মোস্তফা তারিকুল আহসান >> প্রজাপতি পাখা মেলো >> উপন্যাস (পর্ব ৪)

1
317

পর্ব ৪

আগে (পর্ব ১-৩) যা ঘটেছিল

পর্ব ১

রোমেলা তার রক্ষণশীল ধর্মান্ধ বাবা তানভিরের অমতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। মায়ের অবশ্য নীরব সম্মতি ছিল। প্রথম দিন ক্লাসে ঢোকার আগেই একটা অচেনা ছেলে তাকে সামান্য ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। রোমেলা বিস্মিত। ক্লাসে ঢুকেই সামান্য কথা বলার কারণে শিক্ষকের কাছে তিরষ্কৃত হয়, খুব কষ্ট পায় সে।

পর্ব ২

দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা মামা হায়দারের আদর্শ মনেপ্রাণে ধারণ করে রোমেলা বড় হয়েছে। মায়ের মনে পড়ে যায় সেই ভাই আর তার সঙ্গে কাটানো ছোটবেলার কথা। কিন্তু রক্ষণশীল ধর্মান্ধ বাবা মুক্তিযুদ্ধকে মানতে চান না। কিন্তু নিজের ছোট ছেলে যখন বলে বসে, বাবা তুমি মুক্তিযোদ্ধা হলে আমরা গর্ব করতে পারতাম। তখন বাবা তানভির ভাবতে শুরু করে সময়টা এখন অন্যরকম।

পর্ব ৩

রোমেলা ও শিউলি দুই বন্ধু। একবছর আগে ভর্তি হওয়া শিউলির মৈত্রী হলের রুমেই রোমেলা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হেঁটে যাচ্ছেন। ক্লাসের ফাকে রোমেলা, শিউলি, রকিব মধুর ক্যান্টিনে মিলিত হয়। কথায় কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাইকে পড়তে হবে কেন, রোমেলা এমন যুক্তি দেয়। তার আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা হায়দার মামা। বড় ভাই রাসেলের কথাও মনে পড়ে রোমেলার। কিন্তু সেই যে রাসেল বাবার সঙ্গে বিবাদ করে বাড়ি ছেড়ে গেছে, তার আর কোনো খবর নেই।

এরপর পড়ুন পর্ব ৪

স্বাধীন সভ্য দেশে শিক্ষিত ছেলেদের ভয়ে কেন মেয়েরা ভিতু বিহ্বল বা শঙ্কিত হয়ে থাকবে? পশুযুগের স্বভাব বা পশুর স্বভাব যদি এখনো পুরুষের মধ্যে থাকে, তবে আমাদের কোনো উন্নতি হবে না। আমাদের এগুতে হবে মানবতা দিয়ে, পশুত্ব বাদ দিয়ে যুক্তি আর মানবতার দিকে যেতে হবে। সেটা না হলে নিজেদের সভ্য বলতে পারব না।

শিউলি বলে, তুই কি রুমে ফিরবি নাকি লাইব্রেরিতে যাবি? রকিব তো বাসায় ফিরবে। রোমেলা বলে, তুই কোথায় যাবি? শিউলি বলে, আমি তো টিউশনিতে যাব। আমার তো সপ্তাহে তিন দিন পড়াতে হয়। সন্ধ্যা সাতটায় ফিরব। রোমেলা বলে, তাহলে লাইব্রেরিতে যাই। একা একা রুমে ফিরে কি করব! রকিব, যাইরে, বলে রোমেলা চলে যায়। ওর সাথে শিউলিও যায়। রোমেলা লাইব্রেরির দিকে হাঁটতে থাকে।

পেছনের দিকের তিন তলায় উঠে সে সাময়িকী বিভাগে ঢোকে। সাহিত্য পত্রিকাগুলো একটু উল্টেপাল্টে দেখতে চায়। প্রথমে একটা টেবিলে বসে কিছুক্ষণ। মাঝেমাঝে ওকে এরকম একাকীত্ব পেয়ে বসে। রোমেলা তখন আশেপাশের কিছু ভালো করে লক্ষ করে না। নিজের মধ্যে ডুবে যায়। বাবা মা ভাই বোন বন্ধুবান্ধব কারো কথা বিশেষভাবে তখন মনে পড়ে না। সব যেন নির্বিশেষ। নিজের বোধের সাথে কথা বলা বা সময় কাটানো; তখন সবার সাথে থেকেও সে আলাদা। বাবার সাথে আসার আগে কথা কাটাকাটি হবার পর থেকে মনটাতে একটা স্থায়ী বিষণ্ণতা চেপে বসেছে। সবার সাথে কথা বলছে ঠিকই বা সাধারণ কাজকর্ম সবই করছে, তবে আবার সবার থেকে আলাদা হয়েও যাচ্ছে। রোমেলা ভাবে, বাবার সাথে আসলে একটা ফয়সালা হওয়া দরকার। বাবার সাথে আগেও তর্ক হয়েছে। তবে এবার যেটা হয়েছে সেটা যেন একটা বড় ক্ষত হয়ে উঠছে। তাকে প্রায় পাঁচ বছর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। অনেক লম্বা সময়। কী হবে? ভাইয়া কোথায়? সে কী এই শহরে আছে? সে কী জানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে? নিশ্চয় জানে না। জানবেই না কি করে।

শুভর কথা মনে পড়ে। এত ভালো ছাত্র এইচএসসিতে ফেল করল, কেমিস্ট্রি আর অঙ্কে। ভাবা যায় না। সেও চেয়েছিল ওরা দুজনে একসাথে ঢাকায় পড়বে। ফল প্রকাশের পর শুভ আর ওর সাথে দেখা করেনি। সে যে শুভর রেজাল্টের খবরটা জানে, সেটাও নিশ্চয়ই শুভ জানে। কারণ কলেজের ফল তো সবারই জানার কথা। কেন শুভ ফেল করল, জানাটা রোমেলার জন্যে খুব জরুরি। সে কি আদৌ পরীক্ষা দিয়েছিল ওই দুই পেপারে? কিন্তু কীভাবে জানবে। কোনো উপায় তো সে দেখছে না। আগে যখন রাজশাহীর পত্রিকায় মাঝেমধ্যে লিখত, তখন শুভর খবর কিছুটা জানা যেত। শুভর লেখার নেশা ছিল না। তবে পড়ার নেশা ছিল। একদিন জিজ্ঞেস করেছিল রোমেলা, ‘আমি তো মনে করি তুমি কবিতা লিখতে পারো, লেখো না কেন?’ সে বলেছিল, ‘দূর, কি যে বলো, সবাই লিখলে পড়বে কে? আর শোনো, কবিতা লিখতে গেলে যে স্থৈর্য থাকা প্রয়োজন, যে অভিনিবেশ আর অভিজ্ঞানের দরকার হয়, সেটা আমার নেই।’

শুভর কথা শুনে রোমেলা অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। কী উত্তর দেবে ভেবে পায়নি। তারপর একটু ভেবে বলেছিল, হ্যাঁ, তোমার কথা ঠিক, প্রাত্যহিকের বাইরে গিয়ে চিৎপ্রকর্ষের জানালা সব খুলে ফেলতে না পারলে শিল্পসৃজন হবে কী করে? আমার লেখাও ছাইপাশ হচ্ছে বলে মনে হয় আমার। যদিও আমি কম লিখি, তবু মনে হয় এই অক্ষরের পর অক্ষর সাজানো আর উচিত হচ্ছে না। 

রোমেলা ওর গুরুগম্ভীর কথা শুনে বলেছিল, তুমি যেভাবে বললে সেটা শুধু কবিরাই বলতে পারে। আমার ধারণা তুমি কবিতার ভাবনার মধ্যেই আছো। লিখতে বসলেই পারো। শুভ সেদিন যা বলেছিল তা রোমেলার আজও মনে আছে স্পষ্ট। সে তাকে অবাক করে দিয়ে বলেছিল, পারলেই লিখব কেন? নিজের ব্যক্তিগত দহন, ক্রোধ, বিবমিষা – এসব নিয়ে অহেতুক কেন লিখব? এসব তো বিকার তৈরি করে। যদি কখনো শুদ্ধ নতুন বোধের কাছে ফিরে যেতে পারি, যদি আনন্দযজ্ঞ তৈরি করতে পারি, তাহলে লিখব। না হলো কোনোদিন লিখব না। রবি ঠাকুরের একটা গান তো জানো, আনন্দধারা বহিছে ভুবনে। কখনো ভেবেছো, কত কাল ধরে এই বাণী কত মানুষকে প্রাণিত করে চলেছে? ভেবে দেখেছো, একটি কবিতার জন্ম হয় কত গভীর অধীরতা আর নিমগ্নতা থেকে? আমরা জীবন সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে গভীরভাবে ভেবেছি কখনো? তাহলে শুধু শুধু ছাইপাশ লিখে লাভ কী? যদি কখনো মনে করি, আমি ওই পর্যায়ে গেছি, তাহলে লিখব।

শুভর কথা শুনে রোমেলা অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। কী উত্তর দেবে ভেবে পায়নি। তারপর একটু ভেবে বলেছিল, হ্যাঁ, তোমার কথা ঠিক, প্রাত্যহিকের বাইরে গিয়ে চিৎপ্রকর্ষের জানালা সব খুলে ফেলতে না পারলে শিল্পসৃজন হবে কী করে? আমার লেখাও ছাইপাশ হচ্ছে বলে মনে হয় আমার। যদিও আমি কম লিখি, তবু মনে হয় এই অক্ষরের পর অক্ষর সাজানো আর উচিত হচ্ছে না। তখন একটা গভীর দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে শুভ বলেছিল, তুমি আমার কথায় কষ্ট পেয়েছ মনে হয়। সবাই আমাকে ভুল বোঝে। আমার যে কী হয়, মনের মধ্যে যা থাকে তার সবটা বলতে পারি না, যা বলি, তাও বলতে চাই না। অথচ দেখ আমার শব্দবোধ বা শব্দসঞ্চয় তো খারাপ না, তবু সবকথা গুছিয়ে বলতে পারি না। তখন রোমেলা বলেছিল, যা বলো তাই তো অনেক, আমার তো খুব ভালো লাগে, বিস্মিত হই এই ভেবে, যেকথা তুমি বলো সেটাই তোমার স্বভাব; তোমার ডালপালা তোমার সিকি আধুলি সব আমার ভালো লাগে। এর বেশি আর কী দরকার। শুভ বলেছিল, তুমি আমার কিছু কিছু বিষয় পছন্দ করো তো, তাই তার প্রভাব পড়ে অন্যগুলোর ওপর। তাই বেশি বেশি পছন্দ করে ফেলো। ধরো, আমার হাঁটাচলা, চুল, চোখ, নাক বা আমার কথা বলার ঢং কিংবা আমার শব্দ ব্যবহার। এসবের প্রতি তোমার ফ্যাসিনেশন তৈরি হয়েছে। তা থেকেই ভালোলাগা। রোমেলা সেদিন আর কোনো কথা বাড়ায়নি। সে ভেবেছিল কথা বললে হয়তো তার দুর্বলতা শুভ বুঝে ফেলবে। রোমেলা সেটা চায় না। অন্তত তখন তো নয়ই।

পত্রিকা পড়ার টেবিলে রোমেলা দেখে একটা রহস্য পত্রিকা পড়ে আছে আর রিডার ডাইজেস্ট। কোনোটাই ওর প্রিয় নয়। পড়তে ভালো লাগে না। সে উঠে গিয়ে অন্য টেবিলে নতুন কিছু খুঁজতে থাকে। একটা টেবিলে দেখলো সাহিত্য সাময়িকীর বর্তমান সংখ্যাটা। পত্রিকাটি সে আগেও দেখেছে। ‘সুন্দরম’ নাম। নানা ধরনের লেখা থাকে। রোমেলা পাতা ওল্টাতে থাকে। প্রথমে আছে প্রবন্ধ, পরে কবিতা এবং পরে গল্প, অনুবাদ, বুক রিভিউ। তার প্রিয় লেখক তাসনিম আনজুমের একটা গল্প দেখে পত্রিকা হাতে নিয়ে একটা ফাঁকা চেয়ারে বসে পড়তে শুরু করে। নারী স্বাধীনতা নিয়ে গল্প তৈরি করেছেন আনজুম। বোঝা যায় উদ্দেশ্যমূলক লেখা। সে কিছুটা বিরক্ত হয়। এই লেখক এমন কেন লিখছেন? সম্পাদকের অনুরোধে? সে উঠে দাঁড়ায়। এতক্ষণ লক্ষ করেনি ওর উত্তর-পশ্চিম কোণে বসে সেই ছেলেটা কী যেন পড়ছে। ক্লাসে ওকে দেখেছিল। কথা হয়নি। ইচ্ছেও করে নি। সেদিন তো কথা বলেছিল বেলা। চোখে চোখ পড়তেই কেমন বিনম্র চাহনিতে বলল, ভালো আছেন? একই ক্লাসের সবাই সাধারণত পরস্পরকে তুমি করে বলে। সে হয়তো বলত। ওরকম বেকায়দায় না পড়লে হয়তো এতটা এলেমেলো হতো না। রোমেলা বলে, হ্যাঁ। তবে তোমার কথা শুনে তো আর ভালো নেই, ক্লাসমেটকে কেউ আপনি করে বলে? তা এখনকার মতো পড়াশোনা শেষ নাকি আরও লেখাপড়া হবে? আমার বিরক্তি ধরে গেছে। আজ আর পড়ব না। বাইরে গিয়ে এককাপ চা খাব, তারপর রুমে ফিরব। সহজ হয়ে ছেলেটা বলল, চলো যাই। ও, বলা হয়নি তোমাকে, আমি আসিফ। বাড়ি চুয়াডাঙ্গা। তোমার? রোমেলা বলে, রাজশাহী। চলো, যাওয়া যাক।

দুজন ভাষা ইনস্টিটিউটের সামনের ফুটপাতের সাথে লাগোয়া ছোট্ট দোকান থেকে চা খায় বেঞ্চে বসে। রাস্তা দিয়ে একটা মিছিল যাচ্ছে। কোনো এক ছাত্র মারা গেছে কোথায় যেন। তার প্রতিবাদে বামপন্থী জনাবিশেক ছেলেমেয়ে মিছিল করছে। স্লোগান শুনেই বোঝা যায়, ওদের পথ ভিন্ন। সাধারণত মিছিল হয় বারোটার দিকে, পিক আওয়ারে, যখন ক্যাম্পাসে ছেলেমেয়েরা গমগম করে। এখনই হয়তো মৃত্যুর খবরটা এসেছে, তাই মিছিল বের করেছে। রোমেলা বলে, দেখছো, কী রকম চিৎকার করে স্লোগান দিচ্ছে একটা মেয়ে। মনে হচ্ছে গলার শিরা ছিঁড়ে যাবে। এত শক্তি পায় কোথা থেকে? আসিফ বলে, জানি না। তবে আমার মিছিল দেখতে খুব ভালো লাগে। এক-একটা মিছিল জীবনের নানা উত্তাপ ছড়ায়। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা চিৎকার করে হলেও আমাদের জানিয়ে যায়। আমি অবশ্য মিছিল করি না, তবে দেখি।

এরা মিছিল করে কী করছে? আসলে কি কিছু হয়? খুনি ধরা পড়ে? অপরাধীর বিচার হয়?

তা হয়তো ধরা পড়ে না, হয়তো বিচার হয় না। তবে এটা আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনতার অংশ তো বলাই যায়। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গভীর চেতনার ফল। তুমি ইচ্ছে করলে এটা পারবে না। যদি না… আসিফের কথা শেষ হয় না।
রোমেলা ওর কথা কেড়ে নিয়ে বলে, ইচ্ছে করলে পারব। তবে ইচ্ছে করব না। আমি এসেছি লেখাপড়া করতে। যতদিন এখানে থাকব, শুধু পড়ে যাব। দেশকে উদ্ধার করার যোগ্যতা ও ইচ্ছে কোনোটাই আমার আপাতত নেই। তাছাড়া সব কাজ সবার জন্য না। এর জন্য নেতারা আছেন। আমি এখন নিজেকে তৈরি করব লেখাপড়া করে। আর যতটুকু সচেতনতা নাগরিক হিসেবে দরকার, সেটা অর্জন করে নেব। এরকমটাই ভাবি। ভালো কথা, তুমি থাক কোথায়?
হলে থাকি, জসীম উদ্‌দীন হলে। এলাকার এক বড় ভাই, তার বেডে ডাবলিং করি।

বাবা কী করে? প্রশ্নটা করেই রোমেলার মনে হলো, এত ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা প্রথম দিনেই ওর ঠিক হচ্ছে না। কি আর করা, মুখ ফসকে তো বেরিয়ে গেছে।
বাবা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। আচ্ছা, তোমাকে একটা প্রশ্ন করি। তোমার বন্ধু সেদিন অভিযোগ করল তোমার ব্যাপারে, আমি জানি তুমি রেগে আছ। সে-বিষয়ে তো আর কিছু বললে না। আমি তো ভয়ে ভয়ে ছিলাম যে দেখা হলে বোধহয় তুমি আমাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করবে।

আর কিছু বলে না। সে চুপ করে শোনে। বুঝতে পারে, রোমেলা অন্যদের চেয়ে আলাদা। অন্তত লেখাপড়াটা তার অনেক বেশি আর ভাবনাও গভীর। এরকম মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়তো বিরল।

শোন, কাউকে বিব্রত করার মধ্যে কোনো সৌন্দর্য নাই। বাহাদুরি নাই। আমি যখন জেনে গেছি, বিষয়টা অনিচ্ছাকৃত ছিল, তাহলে সেটা নিয়ে আর কেন কথা বলা। মানসিক গঞ্জনাটা খুব মারাত্মক, অসুখের চেয়ে খারাপ। তবে ছেলেরা, মানে ইদানীং কালের ছেলেরা, মেয়েদের বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেয়। তারা পৌরুষত্ব দেখাতে চায় দুর্বল নারীর ওপর। আগে ছিল আরও বেশি। তবে আধুনিক শিক্ষিত সমাজে এটা কেন হবে? স্বাধীন সভ্য দেশে শিক্ষিত ছেলেদের ভয়ে কেন মেয়েরা ভিতু বিহ্বল বা শঙ্কিত হয়ে থাকবে? পশুযুগের স্বভাব বা পশুর স্বভাব যদি এখনো পুরুষের মধ্যে থাকে, তবে আমাদের কোনো উন্নতি হবে না। আমাদের এগুতে হবে মানবতা দিয়ে, পশুত্ব বাদ দিয়ে যুক্তি আর মানবতার দিকে যেতে হবে। সেটা না হলে নিজেদের সভ্য বলতে পারব না।
তুমি এত কথা কীভাবে জানো? আমি তো এভাবে খুব একটা ভাবিনি। কোথায় যেন পড়েছিলাম, পৃথিবীর গভীর গভীতর অসুখ এখন। এগুলো কী সেই অসুখ?

অবশ্যই। সামাজিক অসুখ। ব্যক্তিগত অসুখ। এই অসুখ সমাজে ঢুকে সমাজকে অচল করে দেয়। আমাদের রবীন্দ্রনাথ কিংবা গান্ধির মতো মানুষ দরকার। যারা সবসময় নদীর স্রোতধারার মতো আমাদেরকে মানবিক দিক দিয়ে জাগ্রত করে রাখবে।
আসিফ আর কিছু বলে না। সে চুপ করে শোনে। বুঝতে পারে, রোমেলা অন্যদের চেয়ে আলাদা। অন্তত লেখাপড়াটা তার অনেক বেশি আর ভাবনাও গভীর। এরকম মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়তো বিরল।

চা আর দুটো বিস্কুট দোকানদার ওদের দেয় দুটো পিরিচে করে। ওরা খেতে খেতে কথা বলতে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। রোমেলার হলে ফিরতে হবে। রোমেলা বলে, আমাকে ফিরতে হবে। আজকের মতো যাই। রোমেলা একটা রিকশা নিয়ে মৈত্রি হলের দিকে রওনা দেয়। যেতে যেতে অনেক কথা তার মাথায় এসে ভীড় করে।

(চলবে)

এই লেখাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাইলে আমাদের ফেসবুকে গিয়ে মন্তব্য করুন। ক্লিক করুন : Teerandaz Antorjal

Share Now শেয়ার করুন

1 COMMENT