মাসুদুজ্জামান | নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ | মুছে যাওয়া বিস্মৃত ইতিহাসের কথাশিল্পী গুরনা

0
352

গুরনারের উপন্যাস, সহজেই বোঝা যায়, ইতিহাসকে তিনি কেন্দ্রচ্যুত করতে চান। সেই ইতিহাস ইউরোপের ঔপনিবেশিক ইতিহাস। তাঁর উপন্যাসগুলি তাই রাজনৈতিক উপন্যাস। একটা সময়ে একটা প্রজন্ম কীভাবে উপনিবেশের নির্মম শাসনের দ্বারা শাসিত হয়েছে, তিনি তার গল্প বলেন। একইসঙ্গে এর পর কী ঘটেছে, সেটাও লক্ষ করার কথা আছে তাঁর উপন্যাসে। আফ্রিকাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপনিবেশবাদী আলোচনা বা ডিসকোর্স থেকে বাদ রাখা যাবে না, এমনটাই তাঁর কথা।

পুরস্কার নিয়ে ঝড়

ত কয়েক দিন ধরে লক্ষ করছিলাম, ইন্টারনেটে ও ফেসবুকে যেন নোবেল পুরস্কারের ঝড় উঠেছে। ঝড় এই অর্থে যে, একের পর এক আলোচক, লেখক, এবার কে এই পুরস্কার পেতে পারেন, বাংলাদেশের লেখকরাও নোবেল পাওয়ার যোগ্য, তাই নিয়ে আলোচনার পর আলোচনা। তাঁদের আলোচনা বেশিরভাগই কেন্দ্রীভূত ছিল আমাদের পরিচিত বা বলা যায় আমরা যাঁদের জানি, যাঁদের লেখা পড়েছি, তাঁদের নিয়ে। কিন্তু নোবেল পুরস্কার কমিটি কোন বিবেচনায় কাকে যে পুরস্কার দেবে, তা কখনই আগে থেকে অনুমান করা যায় না। অনুমান করা, বলা যায়, একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক পণ্ডশ্রম। কারণ, আমরা যা-ই লিখি না কেন, নোবেল পুরস্কার কমিটির বিবেচনায় তা প্রায়ই ধোপে টেকে না। গত প্রায় দেড় যুগ ধরে সেটাই দেখা যাচ্ছে। শুধু এই সময়ে নয়, আগেও এমনটা দেখা গেছে। পূর্বাভাস প্রায়ই মেলেনি। এবারও তাই হলো। আমাদের প্রিয় কোনো লেখক পুরস্কার পেল না বলে আক্ষেপ করতে দেখা যাবে, ইতিমধ্যে নেটমাধ্যমে সেটা হয়তো ঘটছে। নেটিজেনরা নিশ্চয়ই, ‘এ কাকে পুরস্কার দেয়া হলো’, ‘একে তো চিনিই না’, ‘এই পুরস্কারটি এখন রাজনৈতিক হয়ে গেছে’, ইত্যাদি নানান কথা বলছেন। বলাটা যে অস্বাভাবিক, তাও নয়। কেননা, বিশ্বজুড়ে যেসব লেখকের সমাদর, তাঁদের কেউ তো এবার পুরস্কার পেলেন না। পেলেন একেবারেই অখ্যাত-অজ্ঞাত এক লেখক। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো, তিনি ইংরেজিতে লেখেন। আফ্রিকায় তাঁর শিকড় থাকলেও এখন ইংল্যান্ডের নাগরিক। এহেন একজন লেখক বিশ্বপটে কেন এতদিন সেইভাবে আলোচনায় আসেননি, সেটাই বিস্ময়কর। আমি অবশ্য এর মধ্যে কোনো বিস্ময় দেখছি না। তার প্রধান কারণ, তিনি নৃতাত্ত্বিক দিক থেকে কালো আফ্রিকার মানুষ। থিয়োঙ্গোর মতো প্রতিবাদী লেখক হিসেবে সুপরিচিত নন, বিশেষ করে তাঁর শেষ উপন্যাসটির আগে। আরেকটি কারণ, তিনি নোবেলের আগে ইউরোপের (যেমন বুকার) বা আমেরিকার বড় কোনো পুরস্কার পাননি। তাই তিনি আমাদের কাছে অপরিচিতই থেকে গেছেন। সে যা-ই হোক, এবার বলা যাক তাঁর সাহিত্যকীর্তির কথা।

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০২১

প্রতিবারের মতো অনেক জল্পনা-কল্পনা হলো, কিন্তু সেইসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরস্কারটি পেয়েছেন আবদুলরাজাক গুরনা। “উপনিবেশবাদের ভেতরে তাঁর অনুপ্রবেশের অনমনীয় ভূমিকা আর উদ্বাস্তুদের ভাগ্য নিয়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি আর মহাদেশের” কথা তুলে ধরার জন্যে তাঁকে এই পুরস্কার দেয়া হলো। পুরস্কার দিতে গিয়ে এমনটাই বলেছে নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রধান।

উপন্যাসটি সনাতনধর্মী বর্ণনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে পূর্ব আফ্রিকার অপরিচিত বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। এই যে সংস্কৃতি, তা পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে একেবারেই অপরিচিত, অজানা।

গুরনা বেড়ে উঠেছেন আফ্রিকার তানজানিয়ার জানজিবার দ্বীপে। ১৯৬০ সালে উদ্বাস্তু হিসেবে চলে আসেন ইংল্যান্ডে। এখন অব্দি তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা ১০টি। এছাড়া তিনি বেশকিছু ছোটগল্প লিখেছেন। নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রধান অ্যান্ডার্স অলসন বলেছেন, প্রথম উপন্যাস মেমরি অফ ডিপারচারে ছিল ব্যর্থ অভ্যুত্থানের গল্প আর সর্বশেষ উপন্যাস আফটারলাইভস এককথায় ‘অসাধারণ’। উপন্যাসটি সনাতনধর্মী বর্ণনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে পূর্ব আফ্রিকার অপরিচিত বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। এই যে সংস্কৃতি, তা পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে একেবারেই অপরিচিত, অজানা।

প্রফেসর এমিরেটাস গুরনা

২০০৩ সালে এম জে কোয়েৎজির পরে অন্য কোনো আফ্রিকান লেখক এই নোবেল পুরস্কার পাননি। গুরনাই হচ্ছেন তানজানিয়ার প্রথম লেখক যিনি নোবেল পুরস্কার পেলেন।

তাঁর চতুর্থ উপন্যাস প্যারাডাইস ১৯৯৪ সালে বুকার পুরস্কারের শর্টলিস্ট-এ স্থান পেয়েছিল। অলসেন তাঁর নোবেল পুরস্কার ঘোষণায় বলেছেন, গুরনারের কথা বলতে গেলে অবধারিতভাবে মনে পড়ে যাবে হার্ট অব ডার্কনেস-এর লেখক জোসেফ কনরাডের কথা। কিন্তু সেই গল্প এখন পুরানো হয়ে গেছে।

গুরনা অব্যাহতভাবে গভীর অনুরাগ নিয়ে পূর্ব আফ্রিকার উপনিবেশবাদের মধ্যে বার বার অনুপ্রবেশ করেছেন। তিনি সেখানকার মানুষদের শিকড়চ্যুত হওয়া আর অভিবাসী হওয়ার গল্প লিখেছেন। এই কথাগুলি ছিল অলসনের, উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এভাবেই গুরনারের সৃষ্টিশীলতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

নোবেল কমিটি থেকে পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে গুরনারের সঙ্গে যখন যোগাযোগ করা হয় তখন তিনি ছিলেন রান্নাঘরে। পুরস্কার কমিটির সঙ্গে তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলেন। সেই আলাপও ছিল ইতিবাচক।

গুরনারের সাহিত্যকর্ম

গুরনারের লেখা, সমালোচকরা বলছেন, সবকিছুই পরিবর্তনশীল – স্মৃতি, নাম, আত্মপরিচয়। এটা আসলে এই কারণে ঘটছে যে, তাঁর আবিষ্কারের দৃষ্টিভঙ্গিটা নিঃশেষ হয়ে যায়নি। তিনি গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক আবেগ নিয়ে সবকিছু দেখেন। তাঁর বইতে এরই প্রতিফলন ঘটেছে। আফটারলাইভস উপন্যাসেও ২১ বছর বয়সী উদ্বাস্তু ইউসুফের মধ্য দিয়ে এসব কথাই বলছেন গুরনা।

গুনরারের প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা দশ। সর্বশেষ প্রকাশিত উপন্যাস আফটারলাইভস। এই উপন্যাসের সুবাদেই তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে ধারণা করা যায়। কারণ, নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রধান অলসেন এই উপন্যাসটির কথা তাঁর ঘোষণায় উল্লেখ করেছেন। এই উপন্যাসটি ইলিয়াস নামের একটি চরিত্রের গল্প। গল্পটি বেশ চিত্তাকর্ষক। ছোটবেলায় জার্মান ঔপনিবেশিক সৈন্যরা তাকে চুরি করে নিয়ে যায়। বহুবছর পরে সে ফিরে আসে তার গ্রামে, নিজেদের মানুষের মধ্যে। যখন সে জার্মানদের সঙ্গে ছিল, তখন তার নিজেদের মানুষদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছে। ব্রিটিশ দৈনিক ‘গার্ডিয়ানে’ এই উপন্যাসটির সমালোচনা প্রসঙ্গে একে একটা ‘অভূতপূর্ব উপন্যাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব কথা সবাই ভুলে যাচ্ছিল, তিনি তাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। যে-ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, তিনি তাই তাঁর উপন্যাসে তুলে এনেছেন।

গুরনারের উপন্যাস, বোঝা যায়, ইউরোপীয় উপনিবেশের পটভূমিতে লেখা। বিশেষ করে ভুলে যাওয়া জার্মান উপনিবেশের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

গুরনারের লেখা, সমালোচকরা বলছেন, সবকিছুই পরিবর্তনশীল – স্মৃতি, নাম, আত্মপরিচয়। এটা আসলে এই কারণে ঘটছে যে, তাঁর আবিষ্কারের দৃষ্টিভঙ্গিটা নিঃশেষ হয়ে যায়নি। তিনি গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক আবেগ নিয়ে সবকিছু দেখেন। তাঁর উপন্যাসে এরই প্রতিফলন ঘটেছে। আফটারলাইভস উপন্যাসেও ২১ বছর বয়সী উদ্বাস্তু ইউসুফের মধ্য দিয়েও এসব কথাই বলছেন গুরনা।

গুরনারের উপন্যাস, বোঝা যায়, ইউরোপীয় উপনিবেশের পটভূমিতে লেখা। বিশেষ করে ভুলে যাওয়া জার্মান উপনিবেশের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই উপনিবেশের উল্লেখ এখন প্রায় করাই হয় না। ঊনবিংশ শতাব্দীতে জার্মান সাম্রাজ্য উপনিবেশ স্থাপন করেছিল আফ্রিকায়। তারা নামিবিয়া, ক্যামেরুন, টোগো, তানজানিয়ার কিছু অংশ, কেনিয়া, রোয়ান্ডা আর বুরুন্ডিতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই ঔপনিবেশিক শাসন ছিল বেশ কঠোর, নির্মম, সন্ত্রাসমূলক। জার্মানদের দ্বারাই বিশশতকে প্রথম ১৯০৪ সালে গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। নামিবিয়াতে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনও গড়ে উঠেছিল। পুরো পূর্ব আফ্রিকা জুড়ে, অথবা যাকে বলা হয় ‘ডেউট্শ্-ওসটাফরিকা’, সেই অঞ্চল জুড়ে যে-সামরিক কৌশল জার্মানি নিয়েছিল, তা ছিল অন্য ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর মতোই ভয়াবহ। গুরনা আফটারলাইভস উপন্যাসটি এই পটভূমিতেই লেখা। এর ঘটনাস্থল তানজানিয়া। ঔপনিবেশিক জার্মান শাসন সম্পর্কে একটা চরিত্র এই উপন্যাসে বলছে, “জার্মানরা এত বেশি মানুষ মেরেছে যে সমস্ত দেশটা মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ে জ্বলছে আর এর মাটি রক্তে ভিজে গেছে।” ইলিয়াস যখন জার্মান সেনা হিসেবে তার গ্রামে প্রবেশ করে, যেখানে সে ছোটবেলায় কফি ফার্মে কাজ করতো, তখন সে ঔপনিবেশিক শাসনকে সমর্থন করার কথা বলেছে। কিন্তু যাদের কাছে সে এসব বলছিল সেই নেটিভরা “এসব কথা শুনে ছিল নিশ্চুপ।”

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইলিয়াস জার্মান বাহিনির সেনা হিসেবে তার নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে নির্মম ভূমিকা গ্রহণ করে। এর পর এই উপন্যাসের গল্পটি তার বোনের গল্পের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। এখানেই উপন্যাসটি চমৎকার একটা বাঁক নেয়। বোন পড়তে ও লিখতে পারে বলে সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী পরিবারের সদস্যরাই তাকে নির্মমভাবে পেটায়। মেরে রক্তাক্ত করে। বোনটি তখন সাহায্য প্রার্থনা করে ইলিয়াসের বন্ধু খলিফার। সে এক দম্পতির সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। এই সময়েই উপন্যাসে দেখা মেলে হামজা নামের আরেকটা চরিত্রের। হামজার মধ্য দিয়েই অত্যাচারী ঔপনিবেশিক শাসক আর অত্যাচারিতের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কথা পাই। স্থানীয় একজন অধিবাসী ভৃত্য জার্মানদের সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে বলে, “এই জার্মানরা সুদর্শন তরুণদের সঙ্গে খেলতে ভালোবাসে।” জার্মান অফিসারটি অবশ্য হামজাকে বলে শিলারের লেখা পড়তে ও পছন্দ করতে। একইসঙ্গে সে বলে পিছিয়ে পড়া ও পশ্চাতপদ মানুষদের শাসন করতে হলে সন্ত্রাসী ভূমিকা গ্রহণ করাই হচ্ছে তাদের শাসন করার একমাত্র পথ। এইখানেই উপন্যাসটিতে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের চমৎকার ছবি পাওয়া যায়। সমালোচকরা বলছেন, গুরনা, সমান সহানুভূতি আর মনোযোগ দিয়ে এই উপন্যাসের সবগুলো চরিত্র চিত্রণ করেছেন। এতে আছে আস্থা আর ভালোবাসার কথাও।

কেন্দ্রচ্যুত মুছে যাওয়া ইতিহাস ও আফ্রিকা

এইখানেই উপন্যাসটিতে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের চমৎকার ছবি পাওয়া যায়। সমালোচকরা বলছেন, গুরনা, সমান সহানুভূতি আর মনোযোগ দিয়ে এই উপন্যাসের সবগুলো চরিত্র চিত্রণ করেছেন। এতে আছে আস্থা আর ভালোবাসার কথাও।

গুরনারের উপন্যাস, সহজেই বোঝা যায়, ইতিহাসকে তিনি কেন্দ্রচ্যুত করতে চান। সেই ইতিহাস ইউরোপের ঔপনিবেশিক ইতিহাস। তাঁর উপন্যাসগুলি তাই রাজনৈতিক উপন্যাস। একটা সময়ে একটা প্রজন্ম কীভাবে উপনিবেশের নির্মম শাসনের দ্বারা শাসিত হয়েছে, তিনি তার গল্প বলেন। একইসঙ্গে এর পর কী ঘটেছে, সেটাও লক্ষ করার কথা আছে তাঁর উপন্যাসে। আফ্রিকাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপনিবেশবাদী আলোচনা বা ডিসকোর্স থেকে বাদ রাখা যাবে না, এমনটাই তাঁর কথা। তিনি এই প্রশ্নেরই মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করান যে, কী করে আমরা স্মরণ করবো সেইসব ঘটনা যদি না মুছে ফেলা ঘটনাগুলো জানা থাকে? গুরনা বলেন বৈশ্বিক সংঘাত, আর এই সংঘাতকে এড়িয়ে গিয়ে যারা পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলেন, তাদের গল্প। উপন্যাসটি শেষ হয় তীব্র বিষাদের মধ্য দিয়ে। কিন্তু ইতিমধ্যে গুরনারের যা বলবার তা বলা হয়ে গেছে। ভুলে যাওয়া, মুছে ফেলা ইতিহাসকে তিনি পাঠকের সামনে তুলে এনেছেন। কিন্তু ঔপনিবেশিক এই ইতিহাসকে যে মুছে ফেলা যায় না, যাওয়া ঠিক নয়, সেসব কথা তিনি আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁর সর্বশেষ এই উপন্যাসের মাধ্যমে।

গুরনাহরের রচিত কথাসাহিত্যের তালিকা

উপন্যাস

Memory of Departure (1987)
Pilgrims Way (1988)
Dottie (1990)
Paradise (1994)
Admiring Silence (1996)
By the Sea (2001)
Desertion (2005)
The Last Gift (2011)
Gravel Heart (2017)
Afterlives (2020)

ছোটগল্প

“My Mother Lived on a Farm in Africa” (2006)

 

 

Share Now শেয়ার করুন