পডকাস্ট >> কবিতা : সালেহীন শিপ্রা >> পাঠ : অনুপ্রভা মণ্ডল

0
118

সালেহীন শিপ্রা >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতাগুচ্ছ >> অতিথি সম্পাদক : সুবর্ণ আদিত্য
আবৃত্তি : অনুপ্রভা মণ্ডল

কবিতাগুলোর আবৃত্তি শুনুন >> পডকাস্ট

 

রণদৌড়ের ঘোড়া

তুমি সুন্দর, তুমি শারীরিক
বসন্তের কাম আলুথালু
ফুলদের পাশে শুয়ে শুয়ে
দেখে যাচ্ছি।

কথা কমছে, শ্বাস বাড়ছেই
মাথাভর্তি যেন চুল নয়,
কচি ধানক্ষেত
আঙুল ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে খুব হচ্ছে।
রণদৌড়ের ঘোড়া যেন এক
এসে সামনেই নত, বলছে—
আর কিছু নয়, দিগ্বিজয় নয়
চাই তোমাকেই, হৃদয় টলছে।
ধরছ না, হায়, এমন তপ্ত
গলিত লোহা এ
আগ্নেয়মুখে অগ্নিস্নানে লাল…

প্রেম নাকি পাপ
কটেজের রাত মুছে দিচ্ছে এ সমস্তই।
মনে পড়ছে না সেই ব্যথাদেরও যারা
প্রশমিত হতে পারে নাই।
ওই বাহুডাল যেন রাস্তাই,
দুর্ঘটনার নেই শঙ্কাও।
ফোঁটা বৃষ্টির মতো রোমকূপ জুড়ে কম্পন,
তুমি কাঁপছ, কী যে টের পাই!
স্তনবৃন্ত এত ভালো লাগে যেন সমতলে
অমসৃণ গোল ভূমি আর সামান্য ঝোপঝাড়
নাকে ঘষছি।

তির্যক চোখ
তৃষ্ণার বনোভূমিতেই পথ হারিয়েছে,
তাতে ঝরাপাতা ঝ’রে পাতার উপর,
মৃদু ঝরে পড়ার শব্দ।
শীৎকারও এই সুনসানে এক সাইলেন্ট রূপমাত্র,
অধীর ঝর্না পাথর-খাঁজে ছড়ার চলন বুঝে নিচ্ছে।

এত তীব্র যেন সূর্য—
ঝুমসন্ধ্যায়
সাগর-জলে ঢুকে যাচ্ছ।
এই দৃশ্যও
যত সত্য তত মিথ্যে,
জানি অন্য আরেক দেশে
তুমি সকালের রোদ হচ্ছ।

রঙ

বিচূর্ণ হওয়ার রাত
আরো ধীর, নম্র হয়ে আসি।
ঘৃণামেঘ সরে না গেলেই
শহর তলায় ঝড়ে,
চোখের উত্তাপসম রৌদ্রভাসিত মুখ
কাঁপে, মুছে যেতে থাকে।

জাহাজ ডুবানো হাওয়া
বাড়ি খায় দালানে দালানে
‘ফিরে আসব’ বলে
না ফেরা সে মৃত নাবিকের আকাঙ্ক্ষাসমেত।

এই ছলোছলো ঘুম
নত অন্ধকারটিকে
যে রঙে ডুবিয়ে দিতে চায়
সে জানে না
মেরুন কি রঙ নাকি রঙের চিৎকার।

অন্য পৃথিবী

ছায়ার ওপর থেকে ছায়া সরে গেলে
দৃশ্যত হেরফের নাই ৷
জবুথবু রোদের ভেতর তোমাদের কেমনকেমন স্বর;
মূর্ত হয় ফণীমনসার ঝোপ, কাঁটাবিদ্ধ আলো ৷
প্রাত্যহিক জীবন তো ভুলে গেছে
কতটা নিঃশব্দে কোনো নিঃস্ব হাত
প্রতীক্ষায় থাকে ৷

কাঁটাতার সরে যায়
অখন্ডিত পৃথিবীর স্বপ্নের ভেতর ৷
বস্তুত বিবাদঋতু
হাতের ওপর থেকে হাত সরে যায় ৷

বিষাদের গান

রাতভর শঙ্খনিনাদ ৷ ঘুমের দুর্গে এক সুঁইচোরা পাখি শুধু জেগে আছি, বুকের পাশে ঘুমন্ত রাজকন্যার মুখ- নীড়ের শান্তি খেলা করে ৷ আর সেই গোপন রুমাল কেবলি উড়ে যেতে চায় বাতাসে…

আমি ডাল হয়ে আটকাই , মেঘ হই , অবশেষে আকাশও হলাম ৷ তোমার নামটি লিখে পৃথিবীর একপাশে ধরে আছি রাত্রি-রুমাল ৷

বিনিদ্র রাতের ঘ্রাণে কিভাবে যে মিশে যায় তোমার চুলের ঘ্রাণ ! প্রশ্ন করো না ৷বরং ঘুমাও চাঁদ, ঘুমাও প্রশান্ত মুখ,বিনম্র চোখের পাতা, বিষাদের গান ৷

প্রবল প্রকাশ্য প্রেম থেকে

কেন উড়তে পারছি না !
আমায় টেনে ধরছে এক
নীল অবাক প্রজাপতি,
তার পালকে আঁকা মেঘ ৷

এই মগ্ন চাঁপা ভোর
তোমার শূন্যতাকে ঘিরে
ছেঁড়া পেঁয়াজ-খোসা যেন
ভেসে যাচ্ছে কোথা উড়ে !

অই দুপুর রোদের দিকে
কারো মাতাল করা ঘাম
আমায় উসকানি দেয় ঘ্রান,
তোমায় দেখতে দাঁড়ালাম।

একা শরীর ব্যথার মোড়ে
দুটো মন খারাপের রং
আড্ডা জমায়, উড়িয়ে নিল
ছোট্ট চায়ের টং।

আহা, মন খারাপের রঙে
কেন আষাঢ় নেমে আসে
কারও না থাকাকে ঘিরে
ফোটে কদম বারো মাসে৷

তুমুল বৃষ্টি এবং স্মৃতি
বিষাদ হচ্ছে শুধুই গাঢ়
প্রবল প্রকাশ্য প্রেম থেকে
আমি গুটিয়ে যাচ্ছি আরো৷

 

Share Now শেয়ার করুন