হুমায়ুন আজাদ >> একটি অপ্রকাশিত ও দুটি অগ্রন্থিত কবিতা >> সূত্র সুলতানা আজীম >> জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

0
980

হুমায়ুন আজাদ >> একটি অপ্রকাশিত ও দুটি অগ্রন্থিত কবিতা 

[সম্পাদকীয় নোট : আজ কবি, ভাষাতাত্ত্বিক ও বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের ৭৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে তীরন্দাজ-এর শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে তাঁর একটি অপ্রকাশিত কবিতা এবং দুটি অগ্রন্থিত কবিতা প্রকাশিত হলো। প্রথম কবিতাটি আমরা জার্মানিতে থাকা সুলতানা আজীমের কাছ থেকে পেয়েছি এবং অন্য দুটি কবিতা সত্তর দশকের একটি লিটিল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল।]

(শিরোনামহীন কবিতা)

এরপর যেন তুমি খুব কষ্টে থাকো
তোমার চারদিক যেন শূন্য হয়ে যায়
অম্লজান, তোমার নিঃশ্বাস নিতে
যেন খুব কষ্ট হয়। যেন তুমি
থাক অগ্নিকুণ্ডে, তুষারকে যেন মনে হয়
তুষের আগুন, সবুজ সবজি যেন তোমার বিরক্ত লাগে, গোলাপের দিকে
যে তুমি জানো দেখো পঙ্ক,
তোমার গেলাশে যেন জ্বলে দাবানল।
এরপর আমাকে নিঃশ্বাসে নিয়ো, আমি
হবো অম্লজান; সব্জির বদলে
প্রাতঃরাশে আমাকে গ্রহণ করো
জলের বদলে পান কোরো আমাকেই। যখন ঘুমোতে
যাবে আমার শরীরে রেখো মাথা,
স্বপ্নের ভেতরে সারারাত আমাকে জড়িয়ে
ধ’রে ঘুম যেয়ো, জেগে উঠে দেখো
আমাকেই

হুমায়ুন আজাদ
২৩/৭/২০০১

সূত্র : সুলতানা আজীম

পদ্যাবলী

বিরোধী দল

আমার সমস্ত কিছু আজকাল আমারই বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
ফেস্টুন, কালো পতাকা উঁচিয়ে দিকে দিকে স্লোগান দেয় আমারে পুত্রপৌত্র সব।
হেরে যাই ইলেকশানে, সভামঞ্চ ধ্বংস হয়
আত্মজের প্রচণ্ড তাণ্ডবে।
সদর রাস্তায়, গলি উপগলি,
গ্রামে-গঞ্জে, নগর বা মফস্বল শহরে
দগ্ধ করে আমার নিজস্ব হাত আমারই ব্যঙ্গাত্মক কুশপুত্তলিকা

পালিত কুকুর, বেড়াল, শার্ট, স্যুট, চশমার কাঁচ,
স্বরচিত গদ্যপদ্য, একোরিয়ামে পোষা লাল মাছ,
আলো লাগা, ভালো লাগা একখণ্ড প্রিয়তমা নদী,
সবাই মিছিল করে বলে যায়, আমরা সকলেই তোমার বিরোধী।

আমাকে পাগল করে দাও

আমাকে পাগল করে দাও, ড্রয়িংরুম থেকে আমি
স্যান্ডেলবিহীন নামবো রাস্তায়,

এবং গলির মোড়ে দাঁড়ালেই জানি
যা-কিছু বলার আছে বলা হবে একান্ত নির্ভয়ে।