রাজু আলাউদ্দিন >> তিনটি কবিতা >> জন্মদিন

0
599

রাজু আলাউদ্দিন >> তিনটি কবিতা

প্যানডেমিক এপিটাফ

এখানে যে শুয়ে আছে, বেঁচে ছিল বাঙালির গড় আয়ু নিয়ে।
বাবা-মা জন্ম তাকে দিয়েছিল ঠিকই,
কিন্তু পত্নী তাকে ধীরে ধীরে করেছে লায়েক।
পাশাপাশি আর যত প্রেমিকেরা ছিল
তারা তার যৌবন প্রলম্বিত করে গেছে বলে
নিষিদ্ধ সঙ্গমে আজীবন থেকেছে যুবক;
প্রেমিকেরা তাকে শুধু করেছে অশেষ।
খেয়ে, পড়ে, পানে আর সঙ্গমে কেটে গেছে সুস্বাদু জীবন।
কিন্তু অন্য এক বিষন্নতা আমরণ সঙ্গী ছিল তার :
মানুষের ইতিহাস তাকে শুধু করেছে হতাশ,
মনুষ্যজাতিকে তার এমন এক নির্বোধ বুদ্ধিমান প্রাণি বলে মনে হয়েছিল,
সৃষ্টি যাকে ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে,
আনন্দ যাকে ক্রমে নিয়ে গেছে বেদনার দিকে,
প্রাচুর্য যাকে ক্রমে নিঃস্ব করেছে।
– মানুষের এইসব জেনেও সে বেঁচে ছিল, লেখাপড়া অব্যাহত ছিল
শেষ দিকে বুক ভড়ে নিঃশ্বাস নিয়েছিল ভলতেয়ার-বায়ুমণ্ডলে
পৃথিবীকে রেখে গেল যেমনটা পেয়েছিল জীবনের সূচনাকালে।
যে-শরীর একদিন নারীদের জিহ্বা, বাহু, স্তন ও যোনীর আদরে কাটিয়েছে
এখন সে শুয়ে আছে একাকী নিথর;
মৃত্যুর বিপরীতে জীবনের প্রশস্তি নিয়ে।

জলের ডানা

জলেরও রয়েছে ডানা, তা কেবল মাতাল জেনেছে।
আর সেই জানা ছিল সবচেয়ে স্বাভাবিক, যদি তাকে স্বাভাবিক ভাবো।
পৃথিবীর ঘোলা জল স্বচ্ছ রূপে উন্মোচিত হয়েছিল মাতালের কাছে।
সোফিয়ার মদে কত প্রজ্ঞা এসে জড়ো হয়েছিল – তা কি কোনো মূর্খ জেনেছে?
না-জানার হল্লা শুধু বেড়ে ওঠে কালের কিনারে।

জুম্মাবারের পদ্য

কিতাব আমার মসজিদ, শোনো আর পাঠই প্রার্থনা,
ভুল যদি হয় পাঠানুরাগীকে, প্রভু, করো মার্জনা।

Share Now শেয়ার করুন