছিল স্পেনীয় বংশোদ্ভূত সে-দেশের ধনীদের দল। তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর অবশেষে ১৮২১ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর স্বাধীনতা পাবার ঠিক একদিন আগে গুয়াতেমালাসহ গোটা মধ্য-আমেরিকা স্পেনের উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। মূলত অর্থনৈতিক কারণেই গুয়াতেমালা স্পেনের ৩০০ বছরের ঔপনিবেশিকতার নিগড় থেকে স্বাধীন হতে চায়। অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোই ছিল এর মূল কারণ। অবশেষে একটি চুক্তির মাধ্যমে তারা স্বাধীনতা পায়, সঙ্গে থাকে সোকোনুসকো অঞ্চল। এই সোকোনুসকো অঞ্চলটিই পরবর্তীকালে টুকরো টুকরো হয়ে স্বাধীন এল সালভাদোর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও কোস্তারিকা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভৌগোলিকভাবে মেক্সিকোর ঠিক সীমান্তঘেঁষা এই দেশটির সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মায়া সভ্যতার প্রভাবে গড়ে উঠেছিল। তাই মধ্য-আমেরিকায় মেক্সিকো ছাড়া একমাত্র গুয়াতেমালাতেই পিরামিড দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর বৃহত্তম পিরামিড লা দান্তা এ দেশেই অবস্থিত। এসব আশ্চর্য তথ্য আমি ওই দেশ নিয়ে পড়াশুনা করতে গিয়ে পাই। আসলে নোবেলজয়ী লেখক ও কবি মিগেল আঙ্খেল আস্তুরিয়াসের একটি গল্প Leyenda de volcán বা আগ্নেয়গিরির উপকথা বছর কয়েক আগে অনুবাদ করতে গিয়ে প্রথমবার টের পাই মিথলজি আঙ্খেলের রচনায় শিরায় শিরায় জড়িয়ে আছে। মিথ মানে দেবতা ঈশ্বর অর্ধনারীশ্বর ইত্যাদি যা কিছু দৈবিক বা আধিদৈবিক, সেসব নিয়েই অজস্র গল্প ছড়িয়ে আছে গুয়াতেমালায়। আস্তুরিয়াস তাঁর গদ্যে সেভাবেই তুলে এনেছেন তাদের এবং সেইসঙ্গে মিশিয়েছেন আধুনিক স্প্যানিশ সাহিত্যের নানান ভাবনা। আস্তুরিয়াসের রচনারীতি যতখানি ম্যাজিক রিয়ালিজম ততখানিই সুররিয়ালিজমের রীতিমিশ্রিত। আসলে আমাদের ঝোঁক থাকে সব কিছুকে তকমা দেবার। তাই কোন একক সংজ্ঞায় তাঁর রচনাকে ফ্রেমবন্দী করতে পারি না। প্রায়শই তাঁর লেখায় মায়া সভ্যতার শব্দের প্রয়োগ করেছেন তিনি। সচেতনভাবে পাঠকের কাছে পরিচয় করিয়েছেন নূতন শব্দ যা মায়া ঐতিহ্যের কথা দ্রুত স্মরণ করিয়ে। তাঁকে তাই বলাই হতো ‘পুরাণের কবি’। ‘Retrato de abuelos’ বা ‘দাদু-দিদার ছবি’ কবিতাটি সেই শিকড়ের টান দেখায় :

ওইসব স্মৃতিগুলোকে আগলে রাখি যেগুলো আমায় পুরুষ হবার দায়িত্ব দিয়েছিল
আর পূর্বপুরুষদের ওইসব প্রতীকগুলো
আমার বাড়ির গল্প, আমার নামের মাহাত্ম্য,
আর আমি ওইসব কফিনকে পাহারা দিতে থাকি সবসময়ের জন্যেই যারা খোলা পড়ে থাকে
বিয়ের গল্প, আমার মৃত দাদু-দিদার গল্প।

কিন্তু মিগেল আস্তুরিয়াস তো ঢের পরের, অর্থাৎ বিশ শতকের সাহিত্যিক। পোপোল ভূ যখন রচিত হয়েছিল তারপরেও রচিত হয়েছে কেকচি ভাষার প্রখ্যাত নাটক ‘রাবিনাল আচি’। কেকচিও মায়া সভ্যতার একটি ভাষা। মুখোশ, গান, নাচ, নাটক সবকিছু মিলিয়ে এই নাটক কলোম্বিয়া-পূর্ব যুগে ১৪০০ শতকেই রচিত হলেও ১৬২৫ সাল থেকেই কয়েক শো বছর ধরে লুকানো ছিল। পরে ১৮০০ শতকে এটি স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত হয়। আসলে গুয়াতেমালা দেশটিতে ২২টি মায়া ভাষা প্রচলিত আছে। এর প্রতিটি ভাষাই তাদের সংস্কৃতি সভ্যতার ধারক-বাহক। ‘রাবিনাল আচি’র বিষয়টি যেমন অন্য জনজাতি গোষ্ঠীর মধ্যেকার যুদ্ধ রক্তপাত ইত্যাদি। কেকচি গোষ্ঠী ও কিচে গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই নাটক আজ গুয়াতেমালার ইউনেস্কো ঘোষিত সাংস্কৃতিক বিশ্ব-হেরিটেজ। মহান একটা নাট্যোৎসব রূপে স্বীকৃত।
গুয়েতেমালায় স্প্যানিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পরে ক্যাথলিক ধর্মের প্রসার ঘটে। সাহিত্যে সেই ধর্মের প্রভাব পড়তে থাকায় ধীরে ধীরে মায়া মানুষ ও সভ্যতা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তার ফলে ষোল ও সতের শতক জুড়ে যেসব সাহিত্য রচিত হতো তার সবই মূলত স্পেনের বা ক্যাথলিক ধর্মের মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে রচিত। সেখানে সে-দেশের মাটির প্রকৃত রূপরস ফুটে উঠত না। তবে এই সময়েই মধ্য-আমেরিকার প্রথম নারীকবি ও নাট্যকার সর খুয়ানা দে মালদোনাদোর আবির্ভাব হয়। মানে মেক্সিকোর প্রবাদপ্রতিম খ্রিস্টান মিশনারী নারীকবি এবং স্প্যানিশ সাহিত্যের স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সর খুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুসের মতো গুয়াতেমালাতেও একজন খ্রিস্টান মিশনারী নারীকবিই আধুনিকতার সূত্রপাত ঘটান। এছাড়াও এসময় রাফায়েল লান্দিভার, রাফায়েল গোয়েনা প্রমুখ সাহিত্যিকের আবির্ভাব ঘটে। এদের পথ ধরেই অষ্টাদশ শতাব্দীতে  গুয়াতেমালার উপন্যাসের জনক খোসে মিলা ভিদাররুইয়ের আবির্ভাব ঘটে। উপন্যাস বিষয়টি বিশ্বসাহিত্যে মূলত ইউরোপের দান। কাজেই এইসব সাহিত্য রচনার কালে স্পেনের সংস্কৃতির যতটা প্রভাব পড়ছিল, মূল শিকড়, অর্থাৎ মায়া-সংস্কৃতি ততটাই আবছা হয়ে যাচ্ছিল। পাশে নিকারাগুয়াসহ গোটা মধ্য-আমেরিকার সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ রুবেন দারিও জন্মগ্রহণ করাতে বলা যায় গুয়াতেমালার সাহিত্য এইসময় থেকে স্থায়ীভাবে বাঁক নেয় ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে আশ্রয় করে। ঠিক এইসময় সাহিত্যে রূপক আসে এবং পারনাসিয়ানিজম-এর উদ্ভব ঘটে ফ্রান্সে। এই পটভূমিতেই গুয়াতেমালায় মিগেল আঙ্খেল আস্তুরিয়াসের আগমন এক বিশেষ অবদান বলে স্বীকৃত। তিনিই সে-দেশের প্রথম সাহিত্যিক যিনি এথনিজম নিয়ে প্যারিতে পড়াশুনা করেন এবং তাঁর প্রথম স্মরণীয় কীর্তি হচ্ছে ২৬ বছর ধরে লিখিত গ্রন্থ ‘গুয়াতেমেলার রূপকথা’। যে মায়া কৃষ্টি-সংস্কৃতি মূলধারার সাহিত্য থেকে চলে গিয়েছিল বিস্মৃতির গহ্বরে, অথচ সমাজে তার জাজ্বল্য প্রভাব রয়ে গিয়েছিল, তাকেই তিনি নতুন ভাবে মর্যাদার আসনে বসালেন। এখানে পাঠকদের মনে পড়বে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের বাংলা ভাষায় সংগৃহীত ও সুলিখিত ঠাকুরমার ঝুলি বইটির কথা। মিগেল আঙ্খেলকে বলা যায় এক ধ্রুপদী উদাহরণ, যিনি আদিম জনজাতির সংস্কৃতির সঙ্গে অত্যাধুনিক সুররিয়ালিজম ও ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারার সফল মিশ্রণ ঘটিয়ে দিলেন। এই দেশটিতে গত শতকের ষাটের দশকে এক জঘন্য রক্তপাতের গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তখন অসংখ্য মায়া-মানুষ জাতিগত দাঙ্গায় নিহত হয়। সেই পটভূমিতে লেখেন ‘মি. প্রেসিডেন্ট’ নামের উপন্যাস। এর লিখনশৈলী কিন্তু একান্তভাবেই এই মিশ্র সংস্কৃতির। ১৯৬৭ সালে তিনি পান নোবেল পুরস্কার। এসবের প্রভাবে এরপর গুয়েতেমালায় অসাধারণ অনেক লেখকের আগমন ঘটতে থাকে। এলিসা হল দে আস্তুরিয়াস তখন আস্তুরিয়াসের পদবীটাকে অনুসরণ করে উপন্যাস লিখেছেন। পাঠকদের মনে পড়বে আলেক্স হেলির বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য রুট’স-এর কথা, ফ্লাভিও এররেরা (যিনি জাপানের হাইকু কাব্যছন্দ অনুসরণ করে অণুগল্প লেখেন সফলভাবে), উমবেরতো আকাবাল (যাঁর কিচে ভাষায় লেখা কবিতা বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে), রাফায়েল মারতিনেস (ম্যাজিক রিয়ালিজমের সফল ঔপন্যাসিক) প্রমুখ খ্যাতিমান লেখকের কথা। এই সেদিন ,২০১৯ সালে গুয়াতেমালার ষাটের দশকের রাজনীতির উপর পেরুর নোবেলজয়ী প্রবাদপ্রতিম মারিও ভারগাস ইয়োসা এক অসামান্য উপন্যাস লেখেন Tiempos Recios বা ‘হিংস্র সময়’ নামে।

কাস্তিইয়ার বিখ্যাত কাব্যত্রয়ী (ট্রিলোজি) “চলো পিতৃভূমি, হাঁটা যাক, আমি তোমায় সঙ্গে হাঁটব”–র কিছু পঙক্তি উচ্চারণ করতে করতে তাকে ভয়ঙ্করভাবে খুঁচিয়ে আহত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি কাপুরুষতার উদাহরণ হিসাবে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গুয়াতেমালা দেশটির অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য অতলান্তিক ও প্রশান্ত দুই মহাসাগরের প্রভাবই তাঁর আবহাওয়া ও সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যায়। অন্য মধ্য-আমেরিকার দেশগুলির মতোই এটি যুদ্ধ ও জাতিগত দাঙ্গায় অনেকখানি বিপর্যস্ত ছিল। আর সে-কারণেই হয়তো অনেক উঁচু মানের কবি-সাহিত্যিক এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। এখানে একজন কবির কথা উল্লেখ করছি। ওত্তো রেনে কাস্তিইয়া। ১৯৩৬ সালে সে-দেশের কেতসালতেনাঙ্গো শহরে তাঁর জন্ম। জীবনের শুরু থেকেই এক দায়বদ্ধ কবি হিসাবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। বামপন্থী এই কবি তাঁর আদর্শের জন্য লড়াই করতে গিয়ে বেছে নিয়েছিলেন কবিতাকেই। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জ্যাকব আরবেঞ্জকে যখন আমেরিকা সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়, তখন তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি দেশ ছেড়ে এল সালভাদোরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর বহু বছর বিভিন্ন দেশ ঘুরে গোপনে দেশে ফেরেন গেরিলা বাহিনি তৈরি করবার লক্ষ্যে। ১৯৬৭ সালে যে-বছর চে গেভারা নিহত হন, সে-বছরের শুরুর দিকে সেনাবাহিনির সাথে এক সম্মুখ যুদ্ধে সস্ত্রীক ভয়াবহভাবে আহত হন আর এর এক সপ্তাহ পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ওত্তো রেনে কাস্তিইলা

কাস্তিইয়ার বিখ্যাত কাব্যত্রয়ী (ট্রিলোজি) “চলো পিতৃভূমি, হাঁটা যাক, আমি তোমায় সঙ্গে হাঁটব”–র কিছু পঙক্তি উচ্চারণ করতে করতে তাকে ভয়ঙ্করভাবে খুঁচিয়ে আহত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি কাপুরুষতার উদাহরণ হিসাবে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবু তিনি ছিলেন জীবনপুজারী। আজকের লেখাটি শেষ করার আগে এই অস্থির সময়ে, এই করোনাক্রান্ত অতিমারীর পৃথিবীতে তাঁর এই কবিতাটি রইল :

আমরা একে অন্যের থেকে অনেক দূরে ছিলাম।

আমাদের মাঝখানে ছিল সমুদ্র।
পাহাড় এবং জল।
আগুন ও ঝড়।
আমাদের মাঝখানে
ছিল দীর্ঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন
হতাশ
বছর।

আমরা তবুও দেখা করেছিলাম,
সবকিছু সত্ত্বেও,
কেননা জীবন তাই চেয়েছিল
অন্ধের মতন।
________________ __________________________

Share Now শেয়ার করুন