মোবাশ্বেরা খানম বুশরা | আকাশের ঠিকানায় | পরিচয় প্রেম পথচলা | স্মৃতিকথা

0
185

স্মৃতিকথা
পরিচয় | প্রেম | পথচলা

পর্ব ২

এ এক সত্যি গল্প। গল্পও নয়, জীবন, জীবনের ঘটনা পরম্পরা। যিনি লিখছেন তাঁর নাম মোবাশ্বেরা খানম বুশরা। আমাদের লেখালেখির ভুবনে নিভৃতচারী। লিখেছেনও যে খুব বেশি তাও নয়। কিন্তু স্বাধীনতার ঠিক আগে ঢাকা শহরের পাড়ায় পাড়ায় যে রুচিশীল দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী গড়ে উঠছিল, যাদের একটা বড় ভূমিকা ছিল বিকাশমান প্রগতিশীল শিল্পসাহিত্যে, যারা স্বাধীনতার পরেও এক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন, তিনি তাঁদেরই একজন। তবে একা নন, একই পাড়ায় বেড়ে ওঠা কৈশোরে পরিচিত এক কিশোরকে উত্তর-জীবনে পেয়ে গেলেন জীবনসঙ্গী হিসেবে। সেই মানুষটির নাম সাইদুল আনাম টুটুল, বরেণ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকের নির্মাতা। তারপর দুজনের যৌথচলা। টুটুলের সক্রিয়তা চলচ্চিত্রে, টেলিভিশনে; মোবাশ্বেরা শিক্ষকতায়। কিন্তু টুটুল যখন প্রথম খ্যাতির আলোয় উদ্ভাসিত হতে চলেছেন, ঠিক তখনই অকালমৃত্যু হলো তাঁর। এরপর মোবাশ্বেরার একলা চলা, দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত হলেন তিনি। ম্যারি উলস্টোনক্রাফটের ‘আ ভিনডিকেশন অফ রাইটস অফ উইমেন’ অনুবাদ করলেন ‘নারীর ভাগ্য জয়ের অধিকার’ শিরোনামে। এর পরে প্রকাশ করলেন অবিস্মরণীয় একটা আত্মজীবনী – ‘পাতার কুটির’। এবার, তীরন্দাজে তিনি শুরু করলেন টুটুলের সঙ্গে তাঁর যৌথ জীবনযাপনের সত্যি গল্প। এই গল্প ঢাকা শহরে বিকাশমান মধ্যবিত্ত আর তার শিল্পসাহিত্যে যুক্ত থাকার গল্প। পাঠক পড়লেই বুঝতে পারবেন, কী প্রশান্ত চিত্তে, প্রগাঢ় অনুভব থেকে মোবাশ্বেরা লিখছেন সেসব কথা। ভীষণ সুন্দর তাঁর সহজ বলবার ভঙ্গিটি আর ভাষা। যে-কোনো সংবেদনশীল পাঠকের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে এই লেখাটি।

র্পব ২

কসাথে বড় হয়ে উঠছিলাম আমরা দুজন। বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল বইকে ঘিরেও। দুজনেই বই পড়তে ভালবাসতাম। আমাদের বাড়িটা তো প্রায় একটা লাইব্রেরিই ছিল, তোমারও অনেক বই ছিল। তোমার কাছে ঘনাদার সেট ছিল, প্রেমেন্দ্র মিত্রের। আমরা বই চালাচালি করতাম, বইয়ের গল্প করতাম। এভাবে বড় হয়ে উঠতে উঠতে হয়তো বয়োসন্ধির পরিবর্তনও দুজনের মধ্যে হচ্ছিল। হয়ত অন্য রকম ভাল লাগা দুজনের ভেতরেই তৈরি হচ্ছিল। তুমি এলে গল্প করতে বেশি ভাল লাগত। আর দুজনের ভাললাগাগুলোও খুব মিলে যেত। তুমি আবৃত্তি করতে, আমিও করতাম। স্কুলের অনুষ্ঠানে করেছি। মনে পড়ে, তোমার বাবা প্রায়ই আমাদের দুজনকে বসিয়ে সঞ্চয়িতা থেকে আবৃত্তি করে শোনাতেন। একদিন দেবতার গ্রাস শুনিয়েছিলেন পুরো মুখস্থ। প্রচুর কবিতা মুখস্থ ছিল বাবার। তোমাকে উনিই শিখিয়েছিলেন। ওঁর আবৃত্তি কী অসাধারণ ছিল!
সাতষট্টির দিকে, যে-বছর তুমি ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিলে, সে বছরই তোমরা চামেলি বাগ ছেড়ে চলে গেলে মালিবাগ বাগানবাড়িতে। মুসলিম গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেছিলে তুমি। সত্যি বলি, তোমরা চলে গেলে খুব মন খারাপ হয়েছিল। ভীষণ অস্থির লাগত। যদিও তুমি প্রায়ই আসতে, আপিরাও আসতেন। কিন্তু আগের মতো রোজ তো দেখা হোত না। তোমরা অল্প ক’দিন পরই আবার বাড়ি বদলালে, এবারে খিলগাঁ। ভাড়াবাড়ি বলে প্রায়ই বাড়ি বদলাতে তোমরা। তুমি ম্যাট্রিক পাশ করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছিলে। আমি তখন ক্লাশ নাইনে, তোমার নিজের ঢাকা কলেজে পড়াটা খুব পছন্দ হলেও কমার্স পড়াটা মোটেও পছন্দ হয়নি। বরাবর শিল্প-সংস্কৃতিতে ঝোঁক, পুতুল নাচ শিখেছ, বাচ্চাদের আসর, নাটক পরিচালনা করতে, ছবি আঁকতে সুন্দর, ইচ্ছে ছিল সৃজনশীল কাজ করার, তাই চারুকলায় পড়ার ইচ্ছে ছিল, অথচ বাড়ি থেকে জোর দিল কমার্স পড়তে, চাকরি পাওয়া যাবে বলে। আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার পারে না এটা সামলাতে। তোমার এই দুঃখ সবসময়ে ছিল, তুমি আর্ট কলেজে পড়তে পারলে না, অথচ আপাদমস্তক তুমি ছিলে শিল্পী। ছবি আঁকার চর্চা সব সময় করতে। বাবা বলেছিলেন সেখানে পড়ার অনেক খরচ। তুমি বাবার কষ্ট বুঝতে। কিন্তু তোমার কষ্টটা বুকের ভেতর রয়েই গিয়েছিল।

আমার ম্যাট্রিক পরীক্ষার টেস্টের পর লম্বা ছুটি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। সেটা ঊনসত্তর সাল। তখন এত কোচিং, মডেল টেস্ট ছিল না, খুব খারাপ করত যারা তারা প্রাইভেট পড়ত। আমি সারাদিন বাসায় বসে পড়ি বা পড়ার ভান করি। অংক আমার একটা বড় দুশ্চিন্তা। এক দুপুরে তুমি কলেজ থেকে এসেছিলে, পরনে সাদা ম্যাজেন্টা স্ট্রাইপ সোয়েটার, হাতে বইখাতা। আমি চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর ঝুঁকে লিখছিলাম, তুমি পেছন থেকে ডাক দিলে। শীতের দিন, বাইরেটা ঝলমলে রোদে ভেসে যাচ্ছে। দুপুরটা সেই রোদে ভিজে কেমন উদাস হয়ে যেন হাত-পা ছড়িয়ে বসে আছে। রান্নাঘরে আম্মা, কোন একটা মাছের ঝোল ফুটছে চুলোয়। তার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সারা বাড়ি নিঝুম। এই সময়টা সবাই বাইরে থাকত। হঠাৎ তোমার গলা শুনে পেছন ফিরে তোমাকে দেখে কী খুশিতে যে মনটা ছেয়ে গেল! সেই দুপুর, তার রঙ, গন্ধ সবসহ তোমার হাসি হাসি ছবিটা নিয়ে আমার চোখে জ্বল জ্বল করে আজো, আর চোখ কেবলি ছল ছল করে ওঠে। কোনদিন দেখব না তোমাকে, দেখি না কতদিন! জানি না ক’দিন আর বাঁচব, যে ক’দিনই হয় তোমাকে আর দেখব না, এ সত্য, এই সত্যটা মেনে নেয়া যে কী কষ্ট! মৃত্যুর এটাই সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতা, চিরকালের মতো ছিনিয়ে নেয়! সেদিন আমরা অনেকক্ষণ গল্প করেছিলাম, কথা বলতে বলতে আমার খাতায় আমার একটা স্কেচ করেছিলে তুমি, আমি টেবিলে ঝুঁকে লিখছি। অনেকদিন খাতাটা যত্ন করে রেখেছিলাম, পরে হারিয়ে গেল জীবনের সেই দিনগুলোর মতই। আর খুঁজে পাই নি।

একবার এক পঁচিশে বৈশাখে রবীন্দ্রনাথের স্কেচ করে একটা কার্ড বানিয়ে দিয়েছিলে ছোট্ট একটা চারকোণা আর্ট কাগজে। কী যে খুশি লেগেছিল, ওগুলোই ছিল আমার অমূল্য সম্পদ। আমরা তখন পচিঁশে বৈশাখেও এমন উপহার দেয়া-নেয়া করতাম। সেদিন আমাদের পাড়ায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠান চলছিল। তখন প্রতি বছর পাড়ায় ছেলেরা এই অনুষ্ঠান করত। আমাদের বাড়ির সামনের ছাড়াবাড়ির মাঠে প্যান্ডেল টানিয়ে খুব ধুমধাম করে হত। সেটা আমাদের জন্য একটা দারুণ ব্যাপার ছিল। বেশিরভাগ সময় আব্বা সভাপতি থাকতেন। মূল দায়িত্বে থাকতেন শ্রমিক নেতা মন্জুরুল আহসান খান আর ওঁর ভাইয়েরা। খুব উত্তেজনা আর আনন্দ ঘিরে থাকত পুরো আয়োজনটাকে। তখন এমন একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছিল। এখন যেটা হারিয়েই গেছে। তুমি সে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছিলে, মাঝখানে এক সময় আমাকে খুঁজতে বাসায় এসে ওই কার্ডটা দিয়েছিলে। কি যে ভাল লেগেছিল। ওই কার্ডটাও হারিয়ে গেছে জানো। আমার সেই পুরোনো ট্রাংক, যেটার ভেতর আমি আমার সেই স্কুলজীবন থেকে যত চিঠি, কার্ড, ডায়েরি যা কিছু লিখেছিলাম সেসব যত্ন করে রেখেছিলাম, সেটার মধ্যে নেই। জীবনের এতবার বাড়ি আর বাঁক বদলেও ওটা আগলে রাখতে পেরেছি, চিঠিগুলোও সবই প্রায় আছে কিন্তু ওই কার্ড আর খাতাটা (আরেক দুপুরে এসেছিলে, যেদিন আমার রাফ খাতায় কিছু কথা লিখেছিলে, অনেকদিন সেই খাতাটাও যত্ন করে তুলে রেখেছিলাম) হারিয়ে গেছে তোমার মতই।
কত দিনের স্মৃতি, কত কথা, কত কত মূহূর্ত মিশে গিয়ে হাহাকার হয়ে ওঠে এক মূহূর্তে! তাই ভাবছি! এক সাথে বড় হতে হতে কখন যেন আমরা বয়োঃসন্ধির চৌকাঠ পেরিয়ে যৌবনের সিংহদ্বারে পা রেখেছি। বড় হয়ে ওঠার বুঝতে না-পারা আবেগ হতচকিত বিহ্বলতায় অধীর করেছে কখনো কখনো! কখনো উন্মুখ করেছে নিজেদের অপ্রকাশ্য অস্থিরতাকে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখতে, অস্থির হয়ে উঠেছে মন, কিন্তু সে নিজেও জানে না কেন।

আমার এখনো মনে আছে এক বৃষ্টিরাতের কথা। খুব আড্ডা জমেছিল সন্ধে থেকে, শামিম, শাহীন তুমি সবাই মিলে কি হৈহৈ! তারপর চলে গেলে পর কেমন অস্থির লাগছিল। আমাদের টিনের চালে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছিল, আমার মনের মধ্যে একটা গানের সুর টানা বেজেই যাচ্ছিল, “উতল ধারা বাদল ঝরে, সকল বেলা একা ঘরে”। এটা আমার হয় জানো, এক-এক সময় এক-একটা গানের সুর মনের মধ্যে বাজে সারাদিন। ক’দিন ধরেও বাজে। যেসব বই পড়ি, বেশি ভাল লাগারগুলো, মনের মধ্যে ছবি এঁকে যায়। ছবিগুলোকে মনের ভেতর অন্য কিছুর সাথে, আশেপাশের ঘটনা বা মানুষের সাথে মেলাতে থাকি কল্পনাতে। এখনো জীবনের এত ঘা খেয়েও সেই কল্পনাশক্তিটা হারিয়ে যায়নি। এই যে লিখছি, আমার কিন্তু কেবলি মনে হচ্ছে তুমি কোথাও আছ, শুনছ, দেখছ। আমার কল্পনায় তুমি মিলেমিশে আছ, হঠাৎ এসে বলবে তোমরা কি করছ, কেমন আছ আমাকে ছাড়া? কীভাবে আছ? কেমন যে আছি তোমাকে ছাড়া! কত ভাবে যে চেষ্টা করছি ভুলে থাকতে ভালো থাকতে! কেবল প্রতিটি নির্ঘুম রাত জানে কেমন আছি, কীভাবে বেঁচে আছি।

বড় হতে হতে অন্যরকম ভালো লাগার একটা ছবি হয়ত মনের মধ্যে তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু কেমন যেন ঝাপসা ঝাপসা সে ছবি। সেটা যে তোমারই ছবি, তা নিশ্চিত বলতে পারব না। অনেক পরে রিজিয়া রহমানের শিলায় শিলায় আগুন পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। শেষ করে একটা ঘোরের মধ্যেই আছি তখনো, যেটা আমার এখনো হয় কোন বই পড়ে ভালো লাগলে। তখন আমার চোখে কেবলি ভাসছে সেই পাহাড়ি উপত্যকা, তার কঠিন উদাসীন প্রকৃতি আর মানুষের মনের ভেতরের আবেগ তরঙ্গ যা উত্তাল করে তুলেছিল এক বিপ্লবীর জীবন, ভাসিয়ে নিয়েছিল দ্রোহে প্রেমে এক বালুচ তরুণীকে। আর অনেকদিন কিন্তু পড়ি নি বইটা, কেবল মনে ছিল এক অদম্য বিপ্লবীর দুরন্ত করুণ প্রেমকাহিনি, সেটি। কিন্তু কেন যেন বইটা প্রথমবার পড়ার সময়ে অনেক দিন আগের একটা স্মৃতি মনের ভেতর উঁকি দিয়েছিল। আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম আমাদের উঠোনে বসে, মাদুর পেতে, মোড়ায় আর ফোল্ডিং চেয়ারে বসে। সময়টা সম্ভবত বসন্তের শেষদিক। দক্ষিণের ঘরটার পেছনে দুটো নারকেল গাছ, শেষ বসন্তের হাওয়ায় নারকেল গাছের পাতাগুলো কেমন যেন উতলা হয়ে সর সর শব্দ করে দুলছিল। ওই উপন্যসের সাথে কোন মিল নেই, সেদিনের বিকেলের, ওটা পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের ১৯৫৮ সালের বিদ্রোহের নায়কের গল্প। কিন্তু আমার মনে সেই গল্পটার সাথে কোথায় যেন মিলে যাচ্ছিল। আবেগ অনুভূতি সব। এত স্পষ্ট সে স্মৃতি, এত প্রাণময়, যেন আমি এখনো সেই আবেগটাকে অনুভব করি মনের মধ্যে, ছুঁতে পাই হাত দিয়ে। বইটা পড়েছিলাম আমাদের বিয়ের পর। প্রিয় বইয়ের ঘটনা আর চরিত্রদেরকে নিজের আর আশপাশের মানুষদের সাথে মেলানোর একটা অভ্যেস আমার ছিল, এখনো আছে। রোজকার মতো আড্ডায় তোমার সাথে সিরাজচাচার ছেলেরা, মানে শামিম, শাহীন, ফাহিম নাসিমও ছিল। সেই বিকেল, সেই আড্ডা, সেই নারকেল গাছের পাতায় পাতায় উতরোল হাওয়া আর তুমি, আমি, আমরা – সবসহ মনের মধ্যে ছবিটা গেঁথে আছে। না তুমি কোন বিপ্লবী নও, নও যোদ্ধা তখনও, তবুও। তবে বছর কয় পরে যখন মুক্তিযুদ্ধে গেছ তুমি, সেই সময়কার কথা মনে পড়ত, কী করে যেন ঐ সন্ধেটাকে মনে পড়ত, একাত্তরের দিনগুলোতে তোমার চলে যাওয়ার কথা মনে হলেই। প্রায়ই ফিরে যেতাম ওই বিকেলের স্মৃতিতে। ওই সময় কতবার কতভাবে ভেবেছি তোমাকে। ভাবতে ভাল লাগত। তখনো কিন্তু জানি না বুঝি না স্পষ্ট করে সেই ভালো লাগার স্বরূপটা। নিজের কাছে নিজের মনের খুব গভীর একান্ত কোন কিছুকে বুঝতে বোধ হয় সময় লাগে। আর আমি একটু অনিশ্চিত মানুষ, সব সময়েই একটু দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতাম, তোমার মতো নিজের কাছে এত স্পষ্ট নই বা ছিলাম না কখনো।

সেই প্রথম রঙিন শাড়ি, নিজের শাড়ি পেলাম আর পরলাম। তোমার সাথে আলাদা করে কোন কথা তখনো হয়নি, ভালো লাগত অতটুকুই, তবু শাড়ি পরলে মনে হোত তুমি যদি দেখতে! মনে পড়ে তখন মাত্রই বুদ্ধদেব বসুর তিথিডোর পড়ে আবেগের বিহ্বলতায় কাঁপছি প্রায়। আমি বরাবর ভীষণ আবেগপ্রবণ, এই বয়সেও, রোম্যান্টিক তো বটেই, বাস্তবের কঠিন আঘাতগুলো আজো একটুও ভাংতে পারে নি সেই আবেগের দেয়ালটাকে, তোমার মনটাও তেমনি ছিল শেষ পর্যন্ত।

বদরুন্নেসা (তখন নাম ছিল গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে) কলেজে যখন আমি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি তখন এক ঈদে আম্মা আমাকে একটা গাঢ বাদামি রঙের দু-রঙা চুড়ি পাড়ের তাঁতের শাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। আমার প্রথম শাড়ি। অনেক দাম, পঞ্চাশ টাকা! আমি যে কী খুশি হয়েছিলাম। এত দামে এর আগে কোন সুতি শাড়ি বোধ হয় কেনা হয় নি। বোধহয় বড়পা বা মেজপার জন্য কেনা হয়েছিল, ওদের পছন্দ হয়নি তাই আমার ভাগে এল সেটা। তুমি ঈদের দিনে এসেছিলে, আমাকে শাড়ি পরা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিলে, মনে আছে। তখন আমরা কলেজে কোন অনুষ্ঠান হলে শাড়ি পরতাম, সব সময়েই লাল পাড় সাদা শাড়ি। সেই প্রথম রঙিন শাড়ি, নিজের শাড়ি পেলাম আর পরলাম। তোমার সাথে আলাদা করে কোন কথা তখনো হয়নি, ভালো লাগত অতটুকুই, তবু শাড়ি পরলে মনে হোত তুমি যদি দেখতে! মনে পড়ে তখন মাত্রই বুদ্ধদেব বসুর তিথিডোর পড়ে আবেগের বিহ্বলতায় কাঁপছি প্রায়। আমি বরাবর ভীষণ আবেগপ্রবণ, এই বয়সেও, রোম্যান্টিক তো বটেই, বাস্তবের কঠিন আঘাতগুলো আজো একটুও ভাংতে পারে নি সেই আবেগের দেয়ালটাকে, তোমার মনটাও তেমনি ছিল শেষ পর্যন্ত। তো সেই তিথিডোর পড়ার রেশ মনের ভেতর গুঞ্জন তুলছিল, আর প্রথম শাড়ি পড়ার শিহরণটা মিলেমিশে ওই বইয়েরই একটা অধ্যায়ের কথা বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছিল, ‘প্রথম শাড়ি প্রথম শ্রাবণ’।

আমাদের পাড়া থেকে তোমরা বাড়ি বদল করে চলে গেলে বাগানবাড়ি, সেখান থেকে খিলগাঁ। কী যে মন খারাপ হয়েছিল। তোমারো নিশ্চয়ই খারাপ লেগেছিল। ভাড়াবাড়িতে থাকায় প্রায়ই বাড়ি বদল করতে হত তোমাদের। সেই বিড়ম্বনা সব সময় কষ্ট দিত তোমাকে।

দুই: আকাশে আকাশে ধ্রুব তারায়…

একাত্তরে তোমরা খিলগাঁয়ে থাকতে। পঁচিশে মার্চের রাতে পুলিশ লাইনের লম্বা ব্যারাকটায় পাকিস্তানি মিলিটারিরা আগুন ধরিয়ে দিলে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে সিরাজচাচাদের (ইত্তেফাকের শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন) বাড়ি উঠেছিলাম। মামা এসে আমাদের, মানে কচিবুসহ (সে রাতে মামার বড় মেয়ে কচিবু আমাদের বাড়ি ছিল) আমাদেরকে ওঁর মালিবাগের বাসায় নিয়ে গেলেন। বড়পারা তিনজন আম্মার সাথে লণ্ডভণ্ড বাড়িঘর গোছানোর জন্য রয়ে গেল। দুপুরের আগে তোমার বড় দু ভাই – মিঠু ভাই আর বাবুল ভাই এপাড়ায় আমাদের খবর নিতে এলেন। বড়পারা এ বাসায় এখনো আছে দেখে ভয় পেয়ে বললেন আর্মিরা তো বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদেরকেও হেনস্থা করছে। আম্মা ভয় পেয়ে ওঁদের বললেন বড়পাদেরকে ওঁদের বাড়ি নিয়ে যেতে। আমাদের বাড়িটা রাজারবাগ পুলিশলাইনের সাথে বলে খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পুলিশরা সে রাতে আমাদের টিনের চালের ওপর থেকে রাইফেল দিয়ে আর্মির কামান আর মর্টারের উত্তর দিচ্ছিলেন। সারা বাড়ি ভর্তি ছিল পুলিশ আর ওদের পরিবারে। ভোর রাতের দিকে ওদের কামান আর মর্টারের সাথে আর পারা যাচ্ছেনা দেখে আমাদের বাড়ির আলনা, বিছানা যেখানে যা কাপড় চোপড় ছিল পরে ওঁরা পালিয়েছিলেন। পুলিশদের ছেড়ে যাওয়া পোশাক আর ফেলে যাওয়া রাইফেল বন্দুক আমাদের সারা বাড়ি জুড়ে ছড়ানো। কী হয়েছে কী হচ্ছে কিছুই তখনো কেউ বুঝে উঠতে পারে নি। আম্মা তাই প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন। দু-দিন বড়পারা তোমাদের বাড়ি ছিল। ওরা ফিরল, আবুল ভাই নরসিংদি থেকে ফিরলেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে। আমরা সবাই তখন মামাবাড়িতে, মালিবাগে ঢোকার মুখেই ছিল বাড়িটা। সেই সময়, মনে হয় ২৯ মার্চ, মামার বাড়ির সামনে গেটে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছিলাম কীভাবে মানুষ ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। হঠাৎ দেখি তোমরা ক’ভাই একটা গাড়ি ঠেলে ঠেলে নিয়ে আসছ। ক’ দিন আগে শুনেছিলাম তোমার বড় দুলাভাই (তোয়াব খান, তখন দৈনিক পাকিস্তানের বার্তা সম্পাদক ছিলেন) একটা গাড়ি কিনেছেন, তখনকার দিনে গাড়ি কেনা একটা খবর ছিল বটে! সেই গাড়ির কী যেন সমস্যা হয়েছিল, তোমরা ঠেলে ঠেলে সেটা বাড়ি নিয়ে যাচ্ছ। পাঁচটায় কারফিউ শুরুর আগেই নিয়ে যেতে হবে, আর্মি রাস্তায় গাড়ি দেখলে ঝামেলা করতে পারে। সেই কিন্তু তোমার সাথে একাত্তরে শেষ দেখা। কারণ ৩০মার্চ আমরা ছ’ভাইবোন মামার সাথে বগুড়ায় নানাবাড়িতে রওনা হয়েছিলাম। পৌঁছেছিলাম মনে হয় ২ এপ্রিল। সে গল্প অন্য জায়গায় করছি।

প্রায় দু’মাসের কাছাকাছি ছিলাম আমরা নানাবাড়ি। কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা সে সময় যে হয়েছে! আব্বাদের খবর পেতে কী কষ্ট! বোধ হয় দুবার পেয়েছি খবর যে ভাল আছেন। আমরা জুনের প্রথম দিকে ফিরে শুনি যে তোমরা নেই। কেউ ঠিক করে কিছু বলছিল না। দুলাভাইরা তিন ভাই, তোয়াব ভাই, বাচ্চুভাই, ছোট্টুভাই (তাঁরা সম্পর্কে তোমার ফুপাত ভাইও হতেন), তুমি তিন বোন দুই বাচ্চাসহ সবাই, তোমরা কেউ দেশে নেই। আমরাও বেশি কিছু জিজ্ঞেস করি নি। তখন হঠাৎ কাউকে না দেখা গেলে কেউ কিছু প্রশ্ন করত না। মিঠুভাই বাবুলভাই মাঝে মাঝে আসতেন। কিন্তু তোমাদের কোন খবর জানেন না বলতেন।

এই সময়টা ভীষণ মনে হোত তোমাকে, কেমন একটা কষ্ট হোত বুকের ভেতর। একটা গল্প লিখেছিলাম তোমার কথা ভেবে। আগে যখন টেলিভিশনে তোমার অনুষ্ঠান হোত সব সময়ে অত মন দিয়ে দেখিনি (তত দিনে বাসায় টিভি এসে গেছে)। কিন্তু তখন যখন ছোটদের অনুষ্ঠান হোত কেবলি একটা শূন্যতা, অর্থহীন মন খারাপ ঘিরে রাখত সব কিছু। কাউকে বলা যায়না এমন। সে কী যন্ত্রণার মাসগুলো ছিল, সব মিলিয়েই, ভয়, আতংক, অনিশ্চিত মুহূর্তের ত্রাস ছেয়ে থাকত আমাদের রাতদিন। দেশের কী হয়, কী হবে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা পারবে কিনা, আমরা তো সারাক্ষণ ভয়ে আছিই কখন মিলিটারি আসে এসব শংকা নিয়ে।,তার সাথে উৎকন্ঠা আর উদ্বেগ তোমাদের জন্য। আমরা স্বাধীন বাংলা বেতারে দুলাভাইয়ের (তোয়াব খান) পিণ্ডির প্রলাপ অনুষ্ঠানটি শুনে উত্তেজিত হয়ে উঠতাম আর ভাবতাম তোমরা ভাল আছ, জানতাম না যে বাচ্চু ভাই, তুমি, ছোট্টু ভাই সবাই মুক্তিযুদ্ধে আছ, জানতাম না কীভাবে আছ কোথায় আছ। ওসবের ভেতরেই হয়ত আছ। তার মধ্যে প্রতিনিয়ত খবর পাচ্ছি চেনা মানুষকে হারানোর। কত কত জন যে হারিয়ে গেল। রাতদিন খবর পেতাম পাকিস্তানিদের নৃশংসতার, বাসভর্তি মানুষকে লাইন করে দাঁড় করিয়ে মেরে ফেলা, গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে ফেলা তখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা শুনতাম আর শিউরে শিউরে উঠতাম।

কী উত্তেজিত হয়ে তুমি বলছিলে মুক্তিযুদ্ধের গল্প! মন্টু ভাইয়ের সাথে শরণার্থী শিবিরে পুতুল নাচের আয়োজন করার কথা! আমরা সবাই গোল হয়ে ঘিরে শুনছিলাম। কী যে গর্ব হচ্ছিল তখন। মুক্তিযোদ্ধা মানে আমাদের কাছে তখন স্বপ্ন-মানব। তোমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছ, দেশ স্বাধীন করে ফিরে এসেছ, এ যে কত গর্বের কথা!

এর মধ্যে ডিসেম্বরে ঘটে গেল সেই ভয়াবহ ঘটনা। ১০ তারিখে মাঝরাতে সিরাজ চাচাকে ধরে নিয়ে গেল আলবদররা। ১৭ ডিসেম্বর জানা গেল রায়ের বাজারের বধ্যভূমির কথা। চাচার বড় ছেলে শামীম ওপারে চলে গিয়েছিল, ফিরল ডিসেম্বরের শেষে যেদিন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীরা ফিরলেন, তাঁদের সাথে। শামীম জানাল তোমার সাথে কোলকাতায় দেখা হয়েছে।

অধীর ব্যাকুল অপেক্ষা ছিল তোমার জন্য! কিন্তু সিরাজ চাচার মৃত্যু সবকিছু অন্যরকম করে দিয়েছিল। তুমি একুশে ডিসেম্বর একটা চিঠি লিখেছিলে সেটা পেলাম আটাশ তারিখে। ঊনত্রিশ তারিখে আমি, বড়পা, বন্যা তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে শুনলাম তোমাদের যাওয়াটা প্ল্যান করা ছিল। এতদিন মিঠু ভাইরা ঠিক মতো বলেন নি। অবশ্য সেটা ঠিকই ছিল নিরাপত্তার কারণে, এসব খবর কেউ সঠিক ভাবে বলত না।

তোমরা ফিরলে সম্ভবত জানুয়ারির ১১ তারিখে। পরদিনই এলে আমাদের বাড়ি। যে-দিন এলে খুব একটা কাঁপন হচ্ছিল বুকের ভেতর। কেন যে! তুমি কোলকাতা থেকে অনেকগুলো বই নিয়ে এসেছিলে আমার জন্য। বেশ, অনেক। তখন আমাদের সাধ্যি ছিল না এত বই একসাথে কিনি! কী যে খুশি হয়েছিলাম। মনে আছে বইগুলোর মধ্যে ছিল অবনীন্দ্রনাথের নালক, বুড়ো আংলা আর ছিল হাজার বছরের প্রেমের কবিতা। আহা সেই দিন! কোথায় হারিয়ে গেল। কী উত্তেজিত হয়ে তুমি বলছিলে মুক্তিযুদ্ধের গল্প! মন্টু ভাইয়ের সাথে শরণার্থী শিবিরে পুতুল নাচের আয়োজন করার কথা! আমরা সবাই গোল হয়ে ঘিরে শুনছিলাম। কী যে গর্ব হচ্ছিল তখন। মুক্তিযোদ্ধা মানে আমাদের কাছে তখন স্বপ্ন-মানব। তোমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছ, দেশ স্বাধীন করে ফিরে এসেছ, এ যে কত গর্বের কথা! সব মিলিয়ে বুকের ভেতরে তখন কেবলি খুশির ঢেউ। তুমি প্রথমে বাচ্চু ভাইদের সাথেই ছিলে, মানে তোমার মেজ ফুপুর ছেলে ওবায়দুল কবীর খান যাঁর ডাক নাম বাচ্চু। বাচ্চু ভাই তোয়াব ভাইয়ের ছোট ভাই, পরে মেজো বোন সখিনা আপার সাথে বিয়ে হল। ওঁদের নিজেদের দেশের বাড়ি সাতক্ষীরা সীমান্তে, ওইপারে চব্বিশ পরগনার হাকিমপুর গ্রামে। সোনাই নদীর এপারে সাতক্ষীরার ভাদলি বলে একটা গ্রাম, ওপারে হাকিমপুর। বাচ্চুভাইরা ওই এলাকায় যুদ্ধ করেছিলেন। ওঁর ছোট ছোট্টু ভাইও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাচ্চু ভাই কম্যন্ডার ছিলেন ওই এলাকার। কিন্তু ফুপু তোমাকে যুদ্ধে দিতে চাইতেন না। ভাইয়ের খুব আদরের ছোট ছেলে বলে। তুমি তখন দাপ্তরিক কাজে জড়িয়ে গেলে, মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব জিনিস দেয়া হত সেসবের তালিকা করতে। অস্ত্র দেয়া-নেয়া করতে এপারে-ওপারে। প্রতিদিন বাজারের ব্যাগে করে অস্ত্র নিয়ে এপারে আসতে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌছে দিতে, আবার ফিরে যেতে। হেঁটে হেঁটে যাবার সময় মনে মনে বিড় বিড় করে বলতে, “পদব্রজে স্বদেশ গমন!” আবার হেঁটে ফিরে আসার সময়ে বিড় বিড় করে বলতে, “পদব্রজে বিদেশ প্রত্যাবর্তন”। এটা যেন রোজকার একটা খেলা ছিল তোমার। এর মধ্যে মন্টু ভাই কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে শিশুদের দুঃসহ কষ্ট দেখে ঠিক করেছেন যেভাবেই হোক এসব বাচ্চাদের মন ভাল করতে হবে, ওদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। তোমাকে এবং আরো ক’জনকে খবর দিলেন লোক দিয়ে। তোমরা কোলকাতায় চলে গেলে। ঠিক হল শিবিরে শিবিরে ঘুরে ঘুরে পুতুল নাচের ব্যবস্থা করবে তোমরা, বাচ্চারা খুশি হয়ে উঠবে। শুরু হল আয়োজন। পুতুল বানানো, নাচানোর ব্যবস্থা করা। তোমাদের সেই পুতুল নাচেও ইয়াহিয়া খানকে ব্যঙ্গ করে গল্প বলা হত যেখানে মুক্তিযোদ্ধদের বীরত্বের কাহিনি শুনে বাচ্চারা খুশির উচ্ছাসে ফেটে পড়ত। গলা দিতে তুমি আর মন্টু ভাই। তুমি দিতে এক গরীব চাষীর গলা আর মন্টু ভাই ইয়াহিয়ার গলা। সেই গল্পের একঝলক দেখা গিয়েছিল লিয়ার লেভিনের শ্যুট করা ও পরে তারেক মাসুদের বানানো মুক্তির গানের (ছায়াছবি) শেষ দিকে। আমরা সবাই অবাক হয়ে তোমার এসব গল্প শুনছিলাম। মনটা গর্বে ভরে যাচ্ছিল আমার।

(চলবে)

মোবাশ্বেরা খানম : লেখক ও অনুবাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও ডিন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : পাতার কুটির (আত্মজীবনী) এবং নারীর ভাগ্য জয়ের অধিকার (ম্যারি উলস্টোনক্রাফটের আ ভিনডিকেশন অফ রাইটস অফ উইমেন-এর বঙ্গানুবাদ)।

প্রথম পর্বটি পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন

আকাশের ঠিকানায় >> পর্ব ১

Share Now শেয়ার করুন