রাদ আহমদ >> কবিতাগুচ্ছ >> কবিতা কল্পনালতা

0
627

কবিতাগুচ্ছ

একেবারেই ভিন্ন স্বর আর শৈলী এই কবির। অসাধারণ তাঁর বলবার ভঙ্গি, ভাষা আর নির্মাণের রীতি। এ ক্ষেত্রে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর প্রজন্মের অন্যতম শীর্ষ কবি রাদ আহমদ। পড়ুন তাঁর কবিতা।

খামের গায়ে স্ট্যাম্পের মতো ছাপ্পা মারা মেয়ে

খামের গায়ে স্ট্যাম্পের মতো ছাপ্পা মারা মেয়ে
আমাদের সেকুলারিজমের নিজস্ব সংজ্ঞা আছে ওরা নুয়ে থাকা নিমগ্ন ড্রয়িংরুম

লতানো ডালের গায়ে ছোটো পাতা ও তিড়িং বিড়িঙে কম্পনরতা
চাদরে বেড কভারে কিছু ‘সাহসের’ দরকার থাকে কি? না, তোমার বরঞ্চ

বলা যেতে পারে সাপোর্টের দরকার আছে, সাহস না, তাছাড়া এদিককার দর্শনে তো
ভালোভাবে আছে নারী-শক্তি স্থির শান্ত ও অনেক
গভীর বরঞ্চ চৌকা জানালা দিয়ে আলো এসে ঝাপসা, সামান্য মলিন

আবাসিক এলাকার চুপসে থাকা গলিতে স্টিলের চাক্কা লাগানো কাঠের
পাটাতনে প্লেন উড়ে যায়, নতুন মুকুলের গায়ে হাত জন্মায়, পা এবং বারে বারে

ঝাপসা কাগজের মতো শরীরে লাবণ্যে অবয়বে লেপটে থাকা চিঠি আমরা পাঠাতে
চাই না চাই না আমরা নতুন চিঠির মতো টেবিলে পড়ে থাকতে চাই – নানা

সংজ্ঞা হতে চেয়েছি কেননা শুধু চোখ আছে দেখার জন্য একটা
মন আছে যার ডালপালা ও শিকড় গজিয়েছে চুপসে থাকা গলি পর্যন্ত

কিছু শান্ত কিছু ভ্রান্তি

কিছু শান্ত কিছু ভ্রান্তি নিয়ে রাস্তা জুড়ে সস্তা রূপা মাছ নিয়ে যে পসরা
সাজালেন একা মানুষটা
খোলা বর্ষা গায়ে বিদ্ধ হয়ে সেই ডালাটা কার যে
অপরূপ মায়াতে বিন্দু ছোটো বিন্দু করে একটা

ভরা নকশা আঁকা রাস্তা হয়েছে আর পুরাটাই সে বাঁকা, সাবধানে পা ফেলতে
হবে ম্লান এ দুপুরের বাজারে জাল ফেলেছে উনি আঁকিয়ে সন্ত দেখ

তুমি সাবধানে পা ফেলবে, ওকে? স্পষ্ট ও রূপার রঙে বিমর্ষ দিনে এই যে
ক্রমলীন সবুজে ক্লান্ত জামা

তুমি তার জমিনে, নক্‌শিতে জড়ায় যেও না

কথা থেকে ঝরে পড়া টাকা

কথা থেকে ঝরে পড়ে টাকা
গাছ থেকে স্বর্ণাভ পাতারা
এটা একধরণের তাচ্ছিল্যে খচিত সোনার অলংকার

আকাশের গায়ে পিন দিয়ে গেঁথে রাখা বিন্দু বিন্দু পাখি
ওদেরকে যতই সরানোর চেষ্টা করো – সুডৌল আকাশ
শুধু ডানে বামে সরে যায় বিন্দু বিন্দু স্থির থুতনির গায়ে
সৌন্দর্যকণা প্রবল
ছায়ারা, ঝড়ের মধ্যেরা ও পান ওয়ালা তার সবুজ সরঞ্জামগুলি
এগিয়ে দিতেছে – ওখানে রোলার

স্কেটিঙের একটা এরিনা হয়েছে শিশুকালে হলে
ওখানে যেতাম একেকটা সরঞ্জামের উপরে হা করা আরও অত্যধিক

হাঙরের অবয়বে কীরকমের যে ভঙ্গুরতা মাখা, ফিনফিনে ইংরেজি হলে বলা যেত
‘ফ্রেইল’ বা আরও আরও
ট্যাল্কের মতন ট্যালকম পাউডারেতে
ভঙ্গুর সাজাতে থাকা দাঁতের সারির মধ্যে

আলোকের মধ্যে
ছায়ার ঝড়ের মধ্যে অপসৃয়মান
থুতনির ভিতরে
ঝরে পড়ে টাকা

সিগারেটে দুই গ্রাম নিকোটিন থাকে

সিগারেটে দুই গ্রাম নিকোটিন থাকে
চকচকে একটা গাড়ির সাথে একজন করে
উভলিঙ্গ সংলগ্ন থাকে উনাদের কি হেমাফ্রোডাইট বলে কিনা
আফ্রোদিতির সাথে মিল করে
সেটা মনে পড়তেছে না, এমন হঠাৎ করে
আগমন যে মরণশীল বিশাল বটের
পাতা ঝলমলে তোমার মাড়ির সাথে
সাদা ছোপ লেপটে থাকে আর তাছাড়া দাঁত
সাদা জেব্রাক্রসিং-এ একটা রাস্তা লেপটে থাকে
তার সাথে চাক্কার টায়ার

কী সুন্দর চন্দ্রালো গ্রিলে

কী সুন্দর চন্দ্রালো গ্রিলে মিশেল করে আছে
আমাকে দানা দানা জীবন দাও
ফুটতে থাকা ফুটকি মিষ্টি বিন্দু বিন্দু আলো ঠান্ডা
ভোরের আগের রাতে খুব পাতলা আওয়াজের মতো
ঝাড়ুদার একা ওরা রূপকথাদের অংশ নিয়ে রচিত
নাগরিক সাহিত্যের মিষ্টি বুড়া ঝাড়ুদার তার

কন্যার মিহিন কান্না মলিন একটা কাঁথা হয়ে থাকলে আমি ফসফরাসের নাবিক একা
বন্দরের রাতে ভরা তাক তাক ধাতু লোহা মাণিক্যের বিন্দু বিন্দু আভাতে
উদ্ভাস, দক্ষিণাকাশ
তার ভিতরে জীবন তার ভিতরে
রাত পৌনে চারটায় দূরাগত বৃদ্ধের একটা একা কণ্ঠের গান

Share Now শেয়ার করুন