শামীম আজাদ | গল্প নয়, সত্য | স্মৃতিগদ্য-৬ | উৎসব সংখ্যা ১৪২৯

0
133

এক কলামের, ছোট্ট একটা নিউজ। উপরে লেখা বাংলাদেশী ফ্রিডম ফাইটার। সম্ভবত সেটা ছিল ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ান বা টাইমসের টুকরো। আমি বাথরুমে লুকিয়ে ভাঁজকরা কাগজটা খুলে দেখি, মারে মা! কি সুন্দর! কি সুপুরুষ! লম্বা, পেশিবহুল দেহ, ঘাড় অবধি ঝাঁকড়া চুল ও মুখভরা দাড়ি। জীর্ণ জিনস ও টিশার্ট পরা, হাতে এসএলআর এবং ক্রিসক্রস করে বুকে ঝুলছে গুলির মালা। আমিতো প্রায় ফিট।

য়সটা ছিল যুদ্ধে যাবার। বয়সটা ছিল প্রেমে পড়ার। বাবলী কিম্বা আমি কেউই মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারিনি। কিন্তু প্রেমে পড়েছিলাম। সে গল্পই বলছি।

একাত্তরে ওপারে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে রণাঙ্গনে যোগ না দিতে পারার দুঃখে এর একটা বিকল্প বের করে আমরা আমাদের মতো লড়াই করে যাই। যুদ্ধের পুরো ন’টা মাস আমরা যুক্ত ছিলাম রনাঙ্গনের বাইরে থেকে ভিন্ন ভাবে। যে যেখানে ছিলাম সেখান থেকেই নিরন্তর গেরিলা ভাই-বন্ধুদের সহযোগী হয়ে একাট্টা হয়ে ছিলাম। কখনো গোলা বারুদ লুকিয়ে রেখেছি, গভীর রাতে অপারেশনের ফাঁকে এলে খেতে দিয়েছি, ওদের হাতে ওপার বাংলা থেকে আসা জেরক্স করা গোপন ইশতেহার বিলি করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রাস্তায়। মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুদের অ্যাকশনের জন্য জন্য অধিকৃত ও ভয়াবহ রেডিও ভবনে অনুষ্ঠান করার নাম করে ঘৃণ্য পাকিস্তানি কলাবরেটরদের নাম ঠিকানা ও কাগজপত্র হ্যান্ডব্যাগে ভরে পালিয়ে এসেছি। প্রয়োজনে সুফিয়া খালাম্মার (কবি সুফিয়া কামালের) নির্দেশে চলেছি।

তখন স্বাধীন বাংলা বেতারের অনুষ্ঠান শুনে শুনে আমাদের দু’জনেরই ভীষণভাবে রণাঙ্গনের যোদ্ধার ছবি কল্পনা করতাম। একে বলা যায় বীরপূজা। বাংলা মায়ের সেসব বীরদের প্রতি অপার শ্রদ্ধার সঙ্গে কোথাও যেন ভালবাসার নেকটারও জমা হতে থাকে। কিন্তু ভ্রমরা দেখা অসম্ভব। যদি ওদের ছবি বা পরিচিতি বেরিয়ে যায় তা’ হলে কিন্তু সেই সূত্রে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তার বাড়ি গিয়ে তার মা-বাবাকে হত্যা করবে, বোনের উপর যৌন নির্যাতন করে হয় তুলে নিয়ে যাবে নয় হত্যা করে পুরো গ্রাম পুড়িয়ে দেবে।

কিন্তু আরাধনা বলে কথা! দৈবাৎ গোপনে হাতে এসে গেল একটি বিদেশী পত্রিকায় এক রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধার ছবি। এক কলামের, ছোট্ট একটা নিউজ। উপরে লেখা বাংলাদেশী ফ্রিডম ফাইটার। সম্ভবত সেটা ছিল ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ান বা টাইমসের টুকরো। আমি বাথরুমে লুকিয়ে ভাঁজকরা কাগজটা খুলে দেখি, মারে মা! কি সুন্দর! কি সুপুরুষ! লম্বা, পেশিবহুল দেহ, ঘাড় অবধি ঝাঁকড়া চুল ও মুখভরা দাড়ি। জীর্ণ জিনস ও টিশার্ট পরা, হাতে এসএলআর এবং ক্রিসক্রস করে বুকে ঝুলছে গুলির মালা। আমিতো প্রায় ফিট। ভাইয়ার হাতে থেকে পাওয়া কাগজটাকে বুকের ব্রার ভেতরে লুকিয়ে ফেলি।

আমাদের বাসায় তখন ফোন ছিল না। দৌড়ে মৌড়ে পাশের রীনাপা’দের ফ্ল্যাটে গিয়ে বাবলীকে ফোন করি। তখন টেলিফোন ট্যাপ হত তাই আমাদের নিজস্ব সংকেতে বাবলীকে বুঝাই কি দেখেছি। সে সময় ‘মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা, গেরিলা, মুজিবর রহমান, আগর তলা’, এসব শব্দ প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা যেত না। ততদিনে বুলবুল (আবদুর রহিম বুলবুল), জন, বাবু (আহসান নেওয়াজ), মনি দাদা (মনিরুল হক) ও নাসিম (নাসিম সিদ্দিকি) সঙ্গে কিন্তু কাজ করছি কিন্তু ওরা তো আমাদের ভাই বেরাদর ও বন্ধু। সেই প্রথম আমাদের স্বপ্নের নায়ক দেখেছি। বাবলীকে দেখানোর তর সইছে না।মারে মা, কি সুন্দর দেখতে!

যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমি আর বাবলী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। দু’জনেই ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধ থামবে বহু বছর পর। ততদিনে মেয়েরা পাক আর্মিদের দ্বারা আরো অত্যাচারিত হবে, প্রতি পরিবার কাউকে না কাউকে হারাবে, রাস্তাঘাট আস্ত থাকবে না, বাড়ি থাকবে না, সব লুট হয়ে যাবে এমন কি আমাদের কি হবে তাও জানি না। সুতরাং আমরা দু’জন নিজেদের যা আছে তার উইল করে যার যার বাসার দেয়ালচিত্রের ফ্রেমের নিচে আঠা দিয়ে রাখলাম। ওরা চলে গেল কুমিল্লা, গ্রামে। সেখান থেকে বাবলী আমাকে চিঠি লিখলো, “প্রিয় শামীম, আমরা ভালো আছি। তবে আমার বকুল খুব ভয় বলে পায় বলে চকির তলায় ঢুকে থাকে। আমি বুঝে গেলাম ওর ফুপাত বোন আমেনা বেগম বকুল আগরতলা চলে গেছে।

এদিকে ঢাকায়, আমার বড় বোন, বুজান মহসীন হলের পেছনে এলিফেন্ট রোডের বাড়ি থেকে ২৫ মার্চের প্রচণ্ড গোলাগুলি থেকে বেঁচে দু’টো যমজ শিশু নিয়ে হেঁটে ২৬ মার্চ আমাদের সোবহানবাগের ফ্ল্যাটে এসে উঠেছে। তার স্বামী প্রবাসে। এর মধ্যে নিরাপদ আস্তানা পাবার আগে আমাদের বাসায় খণ্ডকালীন থেকে গেছেন খালামনি ও যশোরে বাড়ি লুটপাটের পর বড় মামার পরিবারও। শফিক মামা আমার মা’র কাজিন। তিনি অনূর্ধ্ব ন’য়ের পাঁচ সন্তান ও মামীসহ ঢাকা ছেড়ে পালাতে গিয়ে অর্ধক পথ থেকে ফিরে এসে তার বড় দু’মেয়েকে আল্লা সাক্ষী করে আম্মার হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন। কিন্তু এখানেই শেষ না, আরও সঁপাসঁপির গল্প আছে।

নভেম্বরে যখন আমাদের সবারই জীবিত থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে এবং বার বার আকাশ থেকে অনবরত গোলা বর্ষিত হচ্ছে। সাইরেন বাজলেই কুটিমুটি স্বপ্না ও রত্না নিজেরাই দৌড়ে প্যাসেজে গিয়ে দাঁড়ায়। মুশকিল হল বুজানের একরকম দেখতে যমজ দু’টো। তখন বুজান ঘটা করে কেঁদেকুটে আল্লাহ সাক্ষী রেখে সাব্বিরকে আমার হাতে সঁপে দিয়ে বলেছিল, তুই যেদিকে পালাবি ওকে নিয়ে পালাস। তুই বাঁচলে আমার বাচ্চাটাও বাঁচবে রে শামীম। আর আমি শাকিলকে নিয়ে বেঁচে থাকলে আল্লাহ আমাদের মিলাবে। কি যে অবস্থা তার! এবং আমার।

কিন্তু সেই ভয়াবহ সময়ও শেষ হল। বিজয় ঘরে এল। বাবলী ও আমি এবং আমাদের মতো অনেক তরুণ তরুণীরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলোর থেকে দলে দলে তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে, ঢাকায় এখানে সেখানে নানান স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত হয়েছি। মন খারাপ। কতজন ফেরেনি। বার বার মনে পড়ছে আমাদের বাংলা বিভাগের সতীর্থ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল শাহরিয়ার ও নজরুল ইসলামের কথা। নজরুলের ছিল কোঁকড়া চুল ও টানা কাজল দেয়া তীক্ষ্ম চোখ আর উচ্চকণ্ঠ। আর শাহরিয়ার ছিল ভীষণ নরম স্বভাবের, শ্যামলা রঙ আর ডাগর ডাগর চোখ। মনে পড়ছে আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের কথা। রাজাকাররা হত্যা করেছে তাদের। শহীদ মিনার গোলার আঘাতে চূর্ণ, জগন্নাথ হলের দেয়ালে দেয়ালে তখনো শহীদের রক্তচিহ্ন শুকিয়ে কালো হয়ে আছে, রমনার কালীমন্দির লুণ্ঠিত। তবু এরই মাঝে আমরা স্বপ্ন দেখি নতুন এক অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলার। বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তিনি দিক নির্দেশনা দেবেন। আমাদের ভাঙা ব্রীজগুলো নিজেরাই গড়ে তুলবো। একটি একটি করে এয়ারপোর্টের রানওয়ের ওপরে ছড়ানো সব ইটের টুকরো তুলে দিয়ে বিদেশি প্লেন নামার ব্যবস্থা করবো। দরকার হলে ঘাস খেয়ে বাঁচবো।

বাবলী খুব ভোরে স্নান সেরে নীল ঢাকাই শাড়ি পরে উর্দু রোড থেকে রিক্সা করে রোকেয়া হলের সামনে আসত। আর আমিও আরেক টাঙ্গাইলে গা জড়িয়ে সোবহানবাগ থেকে। তারপর একটি রিক্সা ছেড়ে অন্যটিতে উঠেই খলখলিয়ে উঠতাম। রিক্সার পেছনে ফুল ছড়ানোর মতো চুল ছড়িয়ে গান ধরতাম ‘আমার সোনার বাংলা’। আর্ট কলেজের সামনে যেতে না যেতেই আমাদের গানে গলা মেলাতেন রিক্সাচালক। আমরা প্রথমে যেতাম হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল। যুদ্ধের কারণে রোগী ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু অভাব পড়েছে ডাক্তার ও নার্সের। সব ঢাকা ছেড়ে পালানো বা যুদ্ধে যুক্ত মানুষরা এখনো আসেনি ফিরে। আর তখনি আসে রণাঙ্গনে যুদ্ধকরা মুক্তিযোদ্ধা দেখার এক অদ্ভুত সুযোগ।

আমরা হলিফেমিলি হাসপাতালে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা নার্সিং করে চলে যাই শাহবাগের সামনে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে। সেখানে যুদ্ধ শেষে এসে হাল ধরেছেন কামাল লোহানী। আমরা দু’ই অস্থির তরুণী সেখানে গিয়ে ফুটফরমাশ থেকে শুরু করে, চা খাই, স্ক্রিপ্ট লিখি, কোরাসের শিল্পী শর্ট পড়লে গান গাই, এমনকি তরুণদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করি। দেশ গড়তে হবে না! রেডিওর কাজ না হয় জানি, আগেও করেছি, কিন্তু নার্সিং? আমাদের ছোট্ট একটা ইন্ডাকশন দিলেন সাদা শাড়ির উপর বেল্ট বাঁধা মোটাসোটা গম্ভীর গলাধারী এক মেট্রন। এই যে মেয়েরা এত ছটফট করবেনা তো। তোমরা শুধু ওয়ার্ডের রোগীদের কফ-থুতুর পট ও ডাস্টবিন পরিষ্কার করবে আর বিছানা বানাবে। কেবিনের দিকে যাবে না।

ওতেই আমাদের ছটফটানি আরও বেড়ে গেল। তক্কে-তক্কে থাকি কেবিনগুলোয় কি হচ্ছে! একদিনেই জেনে গেলাম, সেখানে যুদ্ধাহত গেরিলা ও মুক্তিযোদ্ধাদের রাখা হচ্ছে। তক্কে-তক্কে থেকে এবং একদিন সত্যি এসে পড়ি কাছাকাছি এক কেবিনে। এদিক ওদিক তাকিয়ে পায়ের পাতায় ভর করে ফিসফিসিয়ে দরজায় পা দিয়েছি কি দেইনি অমনি ভেতর থেকে কড়া গলায় এক হুংকার, হু’জ দ্যাট? আমার দুই কম্পমান কিট কিট করে পা ঘষে ভেতরে ঢুকেই দেখি, ওমা এ যে আমাদের স্বপ্নে দেখা, গার্ডিয়ানে মুক্তিযোদ্ধাদের মতন একজন! কি রূপবান! ঘাড় অবধি চুল, গালে রুদ্রের (রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ) মতো দাড়ি। কী তীক্ষ্ণ চোখের চাওয়া। কিন্তু এ কি অবস্থা তার! ব্যান্ডেজ বাঁধা এক পা ছাদ থেকে কপিকলে লাগানো যন্ত্রে ঝুলছে। এক হাত গলায় বাধা। মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ। স্প্লিনটারে ক্ষত-বিক্ষত গালেও গোলাপি টেপ। ঘষঘষা গলার স্বর। কিন্তু এর মধ্যে কঁকিয়ে কঁকিয়ে কিন্তু উচ্চস্বরে অনবরত শাপান্ত করে চলেছেন। কাকে? বাংলাদেশের রাজাকার গুষ্ঠিকে। আমারা না নড়তে না চড়তে পারি, না কিছু বলতে পারি। ইতোমধ্যে বাইরে পদশব্দ শুনে দ্রুত দিই দৌড়।

রেডিওতে গিয়ে সবাইকে গর্ব ভরে বলি এ ঘটনা। রাতে ঘুম আসে না। জানালা দিয়ে অন্ধকারে সোবহান বাগের শিউলি গাছের দিকে তাকিয়ে থাকি। গা শিউরে উঠে সত্যি সত্যি ভারতীয় বাহিনির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধকরা মুক্তিযোদ্ধা দেখেছি বলে। পরদিন দু’ বন্ধু আবার সুযোগ খুঁজে সাধারণ রোগীদের বিছানা বালিশ পেতে, গল্পগুজব করে, ওদের ব্রেকফার্স্ট এগিয়ে দিয়েই দিলাম কেবিনের দিকে চম্পট। কি অদম্য আগ্রহ আমাদের! এদিন তিনি অনেক শান্ত। কিন্তু সমান ক্ষুব্ধ। আমরা রেডিওতে ঢুকে স্পাইগিরি করেছি জেনে একটু গালি যুক্ত করে বল্লেন, হোয়ার ইজ দ্যাট নটোরিয়াস, আমি খালি একবার বেরুলে হয়। ওই রাজাকারদের দেখেই ছাড়বো।

আমাদের হিরো এই তৃতীয় দিন ভাল করে আমাদের দিকে তাকালেন। মিষ্টি হাসলেন। গালে টোল পড়লো। আমার হার্টবিট বেড়ে গেল। কারো চোখে পড়ার আগে দ্রুত বেরিয়ে এলাম। কিন্তু আবারো আমার ঘুম হয় না। কিন্তু সকাল সকাল গিয়েই শুনি মোটা মেট্রন তলব পাঠিয়েছেন। কম্পমান আমরা সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ওয়ার্নিং দিলেন। আরেকবার কেবিনের দিকে গেলে আমাদেরে সার্ভিস থেকে উইথড্র করা হবে। কিন্তু তিনি জানলেন কি করে? ওয়ার্ডে এসে শুনি গতকাল বিকেলে হুইল চেয়ারে এক হাতে স্যালাইন লটকে তিনি ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ডে শামীম আর বাবলীকে খুঁজে বেড়িয়ে সবাইকে তটস্থ ও তোলপাড় করে গেছেন। শুনে আমি আর কিছুই করতে পারি না। কোথাও মন লাগে না। হাসপাতালের বাইরে বাগানের লাল পাতাবাহারের ঝোঁপ গলিয়ে ঐ কেবিনের কোনার দিকে চেয়ে রই। একদিন, দু’দিন করে তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বুকের শূন্যে পাখির ঝাঁপানো বন্ধ হয় না।

বাবলী খুব নাজুক। রোদে হাঁটতে পারে না, পাখির মতো একটু একটু খায়। অল্পেই জ্বর হয়। তাই চতুর্থ দিনে আমি একা গেছি। এবং প্রতিজ্ঞা করেছি রূপকুমারকে দেখবই। সেদিন আমি পরেছিলাম চাঁপারঙের সুতি শাড়ি। হাতে খালামনির দেয়া দুগাছা চুড়ি। পায়ে রোকেয়া হলের সামনে থেকে কেনা পাঁচ টাকার দু’স্ট্রাইপের বেনীর মতো ফ্ল্যাট চপ্পল। এতে একদম শব্দ হয় না। বিড়ালীর মতো এগিয়ে যেতে যেতে যেতেই তাঁর কেবিনের ভেতর থেকে বেশ কটি কণ্ঠ ও আসবাব টানার চাকার শব্দ শুনে দ্রুত প্রবেশ করে দেখি, শূন্য ঘর। তিনি নেই। দু’জন নার্স নতুন রোগীর জন্য বিছানা বানাচ্ছেন। বাথরুমে ক্লিনার জল ছেড়েছে। আমার চোখ ভিজে এল। হাসপালের কাজ শেষে রিক্সায় শাহবাগের দিকে রওয়ানা হলাম।

রেডিওতে ফিরে, আমি ম্লান মুখে মোজাক্কের ভাইর (মোহাম্মদ মোজাক্কের) কক্ষ থেকে ফোনে বাবলীকে খবরটা জানাই। বুঝি তারও মন খারাপ হয়ে গেল।

আজও সেকথা মনে হলে ফিস ফিস করে বলি, বয়সটা ছিল যুদ্ধে যাবার। বয়সটা ছিল প্রেমে পড়ার।

লন্ডন ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

 

Share Now শেয়ার করুন