হামীম কামরুল হক | অন্তরে-প্রান্তরে প্রশান্ত মৃধা | জন্মদিন

0
205

প্রশান্ত মৃধার পঞ্চাশ বছরপূর্তি আসলে আমাদের বিগতকালের হিসাব নিতে তাড়িত করে। আমাদের প্রজন্মের প্রস্তুতি কীভাবে কতটা ছিল, আর সামর্থ্য কতটা – এর একটা সমাত্মজীবনী হয়ত আগামীতে লেখা হতে পারে। বাংলাদেশের সাহিত্যের সবুজঘাসের প্রান্তরে, বাঙালির অন্তরে প্রশান্ত মৃধা দৃঢ় পদক্ষেপে হাজার বছর পথ হাঁটবেন – এই প্রত্যাশা করি।

মার সচক্ষে ও সশরীরে দেখা প্রথম গদ্যলেখক প্রশান্ত মৃধা। সবচেয়ে বড় কথা ‘গদ্যলেখা’ ও ‘গদ্যলেখক’ কী – এটা তাঁর সঙ্গে কথা, আলাপ ও আড্ডার ভেতর দিয়ে প্রথম জানতে পারি। এর আগে লেখক বলতে আমার স্কুল ও কলেজের শিক্ষক রফিক কায়সার, সৈয়দ নূরুল ইসলাম, শফিকুল আজমকে পেয়েছিলাম। কমলকুমার মজুমদারকে নিয়ে লেখা ‘কমলপুরাণ’, বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্র নিয়ে লেখা ‘তিন পুরুষের রাজনীতি’র লেখক রফিক কায়সার বাংলাদেশের বিদগ্ধপাঠক মহলে বিশেষভাবে পরিচিত। বন্ধু আবদুল বাতেন ইমানীকে দেখেছিলাম প্রথম গল্প লিখতে এবং সেটি কলেজের স্মরণিকায় প্রকাশিত হতে। তখনও লেখা, বিশেষ করে গদ্যলেখা ও এর গুরুত্ব অনেক দূরত্বে পড়েছিল। প্রশান্ত মৃধার সঙ্গে আলাপের ভেতরে খুলতে থাকে গদ্যের জগৎ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষেও একদম শুরুতে, সহপাঠী আরিফুজ্জাহান অটল ও মিরাদুল ইসলাম আমার মধ্যে সাহিত্যের আগ্রহ, বলা যায় অতি উৎসাগ্র-আগ্রহ, দেখেই তাদের বাগেরহাটের বড় ভাই প্রশান্ত মৃধার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। মনে পড়ে, খয়েরি রঙের টিশার্ট ও চেক লুঙ্গি পরা প্রশান্ত মৃধাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের কমনরুম বা টিভি রুমের সামনে করিডোরে প্রথম দেখি।

পরিচয়ের পালা শেষ হলে জানতে চাইলাম, ‘ওরা বলল, আপনি লেখক, আপনার কটা বই আছে?’
তিনি একমুখ অনাবিল হাসি হেসে বললেন, ‘একটাও না।’
বুঝতে পারলাম না, লেখক কিন্তু তার লেখা কোনো বই নেই।
মজা করে দুষ্টুমি করে সেদিন কথা বলছিলেন একটার পর একটা আর আমাকে বোকা করে দিচ্ছিলেন। বলছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে তো লেখক যাও হতে পারতেন, তাও হবেন কিনা সন্দেহ।
‘মানে?’
‘মানে হলো, বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের কেউই বিএ এমএ পাস করেনি, যাও বা কেউ কেউ পড়তে এসেছিল, ছেড়ে দিয়েছে। বিএ পাস হলো যে, লেখক হওয়া তার কপালে নেই।’
আমি একটু হতভম্ব। সে-সময় কি আরো বহু বহু দিন বোধ করি এখনও মানুষের প্রায় যে-কোনো এমন চমকে দেওয়া কথা আমি শুরুতেই বিশ্বাস করে বসি।

সেদিন তাঁর সজীব সরস ব্যবহারে বড় ভালো লেগে গেল তাঁকে। শুরু হলো নিয়মিত কথাবার্তা। হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, দেবেশ রায়, অমিয়ভূষণ মজুমদার, কমলকুমার মজুমদারসহ দেশ-বিদেশের বহু লেখকের মাহাত্ম্য শুনে শুনে মুগ্ধ হয়ে বর্তে যাই। প্রশান্তদা মানেই আমার কাছে অচেনা দেশের হাওয়ার স্পর্শ। বললেন, সাহিত্যের অন্যতম দিক হলো মোবিলিটি, এক জায়গা থেকে মানুষের আরেক জায়গায় বার বার যাওয়া, থিতু না হতে পারার সংকট। গতিময়তা, স্থানান্তর।

আমি বলতে গেলে তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে না হলেও প্রায় সবগুলিই মান্য করতাম। তিনি যে সব লেখকের খোঁজ দিতে লাগলেন, তাতে সেই লেখকের বই খুঁজে কিনে পড়ে আরো আরো লেখকের সন্ধান পেতে থাকলাম। তখন এমন ইন্টারনেট-উইকিপিডিয়া তো ছিল না যে, চাওয়া মাত্র কোনো লেখকের নাম গুগল করলে তাঁর সম্পর্কে সব তথ্য নিমিষে হাজির হয়ে যেত : তিনি কীধরনের লেখক, তিনি কী লিখেছেন, কোন সময়ে লিখেছেন, এবং কারা কারা তাকে প্রভাবিত করেছেন, তিনি কাদের কাদের ওপর প্রভাব ফেলেছেন – এমন করে জানার সুযোগ ছিল না।

তখন থেকেই পাগলের মতো বই কিনে ভরিয়ে ফেলতে শুরু করেছি আমার বাসাবাড়ি, হলের বুক শেলফে লকারে জায়গা সংকুলান হয় না। এ স্বভাব আমার ছোটবেলা থেকেই যদিও তৈরি হয়েছিল – মায়ের কাছ থেকে প্রায় টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে বিপনীবিতানের, রিয়াজউদ্দিন বাজারে থাকা বইয়ের দোকানগুলিতে হানা দিতাম প্রায়ই। সে-সময় সাহিত্য ছিল আনন্দের জন্যই পড়া – কী এক ব্যাখ্যানীয় অনুভব! বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর আমাকে এবার ঘিরে ধরল বাংলা সিরিয়াস সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের রথী-মহরথীরা, আর প্রশান্তদা তাতে জোগাতে লাগলেন ইন্ধন।

প্রশান্তদা সাহিত্যচর্চায় অনেকের তুলনায় বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন। বিশেষ করে বইপ্রকাশের ধারা পরম্পরা তিনি শুরু থেকে জানতেন। লেটারপ্রেস থেকে কম্পিউটার কম্পোজ মুদ্রণ অভিজ্ঞতা ছিল, ছিল কাগজ কলম কালি – কীধরনের হলে ভালো-মন্দ এসব নিবিড় করে জানতেন।

সবচেয়ে বড় কথা : লিখতে এসে একজন লেখককে কী কী করতে হয়, সেসব নিয়ে বলতেন। অনেক সহবত তাঁর কাছ থেকে শিখেছিলাম, যেমন : নিজের লেখার কথা নিজের মুখে না বলা, নিজের লেখা নিয়ে অন্যদের সামনে নির্লিপ্ত থাকা – এসব সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কি দেবেশ রায়ের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলতেন। 

ক্যাম্পাসে মাঝে মাঝেই তাঁর সঙ্গে ভোরবেলায় হাঁটতে বেরুতাম। আমারই ভোরে ওঠার অভ্যাস ছিল। তিনি আড্ডা বন্ধুবান্ধব হৈচৈ সামাল দিয়ে প্রেমিকাকে সময় দেওয়া – সবেতে মোটামুটি ভারসাম্য রক্ষা করতে পারতেন। কেবল ভোরে ওঠাটা হতো না। রাতে তাঁর ঘুমাতে যেতে মাঝে মাঝেই দেরি হওয়ার জন্য আমাদের সেই প্রাতঃভ্রমণ খুব বেশিদিন চলেনি, কিন্তু যে-কদিন চলেছে, সেসব ছিল চলমান সাহিত্য-আড্ডা। বলতেন, তলস্তয়, দস্তয়েভস্কি, তুর্গেনেভদের লেখা কপি করলেও তো আমাদের এক-একটা মাস্টারপিস লেখা হয়ে যেত। বলতেন, লেখা অর্ধেকটাই হলো লিখতে বসা। বাংলাদেশের লেখকরা যদি নিদেন পক্ষে ২ ঘণ্টা লেখার জন্য নিয়মিত বসতেন, তাহলেই আমাদের দেশের সাহিত্যের চেহারা বদলে যেত।

তিনি নিজে বিচিত্র ধরনের লেখা লিখলেও তাঁর প্রথম দিকের আগ্রহ ছিল ছোটগল্প লেখা। নানান রকমের গদ্যও লিখতেন। সেই সময়ের দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকার যেখানে যখন তাঁর লেখা বেরুত, আমরা হামলে গিয়ে পড়তাম। পরে তাঁর লেখা নিয়ে কথা হতো। এরপর তিনি কম্পিউটারে লিখতে শুরু করলে কোনো লেখার প্রথম খসড়া তাঁর ওই পিসিতে বসে পড়ার জন্য ডেকে নিতেন। এর আগে কিছু লেখা কাগজে-কলমে, মানে হাতে লেখায়ও পড়তে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ধাঁচের তাঁর হাতের লেখা কী যে সুন্দর! এসবই চলছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়।

তাঁর লেখা প্রথম গল্প কোনটা পড়েছিলাম তা ঠিক মনে নেই, তবে ‘বুড়ির গাছ’ গল্পটা আমাদের সচকিত করল। কেউ কেউ বললেন, এ-দিয়ে প্রশান্ত মৃধার প্রকৃত লেখক জীবন শুরু হলো। এছাড়াও মারুফ রায়হানের ‘মাটি’ পত্রিকায় প্রকাশিত গল্প, সম্ভবত ‘কুহক বিভ্রম’-এর প্রশংসা করলেন স্বয়ং আহমদ ছফা। পাক্ষিক শৈলীতে ‘দহনের স্বস্তি, স্বস্তির দহন’, পরে নানান পত্রপত্রিকায় তাঁর একের পর এক লেখা নানান জনের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। তাঁর ইতিনেতি সমালোচনার কথা অন্যদের মুখে এবং তাঁর নিজের মুখেও শুনতাম। কায়েস আহমেদ, আখারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রসঙ্গ টেনে বলতেন ভেবে রাখা গল্পে কতটা দিতে পারলে গল্পটা মোটামুটি দাঁড়িয়ে যায়। কায়েস বলেছিলেন, ৬০% ভাগ যদি লেখা যায় তাহলেও হতে পারে। গল্প কী, ভালো গল্প গদ্যের লক্ষণ কী – এসব প্রশ্ন হানা দিয়ে যেত।

মনে পড়ে, তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের একেবারে শুরুর দিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভালো লেখা কীভাবে চেনা যায়। তাঁর উত্তর ছিল, আচ্ছা ভালো স্বাস্থ্যের লোক কীভাবে চেনা যায়?
মানে পাল্টা প্রশ্ন করলেন তিনি।
আমি বললাম, চেহারাসুরত, গড়নগঠন দেখে।
তিনি বললেন, ভালো লেখাও দেখেই বোঝা যায়। 

কীভাবে গদ্যটা আরো ভালো করে লেখা যায় – এই চিন্তাটা মনে হয় প্রশান্তদাই আমার রক্তের ভেতরে একেবারে ইনজেক্ট করে দিয়েছিলেন : শুধু গল্প উপন্যাস লিখলেই হবে না, এর জন্য একটা চোস্ত গদ্য চাই। এর ভেতরে যোগ হলো আবার লাতিন আমেরিকার সাহিত্য। মামুন হুসাইন প্রশান্তদাকে পাঠালেন হোরেসিও কিরোগার আস্ত একটা বই The Decapitated Chicken and Other Stories। তাঁর কাছ থেকে বইটি নিয়ে গল্পগুলি ইংরেজিতেই পড়ার চেষ্টা করি। খুলে যায় আরেক নতুন জগত। বিশেষ করে মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুবাদে ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না’ ও ‘সরলা ইরিন্দিয়েরা ও তার নিঠুর ঠাকুমা’ আমাদের পাগল করে দিল। আলম খোরশেদের সম্পাদনায় ‘জাদুবাস্তবতার গাথা : লাতিন আমেরিকার গল্প’ বইটি পেয়ে পড়ে মাত হয়ে যাই।

প্রশান্তদার সঙ্গে নিত্য চলত এই সব পড়ালেখার ভাগাভাগি। যখনই তাঁর সঙ্গে দেখা হাসি-ঠাট্টা যতটা তার চেয়ে বেশি লেখা নিয়ে কথা। লেখককে, বিশেষ করে গদ্যলেখককে কী করতে হয়? সার্ত্রের ‘হোয়াট ইজ লিটারেচার?’-এর কথা জানা হলো। বলাবাহুল্য সার্ত্র-কামুর লেখা ও চিন্তাও বিপুলভাবে হানা দিয়েছিল আমাদের ভেতরে। অন্যদিকে কলকাতার বিজ্ঞাপনপর্ব, কবিতীর্থ, বাংলাদেশের নিসর্গ, দ্রষ্টব্য, লিরিক, অনিন্দ্য, সংবেদ আরো কিছু ছোটকাগজ দেখিয়ে দিতে থাকে বাংলা ও বাংলাদেশের সাহিত্যের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি। জানা হয় প্রতিষ্ঠানবিরোধীতার দলবলের সম্পর্কে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ করার অল্প সময় পরেই প্রশান্তদার বই বেরুল ‘কুহক বিভ্রম’। তখন দৈনিক প্রথম আলো বাজার মাতাতে শুরু করেছে। সেখানে বইমেলার পর আয়োজন করা হতো সেরা ১০ বইয়ের। তাতে এ বইটি ঠাঁই পেল। শুরু হলো প্রশান্ত মৃধার আরেক লেখকযাত্রা।

এর পর মোটামুটি বইয়ের পর বইয়ের প্রকাশনা আর থেমে থাকেনি। তাঁর লেখালেখি আগেপাছে মিলিয়ে বর্তমানে বোধ করি ত্রিশ বছর হতে চলল, আর তিনি পা দিলেন পঞ্চাশে।

ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কিশোর গল্পগ্রন্থ, ব্যক্তিগত রচনা এবং বেশ কিছু বই তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। সবমিলিয়ে ২৫টির বেশি তাঁর নিজের বই। অগ্রন্থিত লেখা তো আছে ভূরি ভূরি।

তাঁর রচনার পরিমাণ কম নয়। তাঁর এই রচনার গতিপ্রকৃতি ও তিনি আসলে কী লিখে আমাদের কী দিলেন – সেই মূল্যায়ন এখন নির্ভুলভাবে করা সম্ভব নয়, তবু বলা যায়, তিনি তাঁর সময়কে লেখার ভেতর দিয়ে সমান্তরালে যাপন করেছেন। সমাজরাষ্ট্রে বিচিত্র সংটকে যা যা ঘটে, তার প্রায় সবকিছু উঠে এসেছে তাঁর লেখাগুলিতে। 

একটা বাক্য সর্বোচ্চ যতটা ধারণ করতে পারে তার সবটুকু দিয়ে যেমন তাঁর গদ্য তৈরি হয়, তেমন তৈরি হয় সবচেয়ে কম শব্দ দিয়ে তৈরি বাক্য। ডিটেলিংয়ের কাজ। সূক্ষ্মতার প্রতি পক্ষপাত তাঁর গদ্যের বিশেষ ধরন। কাহিনিতে আনলেন যাপনের নানান সূত্র। বাগেরহাটের গ্রাম, নদী ও মহল্লা, ভূপ্রকৃতি ফিরে ফিরে আসে তাঁর গল্পে। সেখান থেকে লোকায়ত জীবনেও হানা দিলেন। শহুওে নাগরিক জীবন ততটা প্রকট নয় প্রশান্ত মৃধার গল্প উপন্যাসে।

দেশভাগের বেদনা নিয়ে লেখা ‘মৃত্যুর আগে মাটি’র জন্য ২০০০ সালে ‘কাগজ তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার’ পান প্রশান্তদা। এসব তাঁর শুরুর দিকের কথা। পরের দিকে তিনি এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরস্কার, জেমনকন সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত।

বর্তমানের কথায় তাঁর সম্পর্কে বলতেই হয়, গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি নিত্য সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রবন্ধ ও মুক্তগদ্যে তিনি সিদ্ধহস্ত। তবে তিনি অতিপ্রজও নন, আবার বিরলপ্রজও নন। তিনি ‘মধ্যম-প্রজ’ও কি? মানে, তিনি খুব বেশি লেখেন না, আবার কম তো লেখেনই না। ত্রিশ বছরের লেখক জীবনে সাংবাদিকতার সময়টা ছাড়া তিনি থিতু হয়েছেন শিক্ষকতায়। বিশ্বাস করেন, একজন লেখকের নিয়মিত ও প্রচুর লেখা উচিত।

প্রশান্ত মৃধার পঞ্চাশ বছরপূর্তি আসলে আমাদের বিগতকালের হিসাব নিতে তাড়িত করে। আমাদের প্রজন্মের প্রস্তুতি কীভাবে কতটা ছিল, আর সামর্থ্য কতটা – এর একটা সমাত্মজীবনী হয়ত আগামীতে লেখা হতে পারে। বাংলাদেশের সাহিত্যের সবুজঘাসের প্রান্তরে, বাঙালির অন্তরে প্রশান্ত মৃধা দৃঢ় পদক্ষেপে হাজার বছর পথ হাঁটবেন – এই প্রত্যাশা করি।

 

Share Now শেয়ার করুন