মো. আদনান আরিফ সালিম >> এবারের বইমেলায় পাওয়া না-পাওয়ার কথা

0
1320

মো. আদনান আরিফ সালিম > এবারের বইমেলায় পাওয়া না-পাওয়ার কথা >> প্রবন্ধ

পুরনো সেই দিনের কথা
স্কুলজীবন থেকে শুরু করে কলেজ। কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় অমর একুশে বইমেলা আমার জীবনে অন্যরকম এক আবেদন নিয়ে আসতো। খুব মনে পড়ে ক্লাস নাইনের কথা। কলাবাগানে ফুফুর বাসায় বেড়াতে এসেছিলাম। বইকেনার দিক থেকে তেমন সফল ছিলাম না, তবে পায়ে হেঁটে বাংলা একাডেমি চলে গেছি টানা তিনদিন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় পরপর তিন বইমেলায় টানা প্রত্যেক দিন গিয়েছি বইমেলায়। কোনো কাজ থাক আর নাইবা থাক, একরকম নেশা ধরাতো এই বইমেলা। আমার বিভাগ প্রত্নতত্ত্ব থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে পাস করলেও সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে আজীবনের স্বপ্নপূরণ করতে পারিনি। অন্যদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণে গুণে ছয় বার মৌখিক পরীক্ষা নামের প্রহসনে অবতীর্ণ হয়েও ব্যর্থতা ছিল একমাত্র সম্বল। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, যোগ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়া ধীরে ধীরে আমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে দীর্ঘদিনের যাপিত জীবন থেকে।
অনেক দিনের পরে
দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদকীয় পাতায় কাজ করতে গিয়ে তখনও প্রায় প্রতিদিন মেলায় এসে একটু ঘুরে যেতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু ঢাকা কয়েক ক্রোশ দূরে গাজীপুরের বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর নানা ব্যস্ততায় বইমেলার সঙ্গে সংযুক্তি কমে গিয়ে শূন্যে ঠেকবে এটা আশা করিনি। সত্য বলতে কী, এবারের বইমেলায় গুণে গুণে চারদিন আসা হয়েছে। লজ্জাজনক হলেও সত্য এর মধ্যে তিনদিন ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় গিয়েছিলাম, বাকি একদিন একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে পেপার পড়তে গিয়ে ফিরতি পথে বইমেলা ঘুরে গেছি। মাত্র চারদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কেনো একটা লেখা কেন লিখতে বসে গেলাম, এমন প্রশ্ন করতে পারেন অনেকেই। তাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখা ভাল যে বইয়ের বিক্রিবাট্টা, বের হওয়া বই সংগ্রহ করা কিংবা বইপড়ে তার রিভিউ লেখা কোনোকিছুই থেমে থাকেনি। অনলাইন বুকশপ খুঁজে খুঁজে বেশিরভাগ প্রিয় লেখকের বই এবার কিনেছি সরাসরি প্রকাশকের কাছ থেকে। ফলে, সরেজমিনে মেলায় গিয়ে ধুলোর সমুদ্র ঠেলে বেড়ানোর তেমন প্রয়োজন হয়নি।
সখা সম্মিলন
বই পড়ার দিক থেকে কোনোরকম কমতি কিংবা ঘাটতি না থাকলেও মেলার আড্ডা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছি এবার। প্রিয় লেখক, অনুবাদক, ঔপন্যাসিক এবং কবিদের সঙ্গে কালেভদ্রে একবার দুইবার দেখা হয়েছে এটা ভাবতে গিয়েই কেমন লাগছে। বন্ধুবান্ধব, বড় ভাই এবং আপুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া সোনালি সময় হিসেবে পুরো বছর অন্যরকম একটা আবেদন নিয়ে যে বইমেলা আসত এবার সেটা হয়নি। অন্যদিকে মেলার শেষে প্রথম বর্ধিত দিনে আমার কেনা পনেরটা বইসহ একটা ব্যাগ ছেড়ে এসেছি রেলগাড়িতে। আড্ডা দেয়া দূরের কথা, ফারসীম স্যারের সঙ্গে এবার দেখাই হয়নি। গোলাম হোসেন হাবীব স্যারকে একবারের জন্য দেখলাম পুরো মেলায়। হিমাংশু কর হাঁটতে হাঁটতে যেভাবে এল সেভাবেই হারিয়ে গেল। প্রিয় বড় ভাই রেজওয়ান তানিম এখন অনেক বড় কবি। তাকে একবার দেখলাম স্টলের মধ্যে বসে আছেন। তাই তাকে ডেকে বাইরে এনে বিব্রত করতে চাইনি।
লেখক প্রকাশক মঈনুল আহসান সাবের ভাই এবার একুশে পদক পেয়েছেন। তিনি এবার একাধারে ব্যস্ত এবং বিরক্ত- দুটোই। সৃজনশীল নন-ফিকশন টাইপের বই ছেপে বিক্রিবাট্টার মন্দায় তাঁর মন খারাপ, সেখানে এসে বৃষ্টির হানা দেয়াতে অনেকটাই বিব্রত এবং বিধ্বস্ত লেগেছে তাঁকে। কবি মামুন রশীদ তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে ব্যস্ত, হারুন রশীদ রাজশাহী থেকে আসতে পারেন নি। হারিয়ে গেছেন রাশেদ, মঈনুল, মুস্তাক, ইবরাহীম, মাসুম, ইশতিয়াক, আহসান, সাব্বির জুয়েল প্রায় প্রত্যেকেই। কবি ইমরান মাহফুজকে একদিন শুধু দেখলাম হনহন করে হেঁটে যাচ্ছেন। তারপর আর সেভাবে কথা বলা হয়নি।
কবি আলতাফ শাহনাওয়াজ তথা নয়ন ভাইকে একদিন দেখলাম লেখক বলছি মঞ্চে কি যেন বলছেন। তাই আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে আর কিছু বলিনি। মাসরুর আরেফিন বই নিয়ে সিনিয়র জনৈক লেখকের মন্তব্যে বিরক্ত বিব্রত হতভম্ব। ফলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়নি। আলীম আজিজ ভাই নাজিম হিকমত নিয়ে ভাল শো দেখিয়েছেন। আর সেবা প্রকাশনীর প্রিয় অনুবাদক অনীশ দাশ অপু ভাই প্রায় দুই ডজন বই এনেছেন এবারের মেলায়। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার কাছে প্রত্নতত্ত্বের ওপর লেখাটা যেমন, এই ভদ্রলোক থ্রিলার লেখাকে ঠিক সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তবে যথারীতি তার সঙ্গেও দেখা হয়নি এবার। প্রায় ক্রেতাশূন্য স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে গল্প করতে দেখেছি আনিসুল হক ভাইকে। অন্যদিকে বেশিরভাগ বিজ্ঞ লেখককে স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রেতা নাই কেনো বলে হা হুতাশ করতে দেখেছি। ফলে বেফাঁস কিছু বলে ফেলি এই ভয়ে সেদিকে আর যাওয়া হয়নি।
ঐ নতুনের কেতন ওড়ে
তবে দৈনিক পত্রিকাগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের হিসেবে এবারের বইমেলার ৩০ দিনে ৮০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। সেটা দেখার পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে সবাই যেখানে বলছে বই বিক্রি হয় না, এত টাকার বই কিনল কারা? বাংলাদেশের গণমাধ্যমে জনপ্রিয় লেখক বলে যাঁদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তাদের বাইরে কিছু মানুষ ছিলেন ভিন্ন স্রোতের যাত্রী। দৈনিকগুলো তাদের নাম উল্লেখ না করলেও শেষ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান ছেপেছে সেখানে গোপনে যুক্ত হয়ে গেছে এসব নতুন লেখক। শুরুটা করা যেতে পারে টেন মিনিটস স্কুলখ্যাত আইমান সাদিককে দিয়ে। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তার বই কিনেছে পাঠক। অনেকে পাঠকের পরিচয় নিয়ে গুরুগম্ভীর মন্তব্য করতে পারেন, তবে সত্যটা হচ্ছে তার বইয়ের পাঠক তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। এই পাঠকরা যারাই হোক আইমান সাদিক ছিলেন বেস্টসেলার হিসেবে এক নম্বরে।
ক্যাম্পাসের প্রিয় বড় ভাই সাদাত হোসাইন। এবারের বইমেলায় আলোচনা-সমালোচনায় কেন্দ্রীভূত অন্য এক নাম। অন্যধারার স্টলের সামনে ক্রেতাদের লাইন দেখে আমি চমকে গিয়েছি প্রায় প্রত্যেক দিন। ভেবেছি এখানে মনে হয় বই বিক্রি হচ্ছে না, এখানে ন্যায্যমূলের চেয়েও কমমূল্যে বাসমতি চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে তাঁর নতুন বই নির্বাসন কিনতে পাঠক-ক্রেতাদের এতোটাই ভিড় ছিল যে সামনে গিয়ে ভাই কেমন আছেন এটা বলতে সঙ্কোচবোধ করেছি। বয়সে একেবারেই তরুণ একটা ছেলে, নাম আরিফ আজাদ। ধর্মীয় বই লিখেছে বলে তাকে কথিত মূলধারার আলোচকরা হিসেবের মধ্যে রাখতে চান না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে তার বই কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ক্রেতারা। বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে একটা বিশেষ শ্রেণির বিশ্বাসী মানুষ হটকেকের মতো কিনেছে আরিফ আজাদের বই প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-২। একইনামে প্রথম একটি বই লিখে এই ছেলেটি আলোচনায় এসেছিলেন বছর দুয়েক আগে।
একসময়ের গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলী এখন পুরোদস্তুর ঔপন্যাসিক। তার নতুন বই আসমান কিনতে ক্রেতাদের বেশ লম্বা লাইন দেখেছি দুইদিন। বর্তমান প্রজন্মের আরেক জনপ্রিয় নাম কিঙ্কর আহসান। তার এবারের বই বিবিয়ানা কিনতে গিয়ে পাঠকের ভিড় এতোটাই বেশি হয়েছিল যে তিনি শেষের একদিন বই ছিল না বলে মেলা থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে অবশ্য আরেকটি সংস্করণ বাজারে এনে জাত রক্ষা করেছেন তিনি। এ প্রজন্মের আরেক নন্দিত লেখক আবদুল্লাহ আল ইমরান কালচক্র এবং দিবানিশি শীর্ষক উপন্যাস দিয়ে পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এবারের বইমেলায় তার বই বের হতে দেরি হয়ে যায়। তারপরেও স্টলে যেদিন থেকে তার বই এসেছে সামনে পাঠকের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। লেখক সাখাওয়াত টিপু তাঁর বই নভেরার রূপ নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। তিনি জানালেন প্রবন্ধের বই হিসেবে বিক্রিবাট্টা ভালোই হয়েছে। কবিতার বই বিক্রি হয়না এমন অপবাদ ঘুঁচিয়ে দিয়েছেন কবি ইমতিয়াজ। তাঁর গন্দমফুল দিব্য প্রকাশ তো বটেই পুরো মেলায় বিক্রি হওয়া কবিতার বইয়ের মধ্যে ভালই স্থান করে নিয়েছে।
এই প্রথম একজন স্লোভেনীয় কবির আগমন ঘটলো বাংলাদেশে
বইমেলায় এবার একটা অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছেন স্লোভেনীয় একজন কবি- গ্লোরিয়ানা ভিবার। বাংলা ভাষায় এই প্রথম একজন স্লোভেনীয় কবির কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলো। “নৈঃশব্দ্যের কাছাকাছি” নামের এই কাব্যগ্রন্থটি স্লোভেনিয়ায় ছাপা হয়েছে, কিন্তু প্রকাশক বাংলাদেশের অনলাইন পত্রিকা তীরন্দাজ। বাংলাদেশের সাহিত্যের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য ভাষার সাহিত্যের সঙ্গে পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপনের পরিকল্পনা থেকেই তীরন্দাজ বইটি প্রকাশ করে।

“গ্লোবাল লিটের‌্যারি ভিলেজ” স্থাপনের ভাবনা থেকে এই বইটি প্রকাশ করে তীরন্দাজ। বইটির প্রকাশশৈলী ছিল অন্য ঘরানার- আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন পেপার ব্যাকে ছাপা হয়েছে এটি। এবার বাংলায় স্লোভেনীয় কবি ভিবারের কবিতা অনূদিত হলো, আগামীতে প্রকাশিত হবে স্লোভেনীয় ভাষায় বাংলাদেশের নির্বাচিত কবিদের কবিতার সংকলন। শুধু স্লোভেনীয় নয়, ইংরেজিসহ পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভাষাতেও বাংলাদেশের সাহিত্যকে অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বের অন্য ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা তীরন্দাজের গ্লোবাল লিটের‌্যারি ভিলেজের রয়েছে।
উপেক্ষিত লিটিল ম্যাগ চত্বর
এবারের বইমেলায় বিক্রিবাট্টার বৈপরীত্য কথিত প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চোখের জল নাকের জল এক করে দিয়েছে। তাঁরা নিজের বই বিক্রি হয়না দেখে নানা অনুষ্ঠানে ক্ষোভ ঝাড়ছেন পাঠকের উপর। তবে এই বইমেলা কী নতুন কোনো বার্তা দিয়ে গেল তরুণ প্রজন্ম নিজের ভাললাগার বাইরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে সেটা গ্রহণ করে না- এরকম কিছু? তাইতো বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেকের পাড়ে মূল অংশটা যেমন সচল ছিল, তেমনি তেমনি উদ্যানে ঢুকতে প্রথম অংশটি ছিল মৃত্যুর শৈত্যে নীরব। বাংলা একাডেমির দিকে বহেড়াতলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে বসে কিছু মানুষ যারা নিজেদের বাংলা সাহিত্যের হর্তাকর্তা মনে করেন, এবারের বইমেলা তাদের যেন অনেকটা নীরব নিস্তব্ধ বিমূঢ় করে দিয়েছে। কিন্তু একথা তো অস্বীকার কবার জো নেই যে লিটিল ম্যাগই জন্ম দেয় আগামী দিনের ভালো উল্লেখযোগ্য লেখকদের। এই লিটিল ম্যাগ চত্বরটি আগামীতে সহরোয়ার্দির দিকে নিয়ে না গেলে, আগামী বছরই হয়তো বিরানভূমিতে পরিণত হবে। অন্যদিকে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতর-প্রতিষ্ঠান এবারও তাদের নানারকম পোস্টার লিফলেট নিয়ে বইমেলায় উপস্থিত ছিল। কিন্তু দর্শক টানতে পেরেছে, এমনটা মনে হয় না। বইমেলার বাইরে টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত পুরানো বইয়ের দোকান এবারেও ছিল বরাবরের মতো।
দর্শকহীন আলোচনা অনুষ্ঠান
বরাবরের মতো এবারও অমর একুশে বইমেলা’র সময় একাডেমি মূল মঞ্চে বিশাল আয়োজনের আলোচনা অনুষ্ঠান দর্শক টানতে পারেনি। পাশাপাশি মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে গিয়ে লেখক সাজার চেষ্টায় থাকা মানুষগুলোর ঠেলাঠেলি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলা একাডেমির এমন কোনো রীতি নেই যে নীতির প্রেক্ষাপটে প্রকাশকরা বছর জুড়ে বইপ্রকাশে বাধ্য থাকবেন। ফলে, শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসে বই প্রকাশ করতে গিয়ে প্রকাশকরা গুণগত মানের দিকে যত্নবান হতে পারছেন না। অন্যদিকে শুধুমাত্র ঢাকাতেই বইমেলার এই আয়োজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে বন্ধের দিনগুলোতে মেলায় গিয়ে বই নির্বাচন কিংবা কেনার বদলে ভিড় ঠেলতে অর্ধেক সময় চলে যায়। বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে প্রকাশকরা এখন কোনদিকে দৃষ্টি দিচ্ছেন সেটা নিয়ে। বিশেষত, বইয়ের মেলা, নাকি মেলার বই কোনটা ইপ্সিত লক্ষ্য ছিল সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে ঢের। তবে পুরো বছর জুড়ে বইপ্রকাশ করে যদি মাসে মাসে দেশের নানা স্থানে বইমেলা করা যায়, তাহলে মাসব্যাপী এই আয়োজন আরও সার্থক ও সুন্দর হতে পারে। আর এটা করা না গেলে মেলার বই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার উপযোগিতা হারাবে বইমেলায়। ঠিক যেভাবে এবার মোট ৪ হাজার ৮৩৪টি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে, এই সংখ্যা চার লাখে উন্নীত হলেও সেখানে বইপ্রেমী ও পাঠকদের আশাবাদী হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই মনে হয়। বলে রাখা ভালো, এই লেখার মতামত আমারই। বক্তব্যেরও দায়ও আমার।
লেখক পরিচিতি
ইতিহাসের শিক্ষক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাবন্ধিক, ঐতিহ্য-গবেষক ও অনুবাদক।
Share Now শেয়ার করুন