রণেশ দাশগুপ্ত >> এত ভালোবাসা ঘৃণা রক্তঝরা প্রত্যয় বিদ্রোহ >> স্মরণ

0
231

[সম্পাদকীয় নোট : আজ কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুদিন। এ উপলক্ষ্যে পুনঃমুদ্রিত হলো শামসুর রাহমানের কবিতা নিয়ে প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও মার্কসবাদী চিন্তাবিদ রণেশ দাশগুপ্তের একটি লেখা। প্রাসঙ্গিক বলেই এই প্রকাশ।]

আমরা শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের বাহান্নোত্তর সংগ্রামী বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীদের পুরোভাগে পেয়েছি প্রথমত একজন একালের বিশ্বসচেতন বাংলাভাষা ও সাহিত্যের গভীরগামী একনিষ্ঠ কারিগর রূপে এবং দ্বিতীয়ত পেয়েছি সোচ্চার গণতন্ত্রী ব্যক্তি ও গণসচেতন বিশ্বমুখী নাগরিক রূপে।

জ বিশ শতক যখন তার শেষ দশকে পা রাখলো, তখন পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখছি, এই শতকের মধ্যভাগে যখন জাতীয় মুক্তি, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও শান্তির জন্য অভূতপূর্ব অভ্যুদয়ে ও সংগ্রামে সারা পৃথিবীটা টালমাটাল, তখন ’৫২-তে একটা কালবৈশাখীর মতো গণঅভ্যুদয়ের ঝড় উঠেছিল বাংলাদেশে তথা পূর্ববাংলায় এবং সেই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সামগ্রিক রেওয়াজ অনুযায়ী বাংলাদেশের কবিতাতেও ঝড় উঠেছিল। এই ঝড়ের বাহক হয়েছিল এক তরুণ বয়সী বিদ্রোহী কবিগোষ্ঠী। শুরু হয়েছিল বাংলা কবিতায় একটা লোকায়ত আধুনিক ধারার, যাতে শরিক হয়েছিলেন প্রধানত ছাত্রছাত্রীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শামসুর রাহমানের একটি অতি উচ্চকণ্ঠে উচ্চারণযোগ্য কবিতাকে পুরোভাগে রেখে নিবেদিত হয়েছিল ‘৫২র বাংলার কবিগোষ্ঠীর প্রথম অগ্নিকুসুমের স্তবক কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারী সংকলন গ্রন্থে ৫৩-র মার্চে। বামপন্থী যুবনেতা মোহাম্মদ সুলতান প্রকাশনায় কাঁধ দিয়েছিলেন। শামসুর রাহমানের কবিতাটির কয়েকটি টুকরো পঙক্তি ছিল নিম্নরূপ :

আর যেন না দেখি কার্তিকের চাঁদ
কিংবা পৃথিবীর কোনো হীরার সকাল
++++
টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলো
আমার সূর্যের মতো হৃৎপিণ্ড

যেমন কোনো পেশওয়ারী ফলওয়ালা
তার ধারালো ছুরির হিংস্রতায়
ফালি ফালি করে কেটে ফেলে তাজা।
লাল টকটকে একটি আপেল।
কিন্তু শোনো, এক ফোটা রক্ত যেন পড়ে না মাটিতে,
কেননা আমার রক্তের কণায় কণায়
উজ্জ্বল প্রেতের মতো
বয়ে চলেছে মনসুরের বিদ্রোহী রক্তের অভিজ্ঞান।

আবার ’৬৮-৬৯ সালে যখন বাংলাদেশের স্বাধীন স্বতন্ত্র সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবের ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হলো সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে, তখনও শামসুর রাহমান একেবারে সামনে এসে গেলেন এই অভ্যুদয়ের অগ্নিশিখাকে কবিতায় উচ্চকণ্ঠে বিন্যস্ত করার সমবেত জলসায়। এবার তিনি একটি মালা গাঁথলেন অগ্নিশিখার। লিখলেন, ‘বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘ঐকান্তিক শ্রেণীহীনা’, ‘ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’, ‘ছেলেটা পাগল নাকি’, ‘ইচ্ছা’, এবং এই ধরনের নানারকম কবিতা। এদের আমরা পেয়েছি তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্যগ্রন্থে।

এরপরেই ‘৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অবরুদ্ধ ঢাকা নগরীতে বসে লিখলেন, “তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’, ‘গেরিলা’ এবং এই রকমেরই আরও কবিতা। তাঁর বন্দী শিবির থেকে কাব্যগ্রন্থ দ্রষ্টব্য বিস্তারিতের জন্য। দৃষ্টান্ত স্বরূপ দুটি কবিতার কয়েকটি করে পঙক্তি দাখিল করা যেতে পারে। যেমন :

সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি, দুঃখ-তাড়ানিয়া
তুমি তো আমার ভাই, হে নতুন, সন্তান আমার।
(গেরিলা)
++++
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।
(তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা)

জাতীয়তা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও সমাজতন্ত্রের নীতিকে সামনে রেখে গণপ্রজাতন্ত্রী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় লাখো লাখো শহীদের অবদানকে সামনে রেখে শামসুর রাহমান তাঁর কবিতা লেখার বহুমাত্রিক বিন্যাসে একই সঙ্গে মুক্তিসংগ্রামীদের প্রতি ভালবাসা এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পরিপন্থীদের প্রতি ঘৃণা জানিয়েছেন কখনও অতিমাত্রায় সংহত এবং কখনও অতিমাত্রায় ছড়িয়ে দেয়া রীতিতে। তাঁর উচ্চকণ্ঠের বিদ্রোহী ধারা প্রশমিত হওয়া দূরে থাকুক, বরং আরও বলীয়ান হয়ে উঠেছে।

১৯৮২ -র ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ থেকে দুটি দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে। যেমন :

অন্ধ সেলে দ্যাখে কবেকার বইয়ের পাতায়।
ফটোগ্রাফ থেকে
আসেন কী রাজসিক উঠে ক্ষুদিরাম; ফুচিকের
কাটাতারে বিদ্ধ টকটকে
গোলাপ হৃদয় জ্বলে ওঠে অন্ধকারে।
(ফাঁসি)

হাওয়ায় ফুলে ওঠা জরির রঙিন জামা।
আর রাজপথে বয়ে যাওয়া তরুণ বীরের রক্তস্রোত

১৯৮৯-তেও শামসুর রাহমান রাজপথে রক্তের লেখনকে নিয়ে লিখেছেন :

দু-দুটো বর্ষা বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশকে ধুইয়ে,
কিন্তু আমি সত্যি দেখতে পাচ্ছি, নেকড়ের দাঁতের মতো
বুলেটে ঝাঁঝরা ঐ যুবার বুকের রক্ত প্রবল
বর্ষায় অবিরল জলও রাজপথ থেকে আজো
মুছে ফেলতে পারেনি। প্রবালের মতো জ্বলছে
রক্ত আর দেখছি ওর দুই কাঁধে
গজিয়ে উঠেছে আলোঝরনো ডানা।

নূর নূর নূর হোসেন বলে
ডাকছে রাজপথ, নদীনালা, গাছপালা, নীলকণ্ঠ
বাংলাদেশ। কখন আবার দশদিক
ওলটপালট করে জেগে উঠবে নতুন যৌবন?
(আলোঝরানোর ডানা)

শামসুর রাহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গণবিদ্রোহী ধারার সূক্ষ্মতম অনুভূতিগুলিকে এবং সর্বস্তরের জনগণের স্তবকগুলিকে বাংলা ভাষার হাজার হাজার বছরের বহু স্রোতধারার সম্মিলনে জমা হওয়া শব্দের ও পদের আধারে মুখর করে তুলেছেন।

শামসুর রাহমানের কাব্যের উপরোক্ত সংগ্রামী ধারাকে পূর্বাপর এগিয়ে চলে আসা এবং প্রসারমান ধারা বলে মনে করেই অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই বলতে চাই, শামসুর রাহমান এই ধারাকে অব্যাহত রেখেই বাংলাদেশ ও আমাদের উপমহাদেশ এবং সেইসঙ্গে বিশ্বের সমসাময়িক কালের জীবনে জীবন যোগ করেছেন একদিক দিয়ে যেমন অন্তর্গূঢ়ভাবে, তেমনি হাজার বৈচিত্র্যের মধ্যে প্রাক-বিভাগকালের যুক্তবাংলার এবং বিভাগ পরবর্তী দুই বাংলার এবং ঢাকা ও কলকাতার কবিদের হাতে হাত রেখেছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের আধুনিক কবিতার কারিগরদের কাছে শিক্ষানবিশী করার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এ কারণেই শামসুর রহমানের অগ্নিকুসুম ও অগ্নিশিখার স্তবক ও তোড়াগুলির আবহের ব্যাপারটাও তার ষাট বছরেরর জীবনকে যেভাবে করবী কিংবা হাসনাহেনা ফুলের ঝাড়ের মতো ফুলময় ও সুরভিময় করেছে, সেটা অবশ্যই আমরা আমাদের হিসাবের খাতাখানির মধ্যে দেখবো এবং পাবো। শামসুর রাহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গণবিদ্রোহী ধারার সূক্ষ্মতম অনুভূতিগুলিকে এবং সর্বস্তরের জনগণের স্তবকগুলিকে বাংলা ভাষার হাজার হাজার বছরের বহু স্রোতধারার সম্মিলনে জমা হওয়া শব্দের ও পদের আধারে মুখর করে তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এক্ষেত্রে তিনি লোকায়ত ও ধ্রুপদী কাব্য ও গদ্যসাহিত্য থেকে অকুণ্ঠভাবে শব্দ বেছে নিয়েছেন, তৈরি করেছেন শব্দাশ্রয়ী শত শত রূপকল্প।

সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কবিতার ভাষাকে বিশ্বের একালের আধুনিক কবিতার রীতিতে কবিতায় ব্যবহার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন নি। এ ব্যাপারে . পাশ্চাত্যের আধুনিক বৈদগ্ধ্যের কাছ থেকে নিয়েছেন তিনি শব্দ প্রক্ষেপণ।
শামসুর রাহমানের কাব্যে এবং সেই সঙ্গে কবিজীবনে একারণে দুটো তারের ঝঙ্কার শোনা গিয়েছে প্রধানত। এদিক থেকে দেখলে তিনি দ্বৈতধারার সমীকরণের কবি।

’৮০-র দশক পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর ৩৪টি কাব্যগ্রন্থ এবং গ্রন্থাকারে অগ্রথিত সাম্প্রতিক কবিতাবলীর কয়েক হাজার কবিতায় রয়েছে এই সমীকরণের নিরন্তর শ্রমসাধ্য সাধনা।

তাঁর এই সমীকরণের সাধনাকে, আমরা যেভাবে কথা বলতে শুরু করেছি তাঁর সম্বন্ধে, বক্তব্য রাখতে গিয়ে, সেই সূত্র ধরে এখানে আপাতত দুকথা বলার চেষ্টা করতে পারি। সেটা হলো এই যে, আমরা শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের বাহান্নোত্তর সংগ্রামী বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীদের পুরোভাগে পেয়েছি প্রথমত একজন একালের বিশ্বসচেতন বাংলাভাষা ও সাহিত্যের গভীরগামী একনিষ্ঠ কারিগর রূপে এবং দ্বিতীয়ত পেয়েছি সোচ্চার গণতন্ত্রী ব্যক্তি ও গণসচেতন বিশ্বমুখী নাগরিক রূপে। তাঁর এই দ্বৈত উপস্থাপনার রসদ তিনি যেমন প্রকৃতপক্ষে জীবনভর নিজেকে খনির মতো খুঁড়ে খুঁড়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে জুগিয়েছেন, তেমনি তিনি মুঠো মুঠো করে অসংকোচে গ্রহণ করেছেন তাঁর নিকটতম আত্নীয় পরিজন ও গৃহ থেকে, সঙ্গীসাথীদের কাছ থেকে, মাতৃভূমির লোকঐতিহ্য থেকে, বাংলাদেশের মহাবিদ্রোহী জনগণের মুক্তিসংগ্রাম, বিপ্লব ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে। এই নেওয়ার ব্যাপারটার মধ্যেই রয়েছে অবশ্য যাঁদের কাছ থেকে নিয়েছেন তাঁদের প্রতি অকুণ্ঠ স্বীকৃতি, তাঁদের প্রতি দ্বিধাহীন ও দ্ব্যর্থহীন আনুগত্য।
দৃষ্টান্ত হিসাবে এখানে তাঁর ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাটি উল্লেখ করা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ যেমন তাঁকে দিয়েছেন, তিনিও রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে তেমনি ইচ্ছামতো নিয়েছেন।

শামসুর রাহমান লিখছেন, রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে তাঁর দিন পেয়েছে কাব্যের বর্ণচ্ছটা এবং রাত্রি পেয়েছে গানের স্ফুলিঙ্গ। তারপরেই লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে পেয়েছেন কুৎসিতের সপ্তরথী ব্যুহভেদ করার হদিস এবং

….. ঘৃণার করাতে জর্জরিত
করেছি উন্মত্ত বর্বরের অট্টহাসি কী আশ্বাসে।

যে-শ্রদ্ধাবোধ দ্বারা রবীন্দ্রনাথের ভাবমূর্তিকে তিনি বুঝতে চেষ্টা করেছেন, তা দিয়েই তিনি অন্যান্য পূর্বসুরীকে বুঝতে চেয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে নিজ বাসভূমে কাব্যগ্রন্থের তিনটি পাশাপাশি কবিতা গ্রন্থে আছেন শহীদুল্লাহ, ‘কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি’ এবং কবিয়াল রমেশ শীল দ্রষ্টব্য। শামসুর রাহমান যে কত তন্নতন্ন করে এই তিন জনের প্রত্যেকের বিশিষ্ট ও নির্দিষ্ট অবদান ও চরিত্রকে বিচার করেছেন, এই কবিতা তিনটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে না পড়লে তা বোঝা যাবে না।

এঁদের প্রত্যেকের নিজস্বতার প্রতি শামসুর রাহমান তাঁর নিজস্বতার সনদ আদায় করে নিয়েছেন।

ষাট বছরের মধ্যে চল্লিশ বছরের কাব্যকৃতির বেশ কিছু কবিতাতে যে দ্বৈত ধারার সমীকরণের কাজটা কবির বহু আকাঙ্ক্ষিত অনায়াস সাধ্য হয় নি, তার একাধিক দৃষ্টান্ত এখানে দাখিল করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের মূল বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা বড় কথা নয়। আমাদের মূল বক্তব্য হলো এই যে, শামসুর রাহমান গভীরভাবে বরাবর সচেতন থেকেছেন যে শ্রমিকের শার্টের ঘেমো গন্ধই রূপান্তরিত হয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সুরভিতে। শামসুর রাহমান যেভাবে দয়িতাকে দেখেছেন এবং পেয়েছেন তাঁর অন্তর ও বাহিরের বৈভবে সাজিয়ে ভুবনমোহিনী করে, তেমনি পুরাতন ঢাকার মহল্লার বাসিন্দাদের ভিত্তি করে যে বাহান্নর ধর্মনিরপেক্ষ গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, সে-কথাটা মনে রেখেছেন। এঁদের কোনো গাঁটছড়াকে আমরা ছাড়াতে চাই না, এদেরই ছড়াতে চাই।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত)

এই লেখাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক ভিজিট করুন >>

Teerandaz Antorjal

তীরন্দাজ Teerandaz

অথবা

গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে আমাদের Teerandaz Magazine নামের অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করেও আপনি সহজেই লেখাটা পড়তে পারেন।

 

Share Now শেয়ার করুন